রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

তাঁর শৈশব-কৈশোর ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে । শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ নিজ বাড়ির পাশেই। সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাঁকে ঘিরে যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ, কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন পৌরসভার কর্মীরা। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের। কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা আর গভীর আবেগের ক্ষণ। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।  এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’ জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টায় পর ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করেন।   সিইসির ঘোষণার পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিইসির ঘোষণা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ও বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এর আগে দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তারমধ্যে ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য।

নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে লড়বেন হিরো আলম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত। রোববার (১৬ আগস্ট) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হিরো আলম বলেন, আগে তিনি সাতক্ষীরার একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনার খবর জানার পর তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।   তিনি বলেন, ‘আমি আগে সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন জানতাম না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের আসনটি ফাঁকা হতে পারে। আমার এলাকার মানুষও চান আমি উত্তরাঞ্চলের কোনো আসন থেকেই নির্বাচন করি। সেই চিন্তা থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’  আরও পড়ুনআরও পড়ুনহাসিনা দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন: রিজভী হিরো আলম জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তবে এখনো উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাইসহ নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ফলে হিরো আলমের প্রার্থিতাও সেই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

 মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে লড়বেন হিরো আলম

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পুনর্গঠন ও সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত করার এই সিদ্ধান্তের খবর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত

বিরোধীদের কথাবার্তাও এখন বিগত সরকারের স্টাইলেই হচ্ছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান বিরোধী দলগুলোর আচরণ ও কথার ধরন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাথেই মিলে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তারা ঠিক আগের মতো করেই কথা বলা শুরু করেছে।​রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা ‘লাভ শেয়ার বিডি’-র অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’-এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ জনের হাতে চা-ঘরের সনদপত্র তুলে দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।​বক্তব্য দেওয়ার আগে মন্ত্রী নির্বাচিত ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে চা-ঘরের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করেন। আয়োজকরা জানান, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করতে এবং তাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।​অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশকে একসময় ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই বিপর্যস্ত প্রশাসন ও অর্থনীতিকে একটি নিয়মের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নিরলস প্রচেষ্টা চলছে।​জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশ এক কঠিন জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের শাসনামলে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা উত্তোলনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার বাপেক্সকে সক্রিয় করে পুনরায় গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।​তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করতে হয়, যার পেছনে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ওঠানামা করে, যার প্রভাব আমাদের ওপরও পড়ে। তবে সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেষ্ট রয়েছে।​খুব শীঘ্রই জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, যারা আমদানির সাথে যুক্ত, মূলত তাদের নানা অনিয়মের কারণেই এসব জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই কেবল অহেতুক সমালোচনা না করে দেশের বর্তমান বাস্তব অবস্থা অনুধাবন করতে হবে এবং সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।​জনগণের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান যেকোনো দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা করে দেশবাসীকে স্বস্তি দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।​‘লাভ শেয়ার বিডি’-র পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র সচিব মুসফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

বিরোধীদের কথাবার্তাও এখন বিগত সরকারের স্টাইলেই হচ্ছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন ও শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তবে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক বাস্তবতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে টেকসই গণতন্ত্র গড়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগেছে, অথচ বাংলাদেশে সবাই দ্রুত পরিবর্তন প্রত্যাশা করে। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই চাই একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম থাকুক, যেখানে আলোচনা-সমালোচনা হবে। কিন্তু অনেক সময় টকশো দেখলে মনে হয়, সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ এবং দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে।’মির্জা ফখরুলের মতে, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে আগের মতো সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সাংবাদিক নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের চর্চা করেন। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সত্য প্রকাশে সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও তাগিদ দেন।সংবাদমাধ্যমের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক সাংবাদিককে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য বেতন ও চাকরির নিরাপত্তাও নিশ্চিত নয়। অথচ এসব বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রতিবাদ দেখা যায় না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। নিজের মতের সঙ্গে মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিভিন্ন সময়ে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream