বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
গ্লেন কেনিয়ন ভিউ পয়েন্ট থেকে কলোরাডো নদীর দৃশ্য দেখছেন দর্শনার্থীরা

গ্লেন কেনিয়ন ভিউ পয়েন্ট থেকে কলোরাডো নদীর দৃশ্য দেখছেন দর্শনার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম দুটি কৃত্রিম জলাধার ‘লেক মিড’ ও ‘লেক পাওয়েল’-এ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কলোরাডো নদী অববাহিকায় তৈরি হওয়া এই সংকট পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশকের এই পরিস্থিতিকে এখন আর শুধু সাময়িক খরা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি দীর্ঘমেয়াদি পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদী অববাহিকার পানি প্রায় চার কোটি মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এই নদীর পানি বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও এর ওপর নির্ভরশীল।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত কমে যাওয়ায় নদীতে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, নেভাদা, ক্যালিফোর্নিয়া ও উটাহসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মেক্সিকোর কিছু এলাকাতেও।লেক মিড ও লেক পাওয়েল—দুটি জলাধারের পানির স্তরই মোট ধারণক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে গেছে। পানির স্তর আরও কমতে থাকলে এসব জলাধারের বাঁধে থাকা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একপর্যায়ে পানির স্তর টারবাইনের প্রয়োজনীয় সীমার নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।পানির স্তর কমে যাওয়ায় জলাধার দুটির তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা শুষ্ক ও ধূলিময় ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয় প্রতিবেশ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ পানি ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করছে। কৃষকদের পানির ব্যবহার কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে বাগানে অতিরিক্ত পানি ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে পানি ব্যবহারে কাটছাঁট করে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। কলোরাডো নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।লেক মিড ও লেক পাওয়েলের বর্তমান পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এর বাস্তব প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। পানির ব্যবহার নতুন করে পরিকল্পনা করা এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।