মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
আইন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য: আইনমন্ত্রী

আইন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য: আইনমন্ত্রী

মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়; প্রয়োজনে তা পরিবর্তনযোগ্য। সরকারের কোনো কাজে ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। সরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক বহুদলীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সংলাপের আয়োজন করে। তিনি জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। যদি কোনো ক্ষেত্রে সফল না হই, তাহলে সংশোধনের জন্য আমরা উন্মুক্ত। আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়; আইন পরিবর্তনযোগ্য।’ মন্ত্রী বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন। জুলাই সনদেও সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যৌক্তিক কোনো প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। সরকারের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ।’ বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের তোপের মুখে না রাখেন, তাহলে আমরা পথ হারাতে পারি। তবে সেই চাপের ভাষা ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।’ সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে বাধা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। একটি গুমের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়া হয়েছে। সরকার গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বলেও জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনটি যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সেটি একটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারত। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সরকার সংসদে ফিরবে। তবে কমিশনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকদের জিম্মি করে কৃষিপণ্য কিনলে কঠোর ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

বাজারে কৃষকদের আনা কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কিংবা কৃষকদের ‘জিম্মি’ করে কেনার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।শনিবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, কৃষকের বাজারে আনা পণ্যে ‘ধলতা’ ও ‘তোলা’র নামে প্রতি মণে প্রায় ৫ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ কৃষিপণ্য বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে। শৈলকুপা বাজারে প্রতি মণে ২ কেজি ধলতা নেওয়া হতো বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে জরিমানা এবং একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকের কাছ থেকে ৪০ কেজির বেশি পণ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত কিছু নিচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিনি বাজার পরিদর্শনে এসেছেন।আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্য কেনার সময় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ধলতা নিলে কিংবা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, ‘কৃষকের প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মিশে আছে তার শরীরের ঘামের গন্ধ। এই সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। তাই কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার সময় ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবেন না।’এ বিষয়ে বাজার কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

কৃষকদের জিম্মি করে কৃষিপণ্য কিনলে কঠোর ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream