আইচি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের লড়াই
বাংলাদেশের ২৬০ ক্রীড়াবিদ নিয়ে জাপানের আইচির রাজধানী এখন ক্রীড়া উৎসবের মিলনমেলায় মুখরিত। ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবেন তারা। প্রতিবেশী ভারত যেমন পদকের আশা নিয়ে আইচিতে এসেছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা কিছুটা কম। ক্রিকেটকে ঘিরে পদকের সম্ভাবনা, তেমনি করে অন্য ইভেন্টগুলোতে অ্যাথলেটদের শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের। ক্রিকেটের মতো পদক জয়ের সম্ভাবনা আছে আরচারি, শুটিং এবং কাবাডিতে।
সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে হ্যাংঝু বাংলাদেশ দুটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল ক্রিকেট থেকে। ক্রিকেট ছিল না বলে ২০১৮ জাকার্তা গেমসে কোনো পদক মেলেনি। তাই ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের পর ক্রিকেটকে ঘিরে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আগামীকাল শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। এই কঠিন পথটি পাড়ি দিতে পারলে স্বপ্নের ফাইনালে উঠবেন জ্যোতিরা। ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ২৯ সেপ্টেম্বর। স্বর্ণ জয়ের আশায় এবারের গেমসে শক্তিশালী দল গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা আছেন বলে স্বপ্নটা আরও বড়।
এশিয়াডে যে ইভেন্টটি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশকে পদক এনে দিয়েছিল সেই কাবাডি গত আসরে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে এবার আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কাবাডিকে নিয়ে। ফুটবলে হতাশ করেছেন মেয়েরা। উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্ব ডিঙ্গানোটা অসম্ভব বলা চলে ঋতুপর্ণা চাকমাদের। ক্রিকেট আর কাবাডির বাইরে, শুটিং এবং আরচারি থেকে পদকের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
আরচারিতে দলগত ইভেন্টে পদকের আশা করছেন দলটির কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। আব্দুর রহমান আলিফ, রামকৃষ্ণ সাহা, রাকিব মিয়া, হিমু বচ্চর, বন্যা আক্তাররা যদি স্নায়ুর চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেন তাহলে তীর-ধনুকে আসতে পারে পদক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকবার সাফল্য এনে দেওয়া শুটিংকে ঘিরেও প্রত্যাশা ক্রীড়ামোদীদের। রাব্বি হাসান মুন্না, রবিউল ইসলামের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ আব্দুল্লাহ হেল বাকি। কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশকে পদক এনে দেওয়া বাকির ওপর নজর থাকবে সবার। এর বাইরে আনজিলা আমজাদ-সৈয়দ আতকিয়া হাসানরাও শুটিং রেঞ্জে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষায়।
জিমন্যাস্টিকসে রাজিব চাকমাকে ঘিরে আশা বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের। এশিয়াডে যে ১৪টি পদক জিতেছিল বাংলাদেশ, তার মধ্যে ১৩টি এসেছে দলগত থেকে। একটি ব্যক্তিগত পদক জিতেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন ১৯৮৬ সিউল গেমসে। ৪০ বছর পর এশিয়াডে ব্যক্তিগত পদক এনে দেওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের।