মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM

ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন
ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অর্ধশত বছরের পুরোনো গোরস্থান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ।

 প্রতিদিনই ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ। আতঙ্কে বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। ভাঙন রোধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফসার মুন্সী কান্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে নদে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মুন্সী বলেন, ‘চলতি মৌসুমেই আমাদের গ্রামের ১০০ বিঘার বেশি জমি নদে চলে গেছে। এখন আফসার মুন্সী কান্দির ঐতিহ্যবাহী গোরস্থান, চর অর্জনপট্টী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদ থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থাপনাও যেকোনো সময় নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’

ভাঙনে বসতভিটা হারানো মোজাম্মেল মুন্সী, নুরু মুন্সী ও সালাম মুন্সী বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদে চলে গেছে। এখন গবাদিপশু ও ঘরের মালামাল নিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা থাকবে না।’

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে কমাতে শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দ্রুত স্থায়ী জিওব্যাগ স্থাপন অথবা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে নদীর গতিপথ ও ভাঙনের তীব্রতা নিরূপণ করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে গোরস্থান, বিদ্যালয় ও মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিষয় : ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অর্ধশত বছরের পুরোনো গোরস্থান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ।

 প্রতিদিনই ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ। আতঙ্কে বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। ভাঙন রোধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফসার মুন্সী কান্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে নদে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মুন্সী বলেন, ‘চলতি মৌসুমেই আমাদের গ্রামের ১০০ বিঘার বেশি জমি নদে চলে গেছে। এখন আফসার মুন্সী কান্দির ঐতিহ্যবাহী গোরস্থান, চর অর্জনপট্টী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদ থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থাপনাও যেকোনো সময় নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’

ভাঙনে বসতভিটা হারানো মোজাম্মেল মুন্সী, নুরু মুন্সী ও সালাম মুন্সী বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদে চলে গেছে। এখন গবাদিপশু ও ঘরের মালামাল নিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা থাকবে না।’

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে কমাতে শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দ্রুত স্থায়ী জিওব্যাগ স্থাপন অথবা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে নদীর গতিপথ ও ভাঙনের তীব্রতা নিরূপণ করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে গোরস্থান, বিদ্যালয় ও মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙন
0:00 0:00
1.0x