টানা দুই বছর ধরে দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে। ২০২৫ সালের পর এবারও প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সোমবার ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার গণিপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ওই বছরও সবাই অকৃতকার্য হয়। অর্থাৎ টানা দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই দাখিল পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা দুই বছর একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সুপারের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শুধু ফলাফল বিপর্যয়ের পর দায় এড়িয়ে না গিয়ে শিক্ষার্থীরা কেন ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফলাফল সহ এসব অভিযোগের বিষয়ে গণিপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘এখন মন-মানসিকতা ভালো নেই’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আক্কেলপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, গত বছরের মতো এবারও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেব।
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় আক্কেলপুর উপজেলার ১০টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৫ জন।
মতামত