বরিশাল নগরীতে পূজার কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরা দুই নারীকে অনুসরণ করে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করেছিল এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ওই পরিবারের নারীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতায় উল্টো খাঁচায় বন্দি হতে হয়েছে তাকে। জিম্মিদশা থেকে বাঁচতে কৌশলে ছিনতাইকারীর চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে তাকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
শনিবার রাতে নগরীর কাউনিয়া প্রথম লেনে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। আটক ছিনতাইকারীর নাম অভিষেক সোম অভি (৩০। সে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পতিহার এলাকার লক্ষ্মণ চন্দ্র সোমের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, অভি একজন চিহ্নিত ও পেশাদার ছিনতাইকারী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া প্রথম লেনের মো. সবুজের ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া সাগরের স্ত্রী ও শ্যালিকা রাতে পূজার কেনাকাটা করতে বাজারে যান। কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার পথে অভি তাদের অনুসরণ করতে থাকে। দুই নারী ঘরে প্রবেশ করে দরজা আটকানোর আগেই পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে সে।
ঘরে ঢুকেই অভি তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র বের করে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। চিৎকার করলে কেটে ফেলার হুমকি দিয়ে সবার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার তার হাতে তুলে দিতে বলে। এ সময় ঘরের ভেতর এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কাউনিয়া থানার ওসি সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, চরম বিপদের মুখেও ওই বাসার নারীরা দমে যাননি। তারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। ঘরের ভেতর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এক নারী কৌশলে রান্নাঘর থেকে মরিচের গুঁড়ো এনে আচমকা অভির চোখে ছুড়ে মারেন।
চোখে মরিচের তীব্র ঝাঁজালো গুঁড়ো পড়ায় অভি তাৎক্ষণিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং বাঁচতে মরিয়া হয়ে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র ঘোরাতে থাকে। এতে গৃহকর্তা সাগরসহ দুই নারী সামান্য জখম হন। তবে জখম নিয়েই পরিবারের সদস্যরা সাহসের সঙ্গে অভিকে জাপটে ধরে গণধোলাই দেন। পরে তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও আটক অবস্থায় অভিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া অভি একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। এর আগে মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে সে আবারও একই অপরাধ শুরু করে। শনিবার রাতের এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার ধারায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মতামত