রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কলেজে আট শিক্ষক, তবুও এইচএসসিতে ফেল করলো একমাত্র শিক্ষার্থী!


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কলেজে আট শিক্ষক, তবুও এইচএসসিতে ফেল করলো একমাত্র শিক্ষার্থী!
কলেজে আট শিক্ষক, তবুও এইচএসসিতে ফেল করলো একমাত্র শিক্ষার্থী!

প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার একটি কলেজে চরম হতাশাজনক ও অদ্ভুত তথ্য সামনে এসেছে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত মির্জাগঞ্জ মজিদবাড়িয়া কলেজে বর্তমানে ৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চূড়ান্ত পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য (০%)।

এ বছর সারা দেশে শূন্য পাস করা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মির্জাগঞ্জের এই কলেজটিও স্থান পেয়েছে।

উপজেলার মজিদবাড়িয়া এলাকায় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংকটের চিত্র প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ:

দীর্ঘ ২৪ বছরেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য তৈরি হয়নি কোনো নিজস্ব পাকা একাডেমিক ভবন। বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও এমপিওভুক্ত (MPO) হতে পারেনি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা যেমন আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, তেমনি ভালোমানের কোনো শিক্ষার্থীও এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না।

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিপর্যয় ও শূন্য পাসের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক ইকবাল জানান:

"আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এতদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর আগ্রহ দিন দিন কমছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সে-ও একটি বিষয়ে ফেল করায় পাসের হার শূন্য দাঁড়িয়েছে।"

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মানহীন অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চরম অসঙ্গতি এবং এমপিও না পাওয়ার চক্রে পড়ে দেশের গ্রামাঞ্চলের অনেক কলেজই এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ তারই এক জলন্ত উদাহরণ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


কলেজে আট শিক্ষক, তবুও এইচএসসিতে ফেল করলো একমাত্র শিক্ষার্থী!

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার একটি কলেজে চরম হতাশাজনক ও অদ্ভুত তথ্য সামনে এসেছে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত মির্জাগঞ্জ মজিদবাড়িয়া কলেজে বর্তমানে ৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চূড়ান্ত পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য (০%)।

এ বছর সারা দেশে শূন্য পাস করা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মির্জাগঞ্জের এই কলেজটিও স্থান পেয়েছে।

উপজেলার মজিদবাড়িয়া এলাকায় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংকটের চিত্র প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ:

দীর্ঘ ২৪ বছরেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য তৈরি হয়নি কোনো নিজস্ব পাকা একাডেমিক ভবন। বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও এমপিওভুক্ত (MPO) হতে পারেনি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা যেমন আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, তেমনি ভালোমানের কোনো শিক্ষার্থীও এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না।

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিপর্যয় ও শূন্য পাসের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক ইকবাল জানান:

"আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এতদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর আগ্রহ দিন দিন কমছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সে-ও একটি বিষয়ে ফেল করায় পাসের হার শূন্য দাঁড়িয়েছে।"

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মানহীন অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চরম অসঙ্গতি এবং এমপিও না পাওয়ার চক্রে পড়ে দেশের গ্রামাঞ্চলের অনেক কলেজই এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ তারই এক জলন্ত উদাহরণ।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream