মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM

ছাত্রদল নেতাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ছাত্রদল নেতাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বজনরা। শনিবার সকালে মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় আনা হয়। এরপর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং সড়কে বিক্ষোভ করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একটি নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পরিচালিত পুলিশের অভিযানে ওই কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অংশ নেন। তাদের দাবি, পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক ও এসআই কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তারা পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করেন। অভিযানের সময় মোনারুল তাদের চিনে ফেললে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

মোনারুলের বোন শাহিনুর বেগম বলেন, মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের সদস্য নন। তাহলে তারা কীভাবে পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নিলেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় পীরগাছা থানার পুলিশের সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযানে কারা ছিলেন এবং কীভাবে মোনারুলের মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণে ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে আওলাদ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া এর আগে তাকে ও কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি এলাকা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। কিশোরীকে উদ্ধারে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চার সদস্যের একটি দল সাভারে যায়। পরে সাভার মডেল থানার সহায়তায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মোনারুলের বাবা জাফর আলীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলার সময় ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে স্বজনদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

মোনারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সেখানকার স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মোনারুলের মরদেহ দাফন করা হয়।

এদিকে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সাভার থানা-পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক পুলিশের পোশাক ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদী পক্ষের ওই দাবি সঠিক নয়। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে সাভার পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় রংপুরেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


ছাত্রদল নেতাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকশীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্বজনরা। শনিবার সকালে মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় আনা হয়। এরপর স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানার সামনে অবস্থান নেন এবং সড়কে বিক্ষোভ করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একটি নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পরিচালিত পুলিশের অভিযানে ওই কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অংশ নেন। তাদের দাবি, পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক ও এসআই কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় তারা পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করেন। অভিযানের সময় মোনারুল তাদের চিনে ফেললে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

মোনারুলের বোন শাহিনুর বেগম বলেন, মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের সদস্য নন। তাহলে তারা কীভাবে পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নিলেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় পীরগাছা থানার পুলিশের সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযানে কারা ছিলেন এবং কীভাবে মোনারুলের মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণে ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভে আওলাদ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া এর আগে তাকে ও কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি এলাকা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। কিশোরীকে উদ্ধারে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চার সদস্যের একটি দল সাভারে যায়। পরে সাভার মডেল থানার সহায়তায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মোনারুলের বাবা জাফর আলীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলার সময় ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে গিয়ে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে স্বজনদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

মোনারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সেখানকার স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মোনারুলের মরদেহ দাফন করা হয়।

এদিকে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সাভার থানা-পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক পুলিশের পোশাক ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদী পক্ষের ওই দাবি সঠিক নয়। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে সাভার পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় রংপুরেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
ছাত্রদল নেতাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
0:00 0:00
1.0x