রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪টি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।  ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের রমনা বিভাগ ২৬ জনকে, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জনকে, ওয়ারী বিভাগ ৪২ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৫৯ জনকে, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জনকে, মিরপুর বিভাগ ১৩৬ জনকে, গুলশান বিভাগ ৩৬ জনকে, উত্তরা বিভাগ ৩৬ জনকে ও গোয়েন্দা বিভাগ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৮৯ পিস ইয়াবা, ৯.৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, নগদ ১৫৪০ টাকা ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।   

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা সেই যুবক গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃত সিফাত গাছা শাখার ‘ইনকিলাব মঞ্চে'র সদস্য। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল সাইটে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সিফাত। ওই ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি নজরে এলে তাকে আটক করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুবশক্তির আহ্বায়ক ও সিনিয়র মুখ্য সংগঠকের নেতৃত্বে থানায় অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সিফাতকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।  এ ঘটনায় পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও থানার সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় এনসিপি-বিএনপি নেতাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতিও হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়। গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর অভিযোগের বিষয়ে আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা সেই যুবক গ্রেপ্তার

বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মিলন কারাগারে

বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিরুল আলম মিলনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুনানি শেষে  সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিলনকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। এর আগে ৭ ডিসেম্বর আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ওই সময় হামলায় বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আমিরুল আলম মিলন ৯৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিলনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মিলন কারাগারে

রংপুরে চার হত্যা: আসামির শার্ট নিয়ে রহস্য

রংপুরে মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গায়ে যে ধরনের শার্ট দেখা যায়, গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের শরীরেও একই ধরণের শার্ট দেখা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই পোশাক বা ডিজাইনের শার্ট আলাদা একাধিক ব্যক্তির থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।তদন্ত ও মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ইন্টারনেটে যে গুঞ্জন ওঠে, সেটিকে "একান্তই কাকতালীয়" বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়।অভিযুক্তরা নেশা করার জন্য পাশে অনেক ফাঁকা স্থান থাকা সত্ত্বেও কেন নিহত গণপতির বাড়ির ছাদকেই বেছে নিয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক তদন্তের গতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই সব স্পষ্ট হবে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। ইয়াবা সেবনের জন্য পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন; সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে আস্থা রাখার কথাও বলেন। এর মধ্যে রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।  তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডের সময়কার গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

রংপুরে চার হত্যা: আসামির শার্ট নিয়ে রহস্য

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৩

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৫৯টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৪ জন, লালবাগে ৩৩, ওয়ারীতে ৮০, মতিঝিলে ৫৩, তেজগাঁওয়ে ৪৫, মিরপুরে ১৩২, গুলশানে ৪০, উত্তরা বিভাগে ৫৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১১ জন রয়েছেন। অভিযানকালে ১২০ কেজি গাঁজা, ১২ হাজার ৩৭৫ পিস ইয়াবা, দুই পুরিয়া হেরোইন ও পাঁচ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১১ হাজার ৪৮০টি নকল ক্রিম, ১১টি মোবাইল ফোন, ৫২৬ বস্তা চাল, দুটি চাকু, একটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার ও একটি প্রাইভেটকারের রিমোট চাবি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন আলামতসহ এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৩

কুলাউড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে ইমরান (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ইমরান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাসানপুর এলাকার হারিছ মিয়ার ছেলে।র‍্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে,কুলাউড়ার তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাবার বাড়িতে প্রায় দেড় মাস আগে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করতে যান ইমরান। এ সময় তার সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।গত ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরী। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।পরে এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।র‍্যাব জানায়,মামলার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯,সিপিসি-২,মৌলভীবাজারের একটি দল গত ৬ আগস্ট রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজনগর উপজেলার মুনসুরনগর ইউনিয়নের বড়কাপন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ও পলাতক আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।মামলার এজাহার অনুযায়ী,বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইমরান কিশোরীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তাকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকায় এক সহযোগীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় ইমরান কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।গ্রেপ্তার ইমরান ও উদ্ধার কিশোরীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র‍্যাব-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

কুলাউড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণী ও দুই ভাই-বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি গলায় জুতার মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে তার পরিবার। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।দীর্ঘসময় আটকে রেখে নির্যাতনের পর পুলিশ তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা মনিরকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ওই তরুণী তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন ও ৭ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির তাকে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী। এর প্রতিবাদ করলে মনির তাকে ও তার ভাই-বোনকে দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেখানে তিন ভাই-বোনের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে মনিরসহ কয়েকজন তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেন। তাকে গলায় জুতার মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর মা ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ওই রাতেই এজাহারভুক্ত দুই আসামি আফসানা সরদার (৫০) ও আমিরকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ওই তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। এ সময় তিনি কান্নাকাটি করছিলেন। একপর্যায়ে এক যুবক এসে তার হাত আরও শক্ত করে গাছের সঙ্গে বেঁধে দেন। পরে এক নারীকে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিতে দেখা যায়। এরপর তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। একইভাবে তার ছোট বোনকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়।ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মনির তার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন মেয়েকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দিলে সে প্রতিবাদ করে। পরে তিন সন্তানকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা এবং মেয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মনির বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন এর প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার ভাই-বোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং তখন তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। তার ভাই-বোনকেও একইভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও শুক্রবার দুপুরে সেটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে রাত ১২টার দিকে আবার লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে এবং রাতেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণী ও দুই ভাই-বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream