রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
নেইমারের জার্সি নেওয়াই কাল হলো ৮ বছরের শিশুর

নেইমারের জার্সি নেওয়াই কাল হলো ৮ বছরের শিশুর

নেইমারকে নিয়ে আলোচিত ঘটনা যেন কখনো শেষ হওয়ার নয়। কখনো তিনি কোনো ঘটনার মাধ্যমে ‘লাইমলাইটে’ আসেন, কখনোবা তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এবার হেনস্তার শিকার হয়েছে এক খুদে ভক্ত ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে জার্সি নেওয়ার পর।  করিন্থিয়ান্স-সান্তোস সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় পরশু ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’তে মুখোমুখি হয়েছে। করিন্থিয়ান্সের এক খুদে ভক্তকে নেইমার একটি জার্সি উপহার দিয়েছেন। ৮ বছরের শিশু স্বাভাবিকভাবেই খুশি। কিন্তু সেটা আর দীর্ঘস্থায়ী হলো কই। করিন্থিয়ান্সের ভক্ত-সমর্থকেরা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে সেই শিশু মাঠ ছেড়েছে পুলিশের পাহারায়। এমনকি স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, খুদে ভক্ত টানেল দিয়ে খেলোয়াড়দের লকার রুমে যাচ্ছিল, তখন ভক্ত-সমর্থকদের গালিগালাজ শুনেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ছেলেটির বয়স ৮ বছর। তাকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে করিন্থিয়ান্স। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি লিখেছে, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে কিছু সীমা থাকে। কখনো সেই সীমা ছাড়ানো উচিত নয়। শিশুর প্রতি এমন আক্রমণাত্মক আচরণ সীমা ছাড়ানোর মতোই ঘটনা। ক্লাবের প্রতি আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফুটবল নিয়ে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা কখনোই সম্মান, শিষ্টাচার ও নিরাপত্তাকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন বিষয়টি একটি শিশুকে নিয়ে হয়, তখন সেটা নিয়ে আলোচনা হবেই।’ করিন্থিয়ান্সের সুরে সুর মিলিয়েছেন নেইমারও। ৮ বছরের শিশুকে হেনস্তার ঘটনা দেখে তাঁর খুব খারাপ লেগেছে। করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে পরশু ১-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ড বলেন, ‘একটা শিশু ভিন্ন দলের কোনো খেলোয়াড়কে পছন্দ করতেই পারে। তার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়। সে কোনো ভুল করেনি।’ করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে পরশু সান্তোসের একমাত্র গোলটি ৩৩ মিনিটে করেন সান্তোস মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান সিলভা। ২৪ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকায় সান্তোস অবস্থান করছে ১৪ নম্বরে। জিতেছে ৭ ম্যাচ। নেইমারের দল ড্র করেছে ৮ ম্যাচ ও ৯ ম্যাচ হেরেছে। করিন্থিয়ান্স ২৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। ২৫ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে পালমেইরাস। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই নেইমারের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে সেলেসাওদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৯ গোলে। নরওয়ের কাছে শেষ ষোলোতে ২-১ গোলে হারের ম্যাচটাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও কেবল হারের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছিলেন তিনি।

নেইমারের দিকে হাত বাড়ালেন না পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী

থিয়াগো মেন্দেস ও নেইমারের দ্বন্দ্ব বেশ পুরোনো। আবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সেই দ্বন্দ্ব। সাও জানুয়ারিওতে রোববার (১৬ আগস্ট) ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মেন্দেস নেইমারকে এড়িয়ে যান। নেইমার হাত বাড়ালেও ভাস্কোর এই মিডফিল্ডার করমর্দন না করেই চলে যান। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গ্যালারিতেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। ভাস্কো সমর্থকদের একাংশ নেইমারের কান্নার মুখাবয়বের মাস্ক পরে তাকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রূপ করেন। মেন্দেসের এই আচরণে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও। তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর সঙ্গে জালাতান ইব্রাহিমোভিচকে ঘিরে প্রচলিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মেন্দেসকে কটাক্ষ করেন। আমানসিওর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, বড় মাপের তারকারা সাধারণত সহজ-সরল ও স্বাভাবিক থাকেন, অথচ তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যেই অহংকার বেশি দেখা যায়।নেইমার ও মেন্দেসের দ্বন্দ্বের শুরু হয় ২০২০ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজি ও লিঁওর ম্যাচে। সেই ম্যাচে মেন্দেসের একটি ভয়ংকর ট্যাকেলে গুরুতরভাবে চোট পান নেইমার। ট্যাকেলটির পর মেন্দেস লাল কার্ড দেখেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে নেইমারের কাছে ক্ষমাও চান। তবে ঘটনাটি নেইমার ও তার পরিবারের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে।তৎকালীন সময়ে নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়রও মেন্দেসের ট্যাকেল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, বারবার শারীরিক ও হিংসাত্মক ফাউলের শিকার হওয়ার পরও কেন ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা হবে।দুজনই চলতি বছরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফেরার পর পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার সামনে আসে। সাম্প্রতিক এক ম্যাচের প্রথমার্ধে মেন্দেসের ফাউলে ক্ষুব্ধ হয়ে নেইমার তার মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মেন্দেসের স্পর্শে নেইমার মাটিতে পড়ে যান। ঘটনার পর দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। তবে উত্তেজনা সেখানেই শেষ হয়নি। বিরতির সময় ড্রেসিংরুমের টানেলেও দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে।ম্যাচের পর নেইমার মেন্দেসকে নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেন। স্পোর্টভিকে তিনি বলেন, মেন্দেস সবসময় ঝামেলা শুরু করতে চান এবং নিজেকে খুব শক্তিশালী দেখানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নেইমার তাকে সরাসরি ‘ইডিয়ট’ বলেও মন্তব্য করেন।

নেইমারের দিকে হাত বাড়ালেন না পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী

নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার

কোপা দো ব্রাজিলে রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের জয়ের রাতে এক অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।  খেলোয়াড়দের হাতাহাতির ভিডিও খতিয়ে দেখছে দেশটির ক্রীড়া আদালত। প্রসিকিউটররা নেইমারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার কথা ভাবছেন। কয়েকজন খেলোয়াড় ও রেমো ক্লাবও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়া বিচারবিধির ২৫৮ নম্বর ধারায় নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হলে ১ থেকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন তিনি। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় থেকেই নেইমারকে দুয়ো দিতে থাকেন স্বাগতিক দর্শকরা। তারা গ্যালারিতে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে অ্যাসিস্ট করা নেইমার মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের উদ্দেশে ফ্লায়িং কিস ছোড়েন। তবে মূল ঝামেলা বাঁধে ড্রেসিংরুমের টানেলে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে নেইমার চিৎকার করে ‘বাদ পড়ে গেলে, বাদ পড়ে গেলে’ বলে উসকানিমূলক উল্লাস করেন। পরে সান্তোসের স্টাফরা তাকে দ্রুত ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। দর্শকদের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় রেমো ক্লাবও শাস্তির মুখে পড়তে পারে। আর্থিক জরিমানা ছাড়াও দর্শকশূন্য মাঠে খেলা বা হোম অ্যাডভান্টেজ হারানোর মতো শাস্তি হতে পারে তাদের।

নিষিদ্ধ হতে পারেন নেইমার

নেইমারকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণার দাবি, তোলপাড় ব্রাজিলে

ম্যাচ জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার। রেমোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণার দাবি উঠেছে। বেলেম সিটি কাউন্সিলের সদস্য মারিনর ব্রিতো অভিযোগ করেন, নেইমারের আচরণ শুধু প্রতিপক্ষ দলের নয়, পুরো পারা অঙ্গরাজ্য ও আমাজন অঞ্চলের মানুষের প্রতি অসম্মানজনক। তবে এ বিষয়ে তার উত্থাপিত প্রস্তাব ভোটে তোলা হয়নি।বিতর্কের সূত্রপাত বেলেমের মাঙ্গেইরাও স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে রেমোর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। সাংবাদিক ব্রেনো রাইওলের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে গ্যালারি থেকে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করা হয়। এরপর মাঠ ছাড়ার সময় উদ্‌যাপন করতে করতে নেইমারও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। বারবার ‘এলিমিনেটেড’ (বিদায়) এবং ‘এটাই সান্তোস’ বলতে বলতে রেমোর কর্মকর্তাদের দিকে ইশারা করেন তিনি।এ সময় রেমোর কিছু সমর্থক প্রতিনিধি দুই দলের মাঝখানে থাকা নিরাপত্তাবেষ্টনী ফেলে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সান্তোসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা নেইমারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রেমো দারুণ একটি অভিযান উপহার দিয়েছে। কিন্তু সান্তোসের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল না। ওই বদমাশ নেইমার, যাকে অসংখ্য শিশু আদর্শ মানে, এখানে এসে ভাঁড়ামি করেছে, আবার উসকানিও দিয়েছে। এমন মানুষকে আদর্শ বানানো আমাদেরই ভুল।’রেমোর সভাপতির এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সান্তোস। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, নেইমারকে উদ্দেশ্য করে রেমো সভাপতির অপমানজনক মন্তব্য এবং রেফারিংয়ে পক্ষপাতের ইঙ্গিত তারা তীব্রভাবে নিন্দা করছে।সান্তোসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলাধুলা নিয়ে সমালোচনা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্মান এবং নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে। আমরা সব সময় আমাদের খেলোয়াড়, ক্লাবের ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করব। একই সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তিও সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পর থেকেই নেইমারকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। রেমোর বিপক্ষে এই ম্যাচের পর তাঁর আচরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

নেইমারকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণার দাবি, তোলপাড় ব্রাজিলে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream