শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
চলনবিলে আদিবাসী নারীদের শামুক সংগ্রহে ৭ দিনের কারাদণ্ড: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

চলনবিলে আদিবাসী নারীদের শামুক সংগ্রহে ৭ দিনের কারাদণ্ড: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

রিজওয়ান, নওগাঁ:নওগাঁ জেলার ঐতিহাসিক চলনবিল থেকে শামুক সংগ্রহের অভিযোগে আদিবাসী নারীদের ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন আদিবাসী মহলসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনা। পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।চলনবিল থেকে যুগ যুগ ধরে আদিবাসী সম্প্রদায় জীবিকা ও খাদ্য হিসেবে শামুক সংগ্রহ করে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে কখনও এ বিষয়ে কোনো বাধা বা নিষেধ ছিল না। এমনকি চলনবিল এলাকায় শামুক সংগ্রহ নিষিদ্ধ করে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাইনবোর্ড, ব্যানার বা সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়নি।সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি আইনগত কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকতেই পারে, তবে তা সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচার করা হলো না কেন? সরাসরি কোনো বাধা না দিয়ে কিংবা সতর্ক না করে সটান ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া কতটা ন্যায়সংগত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।আদিবাসীরা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও সহজ-সরল প্রকৃতির উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, কোনো স্থানে যদি নিষেধ বা বাধা থাকে, তবে তারা সেখানে যাওয়ার সাহসই করে না। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো নিষেধ না থাকায় তারা বরাবরের মতো শামুক সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপদে পড়েন। আদিবাসীদের এই সরলতার সুযোগ নিয়েই প্রশাসন তাদের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।মাছ শিকার ও বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলে শুধু শামুক সংগ্রহের ওপর কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। এছাড়া চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে অবলা আদিবাসী নারীদের জেল দেওয়া হলেও, অন্যদিকে পরিবেশ বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, চলনবিল এলাকা জুড়ে অবৈধ ইটভাটা তৈরি করে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে এবং আত্রাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেই। কেবল দরিদ্র ও অসহায় আদিবাসী নারীদের ওপর এমন শাস্তি প্রয়োগ করায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চলনবিলের আদিবাসী নৃগোষ্ঠী।এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের মুক্তি এবং পরিবেশ সুরক্ষার নামে দ্বিমুখী নীতি বন্ধ করে সমানভাবে আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream