বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না।  এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা।  অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে।  দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।  এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।  

লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। আজ রোববার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’ তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান’ করেছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’ জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে। রাশেদ খাঁন আরও বলেন, সবকিছু দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। তার দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিক খেলায় নামতে চায় দলটি। তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’ জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে তারা জোট পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেন। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’ সবশেষে জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’ তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি লেখেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’ 

লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

শিক্ষার্থী সিফাতের মুক্তি দাবি ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে

বিরোধী দলনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষার্থী সিফাত আবদুল্লাহর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। মতিঝিলে আজ শনিবার ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ শুরুর আগে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান। ‘তাকে মুক্তি দিন। শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, তবে মনে রাখবেন যে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ড. মিলনের মতো অনেকেই ক্ষমতার আসনে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিলেন। কেউ বলতে পারে না কখন পচা শামুকের ওপর পা দিয়ে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে’ বলেন জামায়াত আমির  বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীরা হেনস্তা করেছে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন তার মন্তব্য ‘বাংলাদেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে’। ‘সিফাত যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে সমর্থন না করলেও, যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সিফাতের মতোই গর্জন করবে’, যোগ করেন শফিকুর রহমান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান এতে সপ্তম দাবি হিসেবে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যানের’ ঘোষণা যুক্ত করেন। সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেমেছি। রাজপথ, মহাসড়ক কিংবা জাতীয় সংসদ— সবখানেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’ সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অলি আহমদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনগণের দাবি মেনে না নিলে সরকারকে পদত্যাগ করা স্বৈরাচারদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’ অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার এজেন্ডা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিং থামেনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়, তবে আমরা বারণ করব। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে কঠোর অবস্থান নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’ মতিঝিলের সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জোটের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর এবং আগামী মাসে খুলনা ও সিলেটে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থী সিফাতের মুক্তি দাবি ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে

জুলাইয়ের দাবি পূরণে রাজপথে জামায়াত: শফিকুর রহমান

‘নারায়ণগঞ্জবাসী, আপনাদের কি ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছেন, মনে পড়ে? আপনাদের সঙ্গে লড়াই করা শহীদ সঙ্গীদের দাবি পূরণ হয়েছে? হয়নি। আর সেই দাবি পূরণ করার জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব’  বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কারণ হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ’২৪-এর চার্টার বাস্তবায়ন, আপনাদের জুলাই ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।’ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। প্রতারণা করছে এবং কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেখবেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন এবং আমরা সফল হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ আজ শুরু হলেও এটি শেষ নয়। আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এনপিপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জুলাইয়ের দাবি পূরণে রাজপথে জামায়াত: শফিকুর রহমান

এনসিপিকে নির্বাচনী খরচ দিয়ে ৭১-এর দায় মোছার চেষ্টা: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে বাদ পড়ার মতোই প্রকৃত সরকার থেকেও বাদ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এনসিপিকে জামায়াত নির্বাচনী খরচ দিয়ে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা করেছে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার (২৬ আগস্ট) দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট! জামায়াত কখনো ক্ষমতায় গেলে প্রকৃত সরকার থেকেও এভাবেই এনসিপি আউট থাকবে।’ সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এনসিপিকে এতগুলো আসন ও প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচ দেওয়ার পেছনে জামায়াতের ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় মোছার চেষ্টা ছিল বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না, এনসিপিকে দিয়ে ৭১-এর গণহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।’ তার দাবি, জামায়াত যত দিন থাকবে, তত দিন ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায় নিয়েই দলটিকে থাকতে হবে। একইভাবে আওয়ামী লীগকেও ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় নিয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছায়া সরকার গঠনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ও বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাদের হতাশা কিছুটা কমবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ছায়া সরকার গঠনের পর জামায়াত নেতাদের মধ্যে ক্ষমতায় থাকার মানসিকতা দেখা যেতে পারে। ক্ষমতায় যেতে না পারার আক্ষেপ থেকে তাদের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও কমে আসতে পারে। পাশাপাশি তারা দায়িত্বশীল হয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে বিকল্প নীতির প্রস্তাব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুর রহমান আজাদের মতো গুম নিয়ে ‘মিথ্যাচার ও অপপ্রচার’ চালানো হলে মানুষ ছায়া সরকারকে ‘গুজব সরকার’ এবং এর মন্ত্রীদের ‘গুজব মন্ত্রী’ বলা শুরু করবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। ছায়া মন্ত্রিসভায় ৫ আগস্টের পর ‘বিপ্লবী’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া নারী নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধি রাখার সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মারদিয়া মমতাজের নাম উল্লেখ করে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো নারীকে মন্ত্রিত্বে বসাবে কি না। তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করে জামায়াত কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের আগেই নারী প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং সরকারে দায়িত্ব পাওয়ার পরও সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপিকে নির্বাচনী খরচ দিয়ে ৭১-এর দায় মোছার চেষ্টা: রাশেদ খাঁন

জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বিএনপি : জামায়াতের আমির

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা হ্যাঁ প্রচারণা চালিয়ে এখন না বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবে। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য কেউ করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।’ আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাঘাটার বোনারপাড়ায় গত ২১ জুন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘বর্তমানে সব জায়গায় চুরিচামারি, লুটপাট শুরু হয়ে গেছে। চাঁদাবাজদের-দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই। দেশের জন্য একবার না শতবার রাজপথে নামব।’ গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম, সাবেক আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামীসহ অনেকেই। এর আগে জামায়াত আমির শহীদ শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তাঁদের কবর জিয়ারত করেন।

 জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বিএনপি : জামায়াতের আমির
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream