মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ওয়ানডেতে বাদ পড়েও টেস্টে টিকে গেলেন লাবুশেন

ওয়ানডেতে বাদ পড়েও টেস্টে টিকে গেলেন লাবুশেন

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও মারনাস লাবুশেনের ওপর আস্থা হারায়নি। এই ব্যাটার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। যদিও ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। দুই টেস্টের তিন ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে লাবুশেনের রান ছিল ১, ৩১ ও ৪। এমন পারফরম্যান্সের পর ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর তাঁর টেস্ট দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রদবদলের পথে না গিয়ে লাবুশেনকে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল দিয়েছে সিএ। সবশেষ তিন বছর আগে টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন লাবুশেন; ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘ সময় ধরে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও নিজেদের টেস্টের পরিকল্পনায় এখনো আছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অস্ট্রেলিয়া তিনটি টেস্ট খেলবে। ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট ১৮ অক্টোবর গকেবেরহার সেন্ট জর্জ’স পার্কে। ২৭ অক্টোবর কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে হবে সিরিজের শেষ টেস্ট। লাবুশেনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ম্যাথু রেনশও। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিং করবেন তিনি। আগের শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ১০ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন রেনশ। তবে ম্যাকাইতে নিজের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান করে আউট হন। ২০১৮ সালের আলোচিত বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ওই সফরের দলের পাঁচ ক্রিকেটার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, স্টিভ স্মিথ ও ম্যাথিউ রেনশ এবারও দলে আছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোলান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, মাইকেল নেসার, ম্যাথিউ রেনশ, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বিউ ওয়েবস্টার।

বিধ্বস্ত হয়েও মাথা উঁচু করে ফিরছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দেড় দিনেই জিতেছে ধবলধোলাই এড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশ তো একেবারে শূন্য হাতে ফিরছে না। ১-১ সমতায় সিরিজ ড্র করা পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত-হাসান মাহমুদ-মেহেদী হাসান মিরাজরা প্রতিপক্ষের সম্মানও আদায় করে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে ১-১ সমতায় ড্র করেছে বাংলাদেশ। শান্ত-হাসানদের ২০০৩ সালে সেই সিরিজে খেলা তো দূরে থাক, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অভিষেকই হয়নি। এবার প্রথম সুযোগটাই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ক্রিকেটাররা। শুধু ২৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোনোই নয়,  ৯ বছর পর দুই মাসে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া তিন সিরিজেই মুখোমুখি হয়েছে। ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি মিলে আট ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। অপর পাঁচটিতে জয়ী দল অস্ট্রেলিয়া। যার মধ্যে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। মাঝে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে বাংলাদেশ। এবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কতটা দাপট দেখিয়ে খেলেছে, সেটা তো ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে। অজিদের ৩০ উইকেটের ২২টিই পেসাররা পেয়েছেন। ডারউইনে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন। আর ম্যাকাইতে একমাত্র ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে অজিদের কাঁপিয়ে দিয়েছেন শরীফুল। ৭ উইকেট নিয়ে বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তিটা গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটা ক্যারি উপভোগ করেছেন। প্রতিপক্ষকে অনেক কৃতিত্বও দিয়েছেন তিনি। আজ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন, ‘দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ ছিল এটা। সবার মধ্যেই দেখা গেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গত কয়েক মাসে দারুণ লড়াই হয়েছে। ওয়ানডে এবং টেস্ট মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা দারুণ জমেছে।’ ডারউইনে সাড়ে তিন দিনের লড়াইয়ে পুরোটা জুড়েই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘোরায় বাংলাদেশ। ৯ উইকেটের দাপুটে জয়ে ইতিহাস গড়ে শান্তর দল। তবে ভেন্যু বদলাতেই বদলে যায় চিত্রনাট্য। ডারউইনে যেখানে এক ইনিংসেই ৪২৬ রান করেছিল বাংলাদেশ, ম্যাকাইতে দুই ইনিংস মিলিয়ে কোনোমতে ১৫০ পেরোয় তারা (৬৪ ও ৯৫)। ডারউইন-ম্যাকাইয়ের পারফরম্যান্সের তুলনা করতে গিয়ে ক্যারি বলেন, ‘আমরা প্রথম টেস্টে পুরোপুরিই হেরে গিয়েছিলাম। এখানে (ম্যাকাইয়ে) ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ২০০+ রান করেছি (২১০)। আরও করতে পারতাম। এগুলো বুঝতে পেরেছি। বোলিং অনেক ভালো হয়েছে।’ ম্যাকাইতে ভরাডুবির পরও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের মতোই চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০।

বিধ্বস্ত হয়েও মাথা উঁচু করে ফিরছে বাংলাদেশ

টাইগারদের ধাক্কার পর এবার শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়া রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে। অজিরা টাইগারদের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে। হারের পর আরও একটি দুঃসংবাদ পেতে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জরিমানা করার কথা ভাবছে আইসিসি।অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বড় হারগুলোর একটি হচ্ছে ঘরের মাঠে বিশাল ব্যবধানের হার। আর এই ম্যাচেই প্যাট কামিন্সের দল স্লো ওভার-রেটের খড়গে পড়তে যাচ্ছে।আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার করে বোলিং করতে হয়, সে হিসেবে সারাদিনে অন্তত ৯০ ওভার বোলিং করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত শনিবারে নির্ধারিত সময়ে মাত্র ৮৬ ওভার করতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া, যা সর্বনিম্ন সীমার চেয়ে চার ওভার কম।আইনি বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ওভারের চেয়ে প্রতি এক ওভার কম করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ কেটে রাখতে পারে আইসিসি। প্রতি টেস্টে প্রতিটি অজি খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি ২০ হাজার ডলার হওয়ায়, এক ওভারের জন্য ১ হাজার ডলার করে চার ওভারে মোট ৪ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।কেবল আর্থিক জরিমানাই নয়, স্লো ওভার-রেটের কারণে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লুটিসি) পয়েন্ট টেবিল থেকেও চার পয়েন্ট কাটা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ৮৪ পয়েন্ট এবং ৭৭.৭৮ জয় শতাংশ নিয়ে পয়েন্ট তালিকার প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, ৩৬ পয়েন্ট এবং ৭৫ জয় শতাংশ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। আর ৪০ পয়েন্ট ও ৬৬.৬৭ শতাংশ জয় নিয়ে চারে বাংলাদেশ।

টাইগারদের ধাক্কার পর এবার শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রেকর্ডের পাতায় হাসান-মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দুই বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের ৯ উইকেটে জয়ে বড় অবদান রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুড়িয়ে দেন মিরাজ যদিও প্রথম ইনিংসে বল হাতে উইকেট পায়নি কোনো।২০১৯ সালে ভারতের কুলদীপ যাদবের  সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার পর সফরকারী স্পিনার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন মিরাজ। ২০১৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট নেওয়া সফরকারী স্পিনার হলেন কুলদীপ ও মেহেদী। ২০১০ সালে সর্বশেষ অ্যাডিলেডে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মিরাজ। এ নিয়ে চতুর্থবার এক টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন মিরাজ। যা বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের হাসান। এক টেস্টে ১১১ রানে ৯ উইকেট শিকারে কোনো টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা পরিসংখ্যান। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় নিজের অভিষেক টেস্টে কোনো সফরকারী পেসারের এটি তৃতীয় সেরা পারফরম্যান্সে। এর আগে ১৯৯০ সালে এমসিজিতে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম এবং ১৯২৪ সালে একই মাঠে ইংল্যান্ডের মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। আকরাম ১৬০ রান ও টেট ২২৮ রান খরচ করেছিলেন। 

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রেকর্ডের পাতায় হাসান-মিরাজ

ভারত-পাকিস্তানকে টপকে এশিয়ায় দ্রুততম জয় বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো দুই ম্যাচে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হলো দ্বিতীয় আমন্ত্রণ পেতে টাইগারদের। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ঐতিহাসিক জয়ের দেখা পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।এতে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। পরাশক্তি অজিদের বিপক্ষে প্রথম জয় পেতে পাকিস্তানের লেগেছিল ৭ টেস্ট এবং ভারতের ১২ টেস্ট। আর ১৫ বার চেষ্টা করেও এখনও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা।  এছাড়া ৩১ বছর পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে ভারত ছাড়া অন্য কোনো এশীয় দলের কাছে টেস্ট হারলো। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে এমন হারের তেঁতো স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তানের কাছে। ওই বছরের পর পাকিস্তান আর টেস্ট জেতেনি অজি ভূমিতে।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। প্রথমটি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে। যেখানে তারা ঘরের মাঠের সুবিধা পুরোপুরি নিয়েছিল। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই দাপুটে পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

ভারত-পাকিস্তানকে টপকে এশিয়ায় দ্রুততম জয় বাংলাদেশের

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে পরিবর্তন বাংলাদেশের

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া টিমকে । এতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের জয় হল।রোববার (১৬ আগস্ট) এই জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ তালিকার চার নম্বরে উঠেছে এই জয়ে। তাদের শতকরা পয়েন্ট হার (পিসিটি) ৫৮.৩৩ থেকে বেড়ে ৬৬.৬৭ হয়েছে। ২০২৫-২৭ চক্রে দ্বিতীয় হারের পরও অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবধান কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি ৭৭.৭৭, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫.০০।নিউজিল্যান্ড ৭২.২২ পিসিটি নিয়ে তিনে। বাংলাদেশ তাদের পরে অবস্থান করছে। ভারত ৪৮.১৫ পিসিটি নিয়ে পঞ্চম স্থানে। বাংলাদেশের সামনে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিতলে শতকরা পয়েন্ট হার বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। 

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে পরিবর্তন বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় বাংলাদেশ। নিজ দেশের মাঠেই ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের পেসারদের পরাজয় এড়াতেই এখন লড়ছেন প্যাট কামিন্সরা। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে অস্বস্তিতে রেখেছেন হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজরা। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে বাংলাদেশের।৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতেই মাহমুদ ১৪ রানে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রান। তাকে সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম ১৭ এবং তাসকিন আহমেদ অপরাজিত ১৪ রানে। ব্যাটারদের লড়াকু সংগ্রহের পর বোলারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করেছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে শান্তর দল—আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৮ জন বোলারকে ব্যবহার করেও বাংলাদেশকে বাগে আনতে পারেননি। জশ হ্যাজলউড ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। ৭৯ রানে ২ উইকেট মিচেল স্টার্ক। ৭৫ রানে ১ উইকেট। ১০২ রানে ১ উইকেট নাথান লায়নের।এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে শেষ হওয়ায় ২২৮ রানের ঘাটতি নিয়ে ডারউইনের ২২ গজে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন কামিন্সেরা। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড (১৭) এবং জ্যাক ওয়েদারাল্ড (০) দ্রুত আউট হয়ে যান। দুজনকে ফেরান প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মাহমুদ। তিন নম্বরে নেমে মার্নাস লাবুশেনও (৩১) ভালো করতে পারেননি।৭৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন স্টিভ স্মিথ এবং ক্যামেরন গ্রিন। স্মিথ ৪৪ রান করে মিরাজের বলে আউট হলেও শনিবার খেলার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছেন গ্রিন (৪৩)। ক্রিজে রয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি (অপরাজিত ১৯)। তৃতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে রয়েছে ৬৭ রানে।

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে কী করতে হবে, জানালেন তামিম

 অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনেক আগেই। তবে তাদেরই মাটিতে তাদের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটেই জিততে পারেনি দলটি। খেলেছেই অবশ্য সব মিলিয়ে ৮টি ম্যাচ।  সে বিশ্বাস গড়ে উঠেছে ডারউইন টেস্টের প্রথম দুই দিনে। তবে সে বিশ্বাসকে বাস্তবতায় রূপ দিতে হলে কী করতে হবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারে এর আগে টেস্টই খেলেছেন একটি। সেই তানজিদ আজ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। বিষয়টা তামিমের কাছে এ কারণেই স্পেশাল। তিনি বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, প্রথমত আলহামদুলিল্লাহ। এখানে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই দারুণ ব্যাপার। আমার জন্য এটা খুবই স্পেশাল, কারণ এখানে এটাই আমার প্রথমবার এবং টেস্ট ক্রিকেটেও এটা আমার মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ। আর সেঞ্চুরি পেলাম, এটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল।’ তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবে পরিচিত। আগের দিন ডেভিড ওয়ার্নাররা ধারাভাষ্যকক্ষে বারবারই আলোচনা করেছেন। সেই স্ট্রোকমেকার তামিমই কি না, আজ সেঞ্চুরিটা করলেন মোটে ৫১ স্ট্রাইক রেটে। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে বিষয়টা খানিকটা বিস্মিতই করেছিল। সে কারণে প্রশ্নটা না করে পারলেন না। সে বিষয়ে তামিম বলেন, ‘হ্যাঁ, দলের যেটা প্রয়োজন ছিল, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় উইকেট ভালো ছিল। তারা আমার কাছে অন্যভাবে এসেছিল, আর আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি এবং নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের নামগুলো দেখুন— মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন। এদের মধ্যে সবচেয়ে অনভিজ্ঞ হ্যাজেলউডের ঝুলিতেও আছে ২৯৫টি উইকেট। এমন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য কী? তামিম বললেন, ‘আমি শুধু বল দেখেছি আর বল অনুযায়ী খেলেছি। বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি, শুধু শান্ত থেকে ওরা যা বল করেছে আর যেভাবে পরিকল্পনা করেছে সেভাবে খেলেছি। আমি শুধু বলটা খেলেছি।’ আগের দিন মোটে ৫৩ ওভার খেলেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করলেন তামিম। ডারউইনের পিচ নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয় উইকেট আগের চেয়ে, মানে প্রথম দিনের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। আমার মনে হয় এটা আরও ভালো হতে থাকবে। আর আমার মনে হয় এই উইকেটে যদি আমরা স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় শট খেলি, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেওয়া, ব্যাটিংয়ে নেমে ১০০’রও বেশি লিড… এমন পারফর্ম্যান্স দলের সবার মনে জয়ের বিশ্বাস না এনেই পারে না। তামিম অকপটে স্বীকার করে নিলেন বিষয়টা। তবে সেটা করতে হলে কী করতে হবে, তাও জানিয়ে দিলেন তামিম।  তামিম যখন এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, দল তখন চা বিরতির জন্য উঠে গেছে প্যাভিলিয়নে। তৃতীয় সেশনে অবশ্য নতুন বলে খানিকটা পা হড়কে গিয়েছিল দলের, ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। তবে হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ সেটা পেছনে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এখন। তামিম যে পথ বাতলে দিয়েছেন, সেটা অনেক লম্বা, বন্ধুরও। তবে তা যদি শেষমেশ মাড়িয়েই ফেলতে পারেন মিরাজরা, তাহলে ডারউইনে ইতিহাস গড়ার বিশ্বাসটা জোর সম্ভাবনাতেই রূপ নেবে বৈকি! 

অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে কী করতে হবে, জানালেন তামিম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream