রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
অর্লেনের ভেনেজুয়েলা তেল কাণ্ডে ‘বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ পোল্যান্ড

অর্লেনের ভেনেজুয়েলা তেল কাণ্ডে ‘বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ‘অর্লেন’ (Orlen)-এর ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ২৩ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) লোকসান হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা পোল্যান্ডকে ‘সারা বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ করেছে। অনিরাপদ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের ফলে রাষ্ট্রীয় এ বিপুল অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাটিকে দেশের ইতিহাসের ‘অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য পূর্ববর্তী ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস’ (পিআইএস) সরকার ও তাদের নীতিকে দায়ী করেছেন। ঘটনার সময় অর্লেনের প্রধান নির্বাহী পদে ছিলেন দানিয়েল ওবায়েতেক। তিনি বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিরোধী দল পিআইএসের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে অর্লেন প্রথম প্রকাশ করে যে তাদের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সাবসিডিয়ারি ‘অর্লেন ট্রেডিং সুইজারল্যান্ড’ (ওটিএস) ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম সামগ্রী আমদানির জন্য অগ্রিম হিসেবে প্রায় ৪০ কোটি ডলার দিয়েছিল। কিন্তু পুরো টাকাটাই জলে গেছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওই তেল কখনোই সরবরাহ করা হয়নি। পোল্যান্ডের তৎকালীন পিআইএস সরকারের পতনের পর টাস্ক সরকার অর্লেনের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে ওবায়েতেক বরখাস্ত করে নতুন ব্যবস্থাপনা নির্দেশক নিয়োগ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, হারানো অর্থের মধ্যে প্রায় ২৪ কোটি ডলার দুবাইভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল, যা পরিচালনা করতেন হংকংয়ের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। পরবর্তীতে পোলিশ প্রসিকিউটররা এই লেনদেনের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ওটিএস-এর তৎকালীন প্রধান সামের এ. (আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে যার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি) মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির উদ্যোগ নেন। কোনো ধরনের জামানত বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই এসব মধ্যস্থতাকারীদের ২৩ কোটি ডলার অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ’ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে এই লেনদেন সম্পন্ন করতে ক্রিপ্টোকারেন্সির আশ্রয় নেওয়া হয়। অর্লেনের ভাড়া করা জ্বালানিবাহী জাহাজ মাসের পর মাস সাগরে অলস বসে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তেল পৌঁছায়নি, আর অগ্রিম অর্থও গায়েব হয়ে যায়। পোল্যান্ডের মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে যা প্রকাশ পেয়েছে তা সারা বিশ্বের সামনে আমাদের লজ্জিত করেছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি।’ টাস্ক সরাসরি বিরোধী দল পিআইএসকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘এই ঘটনায় পিআইএস সরকারের আমলের সব অপকর্মের রূপ ফুটে উঠেছে—যার মধ্যে নোংরা লেনদেন থেকে শুরু করে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।’ প্রধানমন্ত্রী টাস্ক আরও অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন বর্তমান প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্প্রতি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর আরোপ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে বাধা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা সম্ভবত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নোংরা লেনদেন চক্রের মুখোমুখি হয়েছি।’ এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অর্লেনের সাবেক সিইও দানিয়েল ওবায়েতেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতিবেদনে ওটিএস মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হয়েছে। আমি চাই বিষয়টি পোল্যান্ডের আদালতে পুরোপুরি স্পষ্ট হোক।’ তিনি উল্টো বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সমালোচনা করে দাবি করেন, নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ খুব তাড়াহুড়ো করে চুক্তিটি বাতিল করেছে, নতুবা তেল পোল্যান্ডে পৌঁছাত। ওবায়েতেকের দাবি, দেশের বর্তমান জ্বালানির রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধি থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে টাস্ক সরকার এই পুরোনো মামলাটিকে আবার সামনে আনছে। ওবায়েতেকের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে অর্লেনের বর্তমান প্রেস অফিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবায়েতেকের পোস্টের নিচে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মূল খবরটি ছিল কীভাবে আপনার সময়ে দুবাইয়ের এক ২৫ বছরের তরুণের সংস্থায় পোল্যান্ডের কোটি কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। সে ওই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে ইউএসবি ড্রাইভে নেয় এবং রেস্তোরাঁয় বসে তেল ব্যবসায়ী সেজে থাকা ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয়...এই নাটকে কেবল অর্লেনের খোয়া যাওয়া টাকাটাই সত্যি।’ ওয়ারশর আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, ওটিএসের তৎকালীন প্রধান সামের এ.-কে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে পোল্যান্ডে প্রত্যর্পণের আইনি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যদিও গত বছর ইউএই পোল্যান্ডের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রসিকিউটররা আরও জানান, পোল্যান্ড ও ওটিএসের সম্পত্তি সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়ে কোম্পানির ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি করায় গত মাসে অর্লেনের সাবেক তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রামাঞ্চলের একজন সাধারণ মেয়র থেকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে পোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সিইও হয়ে ওঠা দানিয়েল ওবায়েতেকের বিরুদ্ধে আগেই ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাঁর আইনি সুরক্ষার অধিকার (ইমিউনিটি) বাতিল করে, যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৈঠক, ভাঙনের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যে

আজ সোমবার স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তারা এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে। ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে নজিরবিহীন এই সম্মেলনে তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টার বা সরকারপ্রধান যৌথ এক ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে। এ বৈঠক এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এমপিদের বলেছেন, কোনো স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে তিনি আরেকটি স্কটিশ গণভোটের অনুমতি দেবেন। এদিকে, বৈঠকের মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন—তিনি ‘একীভূত আয়ারল্যান্ড’ দেখতে ‘খুবই পছন্দ করবেন।’ গত শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটা কীভাবে খারাপ হতে পারে?’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাতীয়তাবাদী নেতাদের চাপ বাড়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ইংল্যান্ডে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রীয় বিষয় করেছেন। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি–এসএনপির নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, বার্নহামকে এখন হয়তো এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে, ইতিহাসে তিনি ‘যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত হবেন। গত মে মাসের নির্বাচনে ওয়েলসে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সরকারেই স্বাধীনতাপন্থী দল ক্ষমতায় এসেছে। কার্ডিফের সেনেডে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে প্লেইড কামরু। দলটির নেতা রুন আপ ইওয়ের্থ ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডে এসএনপি তাদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আরও শক্ত করেছে। যদিও হলিরুডে দলটি ছয়টি আসন হারিয়েছে। এই সুযোগে রিফর্ম ও গ্রিনস দল আসন বাড়িয়েছে। সিন ফেইন ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি–ডিইউপির বয়কটের কারণে মিশেল ও’নিলকে ফার্স্ট মিনিস্টার হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আগামী বছর আবার নির্বাচন হলে সিন ফেইনই ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই তিন নেতা বৈঠকে সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট এবং আয়ারল্যান্ডের বিরোধীদলীয় নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের সঙ্গে যোগ দেবেন। তারা কার্ডিফ বে-এর উপর থাকা পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে বৈঠক করবেন। সেখানে স্বাধীনতার নতুন উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। গতকাল রোববার জন সুইনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড তিনটিই স্বাধীনতাপন্থী ফার্স্ট মিনিস্টারের নেতৃত্বে রয়েছে। এর চেয়ে স্পষ্ট আর কোনো লক্ষণ হতে পারে না যে বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সাংবিধানিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে যে গতি তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অ্যান্ডি বার্নহামকে এখন হয়তো এই ধারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে ইতিহাসে তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আগামীকাল (আজ সোমবার) কার্ডিফে দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অংশের অংশীদারদের সঙ্গে একটি ভালো ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার অপেক্ষায় আছি। আর সেই ভবিষ্যৎ কেবল স্বাধীনতার মাধ্যমে নতুনভাবে শুরু করার মধ্য দিয়েই আসতে পারে।’ জানা গেছে, তিন ফার্স্ট মিনিস্টার এই সম্মেলনে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে তাদের নিজ নিজ জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে। দ্য টেলিগ্রাফকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে পার্লামেন্টে বার্নহাম যে মন্তব্য করেছিলেন, তার পর তার ওপর আরও চাপ বাড়ানোই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, জনমত যদি আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে থাকে, তাহলে স্কটল্যান্ডে আবার গণভোট হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হাউস অব কমন্সে বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডের বিচ্ছেদের গণভোট আয়োজনের শর্ত হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি প্রযোজ্য, ঠিক একই পরিস্থিতি। গুড ফ্রাইডে চুক্তির অধীনে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে যেতে ভোট দেবেন বলে ‘মনে হওয়ার মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হলে গণভোট আয়োজন করতে হবে। সুইনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘তিনি (বার্নহাম) উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডের বিষয়টি ব্যবহার করে ভুল করেছেন, এরপর এই সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়টি ব্যবহার করেও আবার ভুল করেছেন। বার্নহাম তাঁর ব্রিফ পড়েননি এবং ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য ধরে রাখার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের মৌলিক বিষয়গুলোও তিনি জানেন বলে মনে হয় না। আমি যদি একজন ইউনিয়নপন্থী হতাম, তাহলে খুবই উদ্বিগ্ন হতাম।’ বৈঠকের পর তিন ফার্স্ট মিনিস্টার একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। আলোচনার সময় তাঁরা একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করবেন, যেখানে তাদের দলগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করবে। চুক্তিতে চারটি বিষয় থাকবে। এগুলো হলো অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। তিনটি দলই একমত হবে যে তাদের অঞ্চলগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হওয়া উচিত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস নতুন সদস্য হিসেবে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হবে। জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকে স্বাধীনতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপের ‘প্রতিবেশী’ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও থাকবে। চুক্তির অর্থনীতি-সংক্রান্ত অংশে বলা হবে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য কাজ করছে না। প্লেইড কামরু এই বৈঠককে কাজে লাগিয়ে বার্নহামের ওপর ওয়েলস সরকারকে কর ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে আরও ক্ষমতা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্ব ওয়েলসকে দেওয়ার দাবি করছে। এর মধ্যে সেই সমুদ্রতলও রয়েছে, যেখানে অফশোর উইন্ড ফার্ম বা সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়। বর্তমানে এসব রাজস্ব ট্রেজারিতে যায়। প্লেইড কামরু আরও চায়, লেবার পার্টি বার্নেট ফর্মুলার পরিবর্তে আরও বেশি অর্থের একটি ব্যবস্থা চালু করুক। একই সঙ্গে পুলিশিং ও রেল খাতে অর্থায়নের মতো আরও কিছু ক্ষেত্রের ক্ষমতাও ওয়েলস সরকারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি করছে দলটি। প্লেইড কামরুর একটি সূত্র বলেছে, ‘জ্বালানি, অর্থনীতি ও ইউরোপের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব রাজনৈতিক সহযোগিতার জোরালো ভিত্তি রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দেশগুলোর সামনে থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়েও সহযোগিতা করা যায়। আমাদের দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। যেসব ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করা মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে অংশীদার ও সমান হিসেবে কাজ করা আমাদের সবার জন্য লাভজনক।’ সিন ফেইনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতারা আলোচনা করবেন ‘গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটি জাতি কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে এবং কীভাবে জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায়।’ সূত্রটি আরও বলেছে, ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি আমাদের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার গণতান্ত্রিক পথ দিয়েছে। এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বের সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে। আইরিশ ঐক্য কোনো দূরের আকাঙ্ক্ষা নয়। নতুন আয়ারল্যান্ড গড়ে তোলার কাজ এখনই শুরু করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জোর দিয়ে বলেছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে আরেকটি স্কটিশ স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের পক্ষে কোনো ঐকমত্য নেই। একইভাবে বর্তমানে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হতে চান, এমনটা বলার মতোও কোনো স্পষ্ট ভিত্তি নেই।’ বার্নহাম চিঠিতে লেখেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার, যার ভিত্তিতে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, সেখানে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল—“লেবার স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোটকে সমর্থন করে না। ” গ্লাসগোতে সম্প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত বৈঠকে আমি যেমন আপনাকে স্পষ্ট করে বলেছি, স্বাধীনতা ও গণভোটের বিষয়টি এখন আলোচনার বাইরে। কারণ এটি অর্থনীতি বড় করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে পরিবারগুলোকে সহায়তা করার বিষয় থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।’

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৈঠক, ভাঙনের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যে

‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা': জেমস

আজ এত বছর পরও সমানতালে মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন জেমস। দেশের জনপ্রিয় সংগীত তারকা জেমস। কালের পরিক্রমায় ব্যান্ড নগরবাউল দিয়ে শুরু করে তিনি হয়ে ওঠেন ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’।  ইউরোপে তিনি সংগীত সফরে রয়েছেন প্রায় দুই মাস ধরে। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে জেমস এখন অবস্থান করছেন সুইডেনে। জেমস ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রবাসীদের গান শোনাবেন।  এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানটাই গেয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা। আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতে পথচলা শুরু জেমসের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। সেই থেকে সুরের জাদুতে মাত করে রেখেছেন কয়েকটি প্রজন্মকে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই জেমসের স্বভাবসুলভ উত্তর, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা।  এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’ জেমস জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি গান করেননি। গেয়েছেন কেবল ভালোবেসে, নিজের আবেগ ও প্যাশন থেকে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তার একই পরামর্শ—কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে সংগীতে না আসার। জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’ জেমস বলেন, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তার জন্যও গান গেয়ে যাব।’ সুইডেনের কনসার্ট দিয়েই শেষ হবে জেমসের দীর্ঘ ইউরোপ সফর। এরপর তিনি উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসে আয়োজিত একটি বিশেষ কনসার্টে জেমসের পাশাপাশি এক মঞ্চে গাইবেন পশ্চিমবঙ্গের ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।  

‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা': জেমস

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ গোয়েন্দারা: পিইটি

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে  সরাসরি নাশকতামূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা বলে জানিয়েছে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা (পিইটি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। পিইটির কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান এমিল গ্রেসহোম ড্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর এবং বার্লিংস্কেকে জানান, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া ডেনমার্কের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া সুনির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই ধরণের হামলার বাস্তব পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ ড্যানিশ নাগরিকদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। ছবি তোলা বা তথ্য সংগ্রহের কাজ দিয়ে পরে সেই তথ্য নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিইটি ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছে। কনফেডারেশন অব ড্যানিশ ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা প্রধান রাসমুস অ্যান্ডারস্কাউ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফ্লেমিং স্প্লিডসবোয়েল এই হুমকিকে একদম নতুন ও উন্নত মাত্রার বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জ্যাকব কার্সবো জানান, ড্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই আগাম সতর্কবার্তা রাশিয়ার কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ গোয়েন্দারা: পিইটি

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় আজ মঙ্গলবার ৯ জন নিহত এবং প্রায় ডজন খানেকের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভে রুশ হামলার এটি টানা ষষ্ঠ দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে সমাধান খুঁজতে যখন প্রচেষ্টা চলছে, তখন ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই হামলা অব্যাহত রয়েছে। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কিয়েভে আটজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক আবাসিক ভবন এবং একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো। কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার প্রতিদিনের হামলায় লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ-লজিস্টিক অবকাঠামোতেও হামলা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চালানো এক হামলার কারণে দানিউব নদীর তীরে রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ওরলিভকা সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। অন্যদিকে রাশিয়াতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনে এক ড্রোন হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সামারা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। সেখানে একটি বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য দুই পক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এর জবাবে ক্রেমলিনের নেতা বলেন, মস্কো ‘এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে’। এই সংঘাত ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশকে, বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা বাড়তে থাকার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশসীমা নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে লাটভিয়ায় অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় বিমান ও সামুদ্রিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছে। এ সময় রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন উড়ছিল। উস্ত-লুগা বন্দর এই লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেই অবস্থিত। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাহকনা মঙ্গলবার দেশটির আকাশপথে হামলার হুমকির সতর্কতাও জারি করেছিলেন। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ন্যাটো ‘দ্রুত এবং ঠিক যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেভাবেই’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছে।

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে পরপর চারটি রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত বছরের গ্রীষ্মের তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষের। মহাদেশটির অর্ধেকেরও কম এলাকার অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় তিন দেশেই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক জাতীয় হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। শত শত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বকালের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। ফ্রান্সে জাতীয় গড় তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানিতে জুনের শেষ দিকে টানা তিন দিন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। ওই সময় দেশটির ৪৬টি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। স্পেনেও দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে জার্মানিতে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন। শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের এক সপ্তাহেই ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা ইইউর অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর চলতি বছরের জুনের ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হার দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারি তখনও সক্রিয় ছিল। রেকর্ড রাখা শুরুর পর জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য ২০২৬ সালই সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। এর আগে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, যখন ৮ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আরকেআই জানিয়েছে, স্বাভাবিক গ্রীষ্মে জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যু সাধারণত ২ হাজারের নিচে থাকে। স্পেনের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউটের মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, মে মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে তাপের কারণে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সাল স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন ৪ হাজার ৫২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন দেশ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব ভিন্ন পদ্ধতিতে করে। স্পেন ও জার্মানি তাৎক্ষণিকভাবে মডেল ব্যবহার করে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে কতজনের মৃত্যু তাপের কারণে হয়েছে, তা অনুমান করা হয়। এ ধরনের হিসাবের প্রয়োজন হয় কারণ মৃত্যুসনদে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি ‘তাপ’কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকেই থাকা শ্বাসতন্ত্র বা হৃদ্রোগের মতো অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে, স্ট্রোক করে বা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন। তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো আগস্টের শুরুর দিকের মৃত্যুর হিসাবও প্রকাশ করেনি। জার্মানির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ গত সপ্তাহে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় কম বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফ্রান্সে ৫০০ টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে দেশটির ৯৮ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় ছিল। ফ্রান্স প্রথমে সব ধরনের মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কতজনের মৃত্যু তাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, তা নির্ধারণ করা হয়। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিক থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০। তবে আগস্টের তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক এই হিসাব ইলেকট্রনিক মৃত্যুসনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের তথ্য ধারণ করে। ইতালির জাতীয় তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে। ফলে দেশটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর হিসাব প্রকাশে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইতালি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করে অসম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সূচক দিয়েছে। মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যেই ইতালিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন বেশি মারা গেছেন। মহামারিবিদরা বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব সম্পন্ন হলে ইতালিতে তাপের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ৮ হাজারের মধ্যে হতে পারে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জুলাইয়ে জানিয়েছে, তাদের মডেল অনুযায়ী মে ও জুনের তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২ হাজার ৮৭৭ জনের তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়াম জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যুহার ৩৯ শতাংশ বেড়েছিল। এর অর্থ ওই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জন মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, ২২ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৯০০ জন বেশি মারা গেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের উদ্ধৃত একটি দ্রুত মডেলিং গবেষণায় বলা হয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহের সময় পোল্যান্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও ১ হাজার ৭০ জন মারা গেছেন। সুইজারল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একই সপ্তাহে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২০। লুক্সেমবার্গ, গ্রিস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ডেনমার্কের প্রাথমিক হিসাবেও প্রতিটি দেশে প্রায় ৪০টি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের যেসব এলাকায় ৮ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন, সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে জানিয়েছিল, গত ২০ বছরে তাদের ইউরোপীয় অঞ্চলে তাপজনিত মৃত্যুহার ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জলবায়ু সংকটের কারণে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বাড়বে। চলতি গ্রীষ্মের পরপর চারটি তাপপ্রবাহ সেই ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ পূর্বাভাস হয়ে উঠেছে। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া ৩৫ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাবও চূড়ান্ত নয়। আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির দিনে তাঁর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ৩৫ টির বেশি দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ইউক্রেনকে নিজ দেশে ব্রিটিশ ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হবে। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমবিডিএকে ফরাসি ‘স্ক্যাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্য-সংশ্লিষ্ট উপাদান সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। স্ক্যাল্প মূলত স্টর্ম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের এবং ৫ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ মাইল বা ২৪১ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত স্থির লক্ষ্যবস্তুতে দিন বা রাত—সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সক্ষমতার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কম। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদের উন্নত অস্ত্রপ্রযুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ইউক্রেনীয় জনগণকে সরাসরি আশ্বস্ত করতে চান, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন। ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশায় রয়েছে। দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অন্যতম জরুরি প্রয়োজন। বার্নহ্যাম ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে প্রথম বৈঠক হয়েছিল। কিয়েভ সফরে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার রাজধানী কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পর রাজধানীর দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য কিয়েভের বাসিন্দারা জানান, বিকট বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের কাছে বোরিসপিল এলাকার তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনে আগুনও ধরে যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। কিয়েভের গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন লাগার ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ক্রমেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। এতে রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং কিয়েভের সেই হামলা ঠেকানোর সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত খাড়া পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার জন্য অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের শহরগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তিনি এর জন্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেন। ওই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টাদের ধারণা, রাশিয়া এখন মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। আর শীত শুরু হলে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরালো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সর্বশেষ রুশ হামলার সময় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে এমন লজিস্টিকস বা সরবরাহকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন।

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream