উত্তরের শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১৩ জন পরীক্ষার্থী। আর পাশের হার হয়েছে ৭২.৭৭। যেখানে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পাশের হার মাত্র ৫৮.৩৩।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট পাশ করেছে ২ হাজার ৩ শ' ২৮ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থী ছিল ৩ হাজার ১ শ' ৯৯ জন। তবে শতভাগ পাশ করতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠান।
সবচেয়ে ভালো করেছে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের ২৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৭৩। পাশের হার ৯৯.৬৪ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৮ জন। দ্বিতীয় হয়েছে সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ। এই স্কুলের ১০৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১০৭। পাশের হার ৯৯.০৭ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন।
আর তৃতীয় হয়েছে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০১ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১০০ জন। পাশের হার ৯৯.০১। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন। এরপর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের ৩৯৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩৮৪ জন পাশ, ফেল ১৪ জন। পাশের হার ৯৬.৪৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০১ জন।
আল ফারুক একাডেমির ১৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ ১৬৬ জন ও ফেল ৭ জন। পাশের হার ৯৫.৯৫, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন। গতবছর এই প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে ৮১ জনের মধ্যে পাশ ৭৫, ফেল ৬ জন। পাশের হার ৯২.৫৯, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।
তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ১০৪ জন। পাশ করেছে ৯৫ জন আর ফেল করেছে ৯ জন। পাশের হার ৯১.৩৫, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানের ৮৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৬৭ জন, ফেল করেছে ২১ জন। পাশের হার ৭৬.১৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।
অন্য দুইটি বালিকা বিদ্যালয়ের মধ্যে সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৯০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৬১ ও ফেল ২৯ জন। পাশের হার ৬৭.৭৮, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। আর বোতলাগাড়ী আদর্শ বালিকা নিকেতন থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ১৯ জন। পাশ করেছে ৯ জন, ফেল করেছে ১০ জন। পাশের হার ৪৭.৩৭।
এছাড়া সৈয়দপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ৫৪, পাশ ৪২, ফেল ১২, পাশের হার ৭৭.৭৮। সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ৪৩, পাশ ৩৩, ফেল ১০, পাশের হার ৭৬.৭৪, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৫২ জন আর ফেল করেছে ২৪ জন। পাশের হার ৬৮.৪২।
গ্রামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো করেছে শ্বাষকান্দর ব্যাঙ্গমারী উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুল থেকে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাশ ৬৪ জন ও ফেল ১৪ জন। পাশের হার ৭২.৭৩, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। এরপর আছে হাজারীহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এই স্কুলের ৮৮ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৬৪ জন, ফেল ২৪ জন। পাশের হার ৭২.৭৩ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
এছাড়া খালিশা বেলপুকুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৭ জন, ফেল করেছে ২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাশের হার ৬৬.২৮। বাঙ্গালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৬ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৪৮ জন আর ফেল করেছে ২৮ জন। পাশের হার ৬৩.১৮, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৭৭ জন আর ফেল করেছে ৫৯ জন। পাশের হার ৫৬.৬২, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
গ্রামের বাকি স্কুলগুলোর মধ্যে বোতলাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৫ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১০১ জন। আর ফেল করেছে ৯৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। সিপাইগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৮ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৩৮ জন। চওড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩১ জন। কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ছমির উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ জনের মধ্যে পাশ ২৫ জন।
আর শহরের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সৈয়দপুর মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। শেরে বাংলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১০৮। জিপিএ-৫ জন পেয়েছে ৩ জন।
কয়ানিজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৮ জনের মধ্যে ৩৩ জন পাশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন। কয়া গোলাহাট স্কুল এন্ড কলেজের ৪৩ জনের মধ্যে ২৪ জন পাশ। বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০২ জনে পাশ ৪২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬১ জনের মধ্যে ২৩ জন পাশ।
মতামত