শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ভারতে সিজেপির আন্দোলনে পুলিশি শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ

ভারতে সিজেপির আন্দোলনে পুলিশি শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ

ভারতে পুলিশ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির মতে, ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যবহারের প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত মাসের এই বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ তারা সংগ্রহ করেছে। তবে সংগঠনটি স্বীকার করেছে যে বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছিল। উভয় পক্ষের সহিংসতার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এমন পরিস্থিতিতেই অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নয়াদিল্লিতে শুরু হয় তেলাপোকাদের এই আন্দোলন। শুরুর দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ২০ জুলাই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। সেদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি ও ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও যাচাই করা ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ দাবি করেছে। বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনতার ওপর বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের দুটি ঘটনাও যাচাই করে দেখেছে অ্যামনেস্টি। যদিও এসব ঘটনায় কেউ নিহত হননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিক্রিয়া ছিল ‘রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার’ সমতুল্য বলে মনে করে অ্যামনেস্টি। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বলপ্রয়োগ করেছিল। পুলিশের দাবি, শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা সমাজবিরোধীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে। এদিকে গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি থানার বাইরে ১৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ওই তরুণ জানান, ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে প্যালেটের আঘাতে তিনি আহত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সিজেপির এই বিক্ষোভ সমালোচকদের চোখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদির সামনে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে আপাতত সেই চাপ সামাল দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

ককরোচ আন্দোলনে ভারতের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ভারতে প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি পরবর্তীতে রাজপথের তীব্র আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা সাত সপ্তাহের লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব কেবল পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মতো বিজেপির দীর্ঘ তিন দশকের শক্ত ঘাঁটিতে দলের পরাজয় এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষকে স্পষ্ট করে তুলেছে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোর ফলাফল শাসকদলের ওপর। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে সেলফি-ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণামূলক উদ্যোগ নিলেও তরুণদের কাছ থেকে মিশ্র ও সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোকে যেভাবে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করে প্রতিহত করা যেত, এই সর্বজনীন জেন-জি আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপির সেই কৌশল কার্যকর হয়নি।রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি হয়তো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হবে না, তবে তাদের এই চাপ অন্যান্য বিরোধী দল ও সার্বিক জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শিক অবস্থান থেকে সরে না এলেও তরুণ সমাজের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের ধরনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

ককরোচ আন্দোলনে ভারতের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream