বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

এক কাপ গরম আপেল চা যদি আপনার রাতের ঘুম শান্ত করে এবং দিনের শুরু বা শেষের মুহূর্তটি আরামদায়ক করে তোলে, তবে বিষয়টি দারুণ হয় না! অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ সাধারণ চা বা কফি পান করতে চান। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাঁরা একটু ভিন্ন স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে দিনের ক্লান্তি মেটাতে চান, তাঁদের জন্য হালকা গরম আপেল চা বা সিডার টি হতে পারে চমৎকার একটি বিকল্প। আপেলে থাকা কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম এবং এটি আঁশসমৃদ্ধ। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের তুলনায় আপেলের মেলাটোনিন খুব নগণ্য। ভিটামিন সি দেহের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম থাকলে পরোক্ষভাবে তা ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আপেল খাওয়ার চেয়ে হালকা গরম আপেল চা বা সেদ্ধ আপেলের পানি পাকস্থলীর জন্য সহজে হজমযোগ্য। রাতে গরম তরল পান করার ফলে শরীর ও মন শান্ত হয়, যা ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে। আপেলের সঙ্গে দারুচিনি, আদা বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে চা তৈরি করলে এর স্বাদ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দারুচিনি: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। আদা: পেটের অস্বস্তি, বমি ভাব কমায় এবং হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করে। হলুদ: শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। রসুন ও কায়েন মরিচ: রক্তনালি নমনীয় রেখে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে ও ব্যথা কমাতে কার্যকর। আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা তৈরি করতে চাইলে প্রয়োজন ২টি আপেল, পরিমাণমতো পানি, ৪ চা-চামচ লিকার, ২টি দারুচিনি ও সামান্য মধু। প্রথমে একটি পাত্রে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করা আপেল নিন। এরপর এতে পানি, দারুচিনি এবং চা একসঙ্গে মিশিয়ে মৃদু আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোটান। পানি কমে এলে ছেঁকে কাপে ঢালুন। ইচ্ছে হলে সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে হালকা গরম-গরম পরিবেশন করুন। এর জন্য প্রয়োজন টুকরা করে কাটা ৪টি আপেল, ১ ইঞ্চি আদা কুচি করা, ৪টি এলাচি, ২টি দারুচিনি, ৪ চা-চামচ গ্রিন টি ও ৪৫০ মিলি পানি। প্রথমে একটি পাত্রে আপেল, আদা, এলাচি, দারুচিনি ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে সেদ্ধ করুন। চুলা থেকে নামিয়ে ৫ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে গ্রিন টি দিয়ে ৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভালো করে ছেঁকে নিন। এটি সকাল বা বিকেলের সতেজতায় পান করতে পারেন। সূত্র: হেলথ লাইন

অতিরিক্ত চুল পড়া কি কোন বড় রোগ?

ঘরের মেঝেতে চুল পড়ে থাকতে দেখলে অনেকেই  শ্যাম্পু বদলানোর কথা ভাবেন। হ্যাঁ, এটা ভাবাটা স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কখনো চুল পড়া শুধু চুলের গোড়া কিংবা শ্যাম্পুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে না। কখনো কখনো চুল পড়ার কারণ হতে পারে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ। শরীরে পুষ্টির অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক দুর্বলতা থাকলে চুল পড়ে যেতে পারে। তাই চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার পরও অতিরিক্ত চুল ঝরলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। থাইরয়েডের সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, রক্তস্বল্পতা, অটোইমিউন রোগ, খুশকি এবং ভিটামিন ডি ও বি-১২ এর অভাবে চুল পড়তে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া, চুলকানি, মাথার সিঁথি চওড়া হওয়া বা গোল ছোপ হয়ে চুল উঠে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন, ব্রণ বা ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক থাইরয়েড, ব্লাড সুগার ও রক্ত পরীক্ষা করে মূল রোগটি শনাক্ত করবেন। মূল রোগ নিয়ন্ত্রণে এনে চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখলে এবং খাদ্যে পর্যাপ্ত, ভিটামিন, প্রোটিন ও আয়রন রাখতে পারলে ঝরে যাওয়া চুল আবার স্বাভাবিকভাবে গজাতে পারে বলে জানান ডা. কাকলী হালদার। বেশ কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে চুল পড়া উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সেগুলোর মধ্যে আছে— ‘কম সক্রিয় এবং অতি সক্রিয়—উভয় ধরনের থাইরয়েডই চুল বৃদ্ধির চক্র ব্যাহত করতে পারে। থাইরয়েড বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে যখন এর ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন চুলের গোড়া স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য সঠিক সংকেত পায় না। পাশাপাশি গোড়া দুর্বল হয়ে অতিরিক্ত চুল ঝরার কারণ হয়।’ ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুর্বল রক্ত​​সঞ্চালন এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা মাথার ত্বকে রক্ত ​​প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই অবস্থাগুলোর কোনোটিই শুরুতে খুব জোরালোভাবে প্রকাশ পায় না। চুল পড়া, ক্লান্তি বা ত্বকের সূক্ষ্ম পরিবর্তন প্রায়শই এর প্রাথমিক লক্ষণ হয়ে থাকে বলে জানান ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম। নারীদের শরীরে কিছু পরিমাণ অ্যান্ড্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয়। কিন্তু পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে বেড়ে যাওয়ার কারণে মাথার ত্বকে চুল পাতলা হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো শরীরের অন্য অংশে লোম বেড়ে যেতে পারে। ‘অ্যালোপেসিয়া বলতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়ে যাওয়া বা চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া বোঝায়। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে এবং এর কারণও একেক ক্ষেত্রে একেক রকম। তাই অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক চুল পড়লে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ নিয়মিত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও অনেকের শরীরে চুলের গোড়া বা ফলিকল যে পুষ্টির ওপর নির্ভরশীল, তার ঘাটতি থাকে। এর কারণ হতে পারে খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি, শরীরের পুষ্টি শোষণ করার ক্ষমতা না থাকা বা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের জোগান দিতে না পারা। ‘ভিটামিন ডি, জিংক, বায়োটিন এবং প্রোটিন হলো চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সাধারণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ ইতি খন্দকার, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট, আর রাহা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস লিমিটেড। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, এই ঘাটতিগুলো খুব কম প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায়। রক্ত ​​পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধরা পড়ার আগে পর্যন্ত, চুল পড়া, ভঙ্গুর নখ বা কম শক্তি হতে পারে একমাত্র লক্ষণ। চুল পড়াকে শুধু বংশগত বা মানসিক চাপের ফল বলে ধরে নেওয়ার আগে বিষয়টি মনে রাখা উচিত। তাই সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দেন ইতি খন্দকার। বৃদ্ধির চক্র দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শুধু মেজাজকেই প্রভাবিত করে না, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া চুলের গোড়াকে একটি বিশ্রাম পর্বে ঠেলে দিতে পারে। একে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে কোনো চাপপূর্ণ ঘটনা বা দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের দুই থেকে তিন মাস পরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চুল ঝরে পড়ে। এই বিলম্বই বেশির ভাগ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। চুল পড়া শুরু হতে হতে, মানসিক চাপের সময়টা হয়তো শেষ হয়ে যায়, তাই এর মধ্যকার যোগসূত্রটি স্পষ্ট হয় না। এ ক্ষেত্রে চুল পড়াটা একটি বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া। ‘কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ বেড়ে গেলে তা চুলের ফলিকলে আঘাত করে। এ ছাড়া চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। এর কারণে প্রচুর চুল পড়তে পারে।’ চুল পড়ার মূল কারণ যদি থাইরয়েডের সমস্যা হয়, তাহলে কোনো বাহ্যিক চিকিৎসা তা উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ করতে পারবে না। যদি এটি আয়রনের অভাবে হয়, তাহলে আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চুল পুনরুদ্ধার হবে না। একইভাবে চুল পড়ার কারণ যদি হরমোনজনিত, অপুষ্টিজনিত বা মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাহলে প্রথমে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। এতে চুল ঝরা কমবে।

অতিরিক্ত চুল পড়া কি কোন বড় রোগ?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream