সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বিশ্বকাপের সেই এমবাপ্পে, এবার রিয়ালের জার্সিতে হ্যাটট্রিক

বিশ্বকাপের সেই এমবাপ্পে, এবার রিয়ালের জার্সিতে হ্যাটট্রিক

বিশ্বকাপের ফর্মটাই কিলিয়ান এমবাপ্পে টেনে এনেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও। নতুন মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাবের হয়েই করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও চান, এমবাপ্পে যেন তাঁর ক্ষুধার্ত মনোভাব ধরে রাখেন ক্লাবের জার্সিতেও।এমবাপ্পে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট করে রেকর্ড বই ওলট পালট করে দেন। গতকাল রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৪-১ গোলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাঁর হ্যাটট্রিকে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়াদাদের বিপক্ষে। এমবাপ্পের প্রশংসা করতে গিয়ে মরিনিও তাঁর বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেছেন। সোসিয়াদাদকে হারানোর পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, ‘সে একজন ঐতিহাসিক খেলোয়াড়। বিশ্বকাপে তার রেকর্ড চিরকাল অমলিন থাকবে। রিয়াল মাদ্রিদেও ইতিহাস গড়তে সে ভীষণ ক্ষুধার্ত।’এমবাপ্পে গতকাল রিয়াল মাদ্রিদের তিন ফুটবলারের অবদানে যে তিনটি গোল করেছেন। ৪০ মিনিটে এমবাপ্পে ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস রিসিভ করে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড ৬০ মিনিটে গোল করেন জুড বেলিংহামের অ্যাসিস্টে। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস রিসিভ করে ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে।মরিনিও শিষ্যদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে বারবার এমবাপ্পের কথাই বলেছেন। ৪-১ গোলে জয়ের পর রিয়াল কোচ বলেন, ‘খেলায় সে খুবই সক্রিয় থাকে। আপনি যখন এমন মানের (এলিট) খেলোয়াড়দের কোচিং করান, তখন তাদের কী করতে হবে, সেটা শেখানোর প্রয়োজন হয় না। পুরো দলকে একটি ইউনিট হিসেবে কোচিং করাতে হবে আপনাকে।’২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জেতেন এমবাপ্পে। গোলের পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। ২২ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন ফরাসি ফরোয়ার্ড। গতকাল রাতে রিয়াল সোসিয়াদাদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মরিনিও বলেন, ‘সে শুধু একজন গোলদাতা নয়। পুরো দলকে সুযোগ তৈরি করে দিতে অপেক্ষা করবে এবং তারপর শুধু গোল করবে—বিষয়টা এমনও নয়।’টানা দুইবার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতেন এমবাপ্পে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে করেছিলেন ৮ গোল। যার মধ্যে ছিল ফাইনালে হ্যাটট্রিকও। সেবার ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর জিতেছিল বিশ্বকাপ। আর সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে এমবাপ্পের দল হয়েছে চতুর্থ।রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও এমবাপ্পের সময়টা দারুণ যাচ্ছে। দুই বছরে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ১০৫ ম্যাচে ৮৯ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট রয়েছে ১২ গোলে। তবে ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬—তিনি আসার পর এই দুই মৌসুমে রিয়াল কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ মৌসুমে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ও তিনে থাকা রিয়াল বেতিস ও সেভিয়ারও পয়েন্ট ৬। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সবার ওপরে মরিনিওর রিয়াল।

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে রাখার পরিকল্পনা স্পেনের

সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (RFEF)। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাঁর বর্তমান চুক্তি থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০৩০ সালে মরক্কো ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁকে বহাল রাখতে চায় দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। লা ফুয়েন্তের সঙ্গে স্পেনের বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পরই তাঁর মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে স্প্যানিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আরএফইএফ সভাপতি রাফায়েল লুসান জানিয়েছেন, দে লা ফুয়েন্তের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখতে চায় ফেডারেশন। রেডিও নাসিওনাল দে এস্পানিয়া (আরএনই)-কে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, লুইস এটা প্রাপ্য এবং আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এখনই আমরা এ নিয়ে কাজ করব, আসলে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাঁর চুক্তি বর্তমানে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে। সেটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়াতে চাই আমরা। কারণ, এই প্রকল্পের অংশ তাঁকে হতেই হবে।’ দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বের প্রশংসা করে লুসান আরও বলেন, ‘তাঁর সরলতা ও কাজ করার সক্ষমতাই এই সাফল্য এনে দিয়েছে। অবশ্যই এর সঙ্গে ছিল এই স্প্যানিশ জাতীয় দলের অসাধারণ একদল খেলোয়াড়, যাদের আমরা কখনো ভুলব না।’ ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে আয়োজনের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে আরএফইএফ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নিজেদের দেশে আয়োজন করতে বেশ আশাবাদী লুসান, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’ বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামতে হবে স্পেনকে। লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলটির কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তাঁর অধীনে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সামনের মাসেই লা ফুয়েন্তের দলের সামনে রয়েছে বড় পরীক্ষা। উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই তাই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে লা ফুয়েন্তের দলকে।

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে রাখার পরিকল্পনা স্পেনের
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream