বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

সদরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

সদরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
সদরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বসতঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার বলেন, “এই এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। এই ঘটনার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতরা ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত। ঘটনার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া অবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে দ্রুত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আজ ১৫ বছরের একটি কিশোরীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এমন বর্বরোচিত অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষক ও অপরাধীদের কোনো সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না, তারা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে পলাতক প্রধান আসামিসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার সংহতি জানিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে জোরপূর্বক বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ওই কিশোরীকে অপহরণ করে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) ও ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। তবে তাদের কাউকেই পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়নি; স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অন্যদিকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) ঘটনার ১০ দিন পার হলেও এখনও অধরা রয়েছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় সদরপুর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, “আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।”

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সদরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বসতঘরের জানালা ভেঙে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কিশোরীর ওপর যে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস সরদার বলেন, “এই এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। এই ঘটনার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতরা ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত। ঘটনার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি বাচ্চু মিয়া অবিলম্বে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে দ্রুত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

ফরিদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আল সুমন বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই আজ ১৫ বছরের একটি কিশোরীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এমন বর্বরোচিত অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষক ও অপরাধীদের কোনো সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না, তারা সমাজের শত্রু। অবিলম্বে পলাতক প্রধান আসামিসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কাউসার সংহতি জানিয়ে বলেন, “আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে জোরপূর্বক বসতবাড়ির জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ওই কিশোরীকে অপহরণ করে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—৩ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২১), ৪ নম্বর আসামি রনি বেপারী (১৮) ও ৬ নম্বর আসামি রহিত শিকদার (১৫)। তবে তাদের কাউকেই পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়নি; স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অন্যদিকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মনির খাঁ (২৫), ২ নম্বর আসামি মিঠুন সরদার (২০), ইমন (২০) ও সোহাগ (২২) ঘটনার ১০ দিন পার হলেও এখনও অধরা রয়েছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় সদরপুর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, “আমরা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।”


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream