বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরেও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরেও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব কথা জানান। তিনি জানান, সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।

পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরেও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব কথা জানান। তিনি জানান, সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।

পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream