বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত। এমনটাই বলেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও ব্যর্থ হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওভাল অফিসে বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, আমি জানি না’। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঘোষণা করবে। ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি পরিচিতি বা সুনাম রয়েছে। গত বছর দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে’। তবে গতবার প্রাপক নিজেই এটিকে পরোক্ষভাবে আমাকে দেওয়ায় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম, যিনি বলেছিলেন যে ইতিহাসে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এর বেশি যোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে দেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি যাচাই করার কোনও উপায় নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটির পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও এর মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানও ঘটাতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক।

গণিতের জটিলতা শেষে ‘ইউরি’ লিখবেন দেং ইউ

যদি একদিন গণিতের সব জটিল সমস্যার সমাধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) করে ফেলে, তাহলে গণিতবিদ হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনাও ভেবে রেখেছেন ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডেলজয়ী এই গণিতবিদ জানিয়েছেন, এআই তাকে বেকার করে দিলে তিনি বাড়ি ফিরে ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন। দেং ইউ রসিকতা করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করেই দেয়, তাহলে আমি বাড়ি গিয়ে আমার “ইউরি” উপন্যাস লিখব।’ জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা ‘ইউরি’। এতে নারীদের মধ্যকার অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। দেং ইউ এই ধারার বড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত। পরে চীনের আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পোস্টটি শেয়ার করা হয়। সেখানে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেং ইউ লেখেন, গণিতবিদদের মহলে এআই একধরনের ‘অস্থিরতা ও অধৈর্যতার পরিবেশ’ তৈরি করেছে। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই ধাক্কা সামলে উঠলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, গণিতও স্বাভাবিক নিয়মে ধীরগতিতে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং এর পাশাপাশি নতুন একটি ইকোসিস্টেমও গড়ে উঠছে। বুধবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেং ইউ বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছেন না। পুরো বিষয়টিই ছিল রসিকতা। তিনি বলেন, ‘আমি এখন কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছি না। ওই কথাটি একেবারেই রসিকতা করে বলেছিলাম।’ এআই যে গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে, এমন সম্ভাবনাও দেখছেন না এই গণিতবিদ। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় না এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে; অন্তত আমার পোস্টে আমি যেগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো তো নয়ই।’ তবে এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এরই মধ্যে অমীমাংসিত গণিত সমস্যার সমাধানে এআইয়ের ব্যবহারের বড় উদাহরণ সামনে এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি মডেল ব্যবহার করে নেভিয়ার স্টোকস মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমের সমাধান করা হয়েছে। আধুনিক গণিতের সবচেয়ে জটিল অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর একটি এটি। ২০০০ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় চ্যালেঞ্জকে ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। ২০০৩ সালে রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান এর মধ্যে পয়েনকেয়ার কনজেকচার নামের একটি সমস্যার সমাধান করেন। তবে তিনি এই আর্থিক পুরস্কার এবং পরবর্তীতে পাওয়া ফিল্ডস মেডেলও প্রত্যাখ্যান করেন। এখন দ্বিতীয় একটি মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেমও সমাধান হয়ে থাকতে পারে। তবে এবার সমাধানটি কোনো একক মানুষের হাতে নয়, এআইয়ের সহায়তায় হয়েছে বলে দাবি করছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, সমাধানটি তৈরি করা হয়েছে তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না পাওয়া পরবর্তী প্রজন্মের একটি মডেল ব্যবহার করে। মডেলটি টানা ৮৮ ঘণ্টা কাজ করেছে এবং এতে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন আউটপুট টোকেন ব্যবহার হয়েছে। এর আনুমানিক ব্যয় কয়েক মিলিয়ন ডলার। তবে একই সমস্যা নিয়ে কাজ করা এক গণিতবিদ দাবি করেছেন, তার গবেষণার অগ্রগতি জানার পরই ওপেনএআই এ বিষয়ে নিজেদের প্রচেষ্টা শুরু করে। ৮ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক আমেরিকানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআই তাদের প্রমাণের ঘোষণা দেওয়ার আগের রাতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ও অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে অয়লার সমীকরণ প্রমাণ করেছেন। নেভিয়ার স্টোকস সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অয়লার সমীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেন গণিতবিদরা। বাকমাস্টারের দাবি, অয়লার সমীকরণ সমাধানে তিনি ও তার সহযোগী এআইয়ের বেশ কয়েকটি মডেল ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ওপেনএআইয়ের একটি মডেলও ছিল। সোমবার এক বিবৃতিতে বাকমাস্টার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওপেনএআই তাদের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে পারে। এরপর পুরো সমস্যাটি সমাধানে তারা ওই গণিতবিদদের ব্যবহৃত পদ্ধতিই অনুসরণ করে। তবে ওপেনএআই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা অয়লার সমীকরণগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে অন্য গণিতবিদদের ধারণা থেকে কোনো ধরনের রসদ পাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি অস্বীকার করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআইয়ের ভাষ্য, তাদের পণ্য ব্যবহারের সময় গণিতবিদদের নাম পরিচয়হীন ডেটা সম্ভবত তাদের মডেলগুলোর মান উন্নত করতে সহায়তা করেছে। এদিকে আমেরিকান ম্যাথমেটিকাল সোসাইটি মঙ্গলবার জানিয়েছে, আলপোগে ও বাকমাস্টার নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেও চূড়ান্ত প্রমাণটি ওপেনএআইয়ের গণিতবিদরাই সম্পন্ন করেছেন। ফলে গণিতের মতো সৃজনশীল ও উচ্চস্তরের গবেষণার ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা কতদূর যাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফিল্ডস মেডালজয়ী দেং ইউর ‘ইউরি উপন্যাস’ লেখার রসিকতা আলোচনায় এনেছে গণিতবিদদের ভবিষ্যৎ নিয়েও মজার এক প্রশ্ন।

গণিতের জটিলতা শেষে ‘ইউরি’ লিখবেন দেং ইউ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream