শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। আজ রোববার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’ তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান’ করেছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’ জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে। রাশেদ খাঁন আরও বলেন, সবকিছু দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। তার দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিক খেলায় নামতে চায় দলটি। তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’ জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে তারা জোট পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেন। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’ সবশেষে জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’ তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি লেখেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’ 

জোট ছাড়ার কোনো আলোচনা নেই এনসিপির: জামায়াত আমির

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)  জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এনসিপি জোট ছাড়ছে এমন কোনো বিষয় তাদের বা এনসিপির কারও রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে নেই। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় আসনের প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অচিরেই একটি দক্ষ ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপি এবং জামায়াতসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের আমির জোট থেকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রস্থান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা এনসিপিরও এজেন্ডা না, আমাদেরও এজেন্ডা না। মানে যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া–পড়শির ঘুম নাই—এ রকম আরকি বিষয়টা।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের কাঠামো নয়; বরং একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা ছিল এবং বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তারা যুগপৎভাবে রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা করছেন। জোট থেকে দলগুলোর বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিসর ক্রমান্বয়ে ১৮, ২০ এবং একপর্যায়ে ২৭ দলে উন্নীত হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রে যে কারও নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে এবং কারও ওপর জোর খাটানোর সুযোগ নেই। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে এই ঐক্যের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির জানান, এ নিয়ে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে। কেবল শরিক দলের যোগ্য ব্যক্তিরাই নন, বরং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের মেধা বা ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ যুক্ত করে কার্যকর একটি ছায়া মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ ও মাঠপর্যায়ে বিরোধী দলের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারদলীয় দায়িত্বশীল নেতারা জনসমক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন যে—ভোট জামায়াতকে দিলে উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের কাছে চাওয়া যাবে না। অথচ সাংবিধানিকভাবে উন্নয়ন কোনো অনুকম্পা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ ছাড়া সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ এনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট গণরায় দিলেও জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সরকার সংকট সমাধানের পথ এড়িয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিরোধীদের রাজপথে নামতে হয়েছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সামগ্রিক বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের এই ঐক্য অটুট থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকটসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার দুর্দশা তুলে ধরে তিনি জানান, জনস্বার্থে রাজপথে সক্রিয় লড়াই অব্যাহত থাকবে। বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পরিদর্শনকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জোট ছাড়ার কোনো আলোচনা নেই এনসিপির: জামায়াত আমির
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream