জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জন শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের নতুন অঙ্গীকার।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীর পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ পরিবেশ তাঁর কাছে পরিচিত। পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্জন করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ও সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ও গৌরবের অধ্যায়।
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি কেবল অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থাই এর প্রকৃত শক্তি। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেনাসদস্যদের কল্যাণে আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।
মতামত