বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

অর্থনীতি

তিন মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

তিন মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও নীতিসুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। এ সময় মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।এর আগে জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে জুলাইয়ে তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়।নীতিসুদহার অপরিবর্তিত রাখার ব্যাখ্যায় হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নীতিসুদহার এখনো বেশ উচ্চ। এ কারণে বর্তমান মুদ্রানীতির অবস্থানকে সংকোচনমূলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।নতুন মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকগুলোর নেওয়া ঋণের সুদহার বা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর রাখা আমানতের সুদহারের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) আগের মতো ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে।ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও আগের ৬ দশমিক ৮ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।এ ছাড়া সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ।এর আগে জুনে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, এখন থেকে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের স্বাধীনতা জরুরি

দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকটে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কোম্পানিতে নিয়োগ পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত করপোরেট সুশাসন বিধিমালা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এ আলোচনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক, পেশাজীবী, শিক্ষক, বিনিয়োগকারী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হোসেন সাদাত। তিনি বলেন, করপোরেট সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।হোসেন সাদাত বলেন, সীমিত সম্পদ ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব করপোরেট সুশাসন কাঠামো তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেইন বলেন, নতুন করপোরেট সুশাসন বিধিমালা একবারে না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের সংজ্ঞা এবং মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সব কোম্পানির ব্যবসার ধরন, আকার ও ঝুঁকি একই নয়। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে করপোরেট সুশাসনের নিয়ম নির্ধারণ করা দরকার। পরিচালনা পর্ষদ ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য আগে থেকেই সুস্পষ্ট মানদণ্ড থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।বক্তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন শনাক্ত ও যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও নিরীক্ষা কমিটির ভূমিকা আরও কার্যকর করতে হবে।আলোচনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়ে তথ্য প্রকাশ, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিচালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন বক্তারা।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পরিচালকদের স্বাধীনতা জরুরি

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ এই মানের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মূল্য সমন্বয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নতুন এই দর বুধবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গহনার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যানুসারে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের গহনার মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়াবে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা (ভ্যাটসহ)।উল্লেখ্য, বাজুস নিয়মিতভাবে দেশীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দামের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ গহনার খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার প্রভাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দর জানানো হয়।বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ১ হাজার ৮০৮ টাকা। ফলে প্রতি ভরির নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা।এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, এই মানের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে খরচ হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।অলংকার পরিবর্তন বা বিক্রির ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ কর্তনের নির্দেশ দিয়েছে বাজুস। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দর কার্যকর থাকবে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন

আবারও দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। রোববারও এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।নতুন তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা কমে হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা করেছিল বাজুস। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা। এক সপ্তাহ না যেতেই আবারও দাম কমানো হলো।বাজুসের হিসাবে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১১৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে ৫৯ বার। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৯ বার কমেছিল।এদিকে, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।

আবারও দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণের দাম কমলো

দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত এই দাম কার্যকর হয়েছে।এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এবার একই পরিমাণ কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হলো।বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৭ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, বিপরীতে ৫৯ বার কমানো হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ দফা সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও কমানো হয়েছিল ২৯ বার।চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে এক ভরি স্বর্ণের দাম করা হয় ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের সর্বোচ্চ বাজারদর।

স্বর্ণের দাম কমলো

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এরই ধারাবাহিকতায় স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাজারে এই নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা।এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধিসহ সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।অলংকারের নকশা অনুযায়ী ক্রেতাকে মজুরি দিতে হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলানোর ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার সরাসরি বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

অনুমোদন পেল পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংক

দেশে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের এলওআই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়।প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, কোড়ি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক এবং মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ।

অনুমোদন পেল পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংক

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ

দেশের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে চালু থাকা চারটি স্কিমের পাশাপাশি আলাদা কোনো পঞ্চম স্কিম না এনে বিদ্যমান স্কিমগুলোর ইসলামিক সংস্করণ হিসেবে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এসব স্কিমে জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।চারটি স্কিমের মধ্যে ‘সমতা’য় নিবন্ধনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। অন্যদিকে ‘সুরক্ষা’, ‘প্রবাস’ ও ‘প্রগতি’ স্কিমে অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নতুন ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য আইনের খসড়া প্রস্তুত করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানান, শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থা আলাদা কোনো পঞ্চম স্কিম হবে না। ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’—প্রতিটি স্কিমেরই প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ থাকবে। ফলে একজন গ্রাহক নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।শরিয়াহভিত্তিক পেনশন তহবিল পরিচালনা ও বিনিয়োগের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা তহবিলের কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও কারিগরি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ দায়-দায়িত্ব নিয়েও বিশ্লেষণ করা হবে।শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে কি না এবং সুকুক বন্ডসহ কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাবে, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনায় রয়েছে। আপাতত বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড এবং সরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পেনশন কর্তৃপক্ষ।শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু হলে মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে তহবিল কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তার ওপর—এমনটাই মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা।বর্তমান পেনশন তহবিল সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট হারে সুদ পায়। কিন্তু শরিয়াহভিত্তিক তহবিল সুদভিত্তিক বিনিয়োগ করতে পারবে না। ফলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরিয়াহভিত্তিক সুকুক, শরিয়াহসম্মত কোম্পানি বা শেয়ারে বিনিয়োগ এবং মুদারাবা ও মুশারাকার মতো ব্যবসায়িক মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তবে দেশে সুকুকের বাজার এখনো ছোট হওয়ায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি না হলে প্রচলিত স্কিমের তুলনায় মুনাফা কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক মো. আহসান হাবীব মনে করেন, পেনশন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য বা স্কিমের সুযোগ না থাকলে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এতে যুক্ত করা কঠিন হবে। তার মতে, দেশের একটি অংশ সুদভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থায় অংশ নিতে অনাগ্রহী হতে পারে।তিনি আরও বলেন, গ্রাহকের আস্থা তৈরির জন্য কার্যকর ও স্বাধীন শরিয়াহ বোর্ড, নিয়মিত শরিয়াহ অডিট এবং বিনিয়োগের বিষয়ে স্বচ্ছ প্রতিবেদন প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে কয়েকটি ইসলামি ব্যাংকের সংকটের পেছনে ব্যাংকিং পদ্ধতির চেয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বড় কারণ ছিল।শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির পাশাপাশি সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কতদিন পেনশন পাবেন, সেই বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগের নিয়মে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন তা ৮০ বছর করা হয়েছে। পেনশনার নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশন পাবেন।পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির যেসব কর্মী প্রচলিত সরকারি পেনশনের আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রবাসী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদেশ যাওয়ার আগে তাদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং বিমানবন্দরে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পেনশনে নিবন্ধনের জন্য দেওয়া প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করা, পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।তবে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের আগে এর আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সঠিক বিনিয়োগ নীতি, স্বচ্ছ শরিয়াহ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক জনগোষ্ঠীকেও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ

আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বাড়তি দাম কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে এই নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে। সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অলংকারের নকশা ও ধরনভেদে নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।এ ছাড়া পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলে নতুন অলংকার নেওয়ার ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার সরাসরি বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম জানিয়েছে বাজুস।

আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

জ্বালানির দাম বাড়তেই চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারে পড়তে শুরু করেছে। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বাজারে আসা বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানেই বেগুন, শসা, কাঁচামরিচ, ডিম, রসুন, আটা-ময়দা ও ভোজ্যতেলসহ অন্তত ১০টি পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে আয় না বাড়লেও নিত্যদিনের ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরদিনই বাজারে এর প্রভাব দেখা যায়।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহণে খরচ বেড়েছে। ফলে নতুন করে যেসব পণ্য বাজারে আসছে, সেগুলো আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।রাজধানীর খুচরা বাজারে এদিন মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগে যার দাম ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। শসার দাম ছিল ৫০ থেকে ৮০ টাকা, যেখানে আগের দিন সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০ টাকা। কাঁচামরিচের কেজি উঠেছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায়। দুই দিন আগে ফার্মের ডিমের প্রতি হালি ৫০ টাকা থাকলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।এ ছাড়া তেজপাতা কেজিতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা, বড় দানার মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, খোলা আটা ৫০ টাকা, খোলা ময়দা ৭০ টাকা এবং খোলা পামওয়েল লিটারপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি পণ্যের দাম এরই মধ্যে আগের তুলনায় বেড়েছে।নয়াবাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহণ ভাড়াও বেড়েছে। এ কারণে নতুন করে আনা পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে আগে কেনা পণ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লায় পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে। আগে বগুড়া থেকে ঢাকায় একটি ট্রাকের ভাড়া ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা থাকলেও এখন আরও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।জ্বালানি ব্যয়ের এই বাড়তি চাপের প্রভাব পড়ছে পারিবারিক বাজেটেও। নয়াবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সোহাগ বলেন, ৪২ হাজার টাকা বেতনে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে এমনিতেই মাসের শেষদিকে হিসাব মেলানো কঠিন। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে খাবারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়লে ঋণের বোঝা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল পরিবহণ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের চাপ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সরকার। তবে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার প্রভাব কত দ্রুত অন্যান্য পণ্যের বাজারে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিই এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

জ্বালানির দাম বাড়তেই চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

পে ফিক্সেশনে ভুল তথ্য দিলেই আটকে যেতে পারে নতুন বেতন

নবম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সঠিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ কিংবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে সামান্য অমিল থাকলেও অনলাইন পে ফিক্সেশনে জটিলতা দেখা দিতে পারে।অর্থ বিভাগের জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হবে।বিদেশে থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো কর্মচারীর এনআইডি না থাকলে পে ফিক্সেশনের আগে তাকে এনআইডির জন্য নিবন্ধন করতে হবে।বিশেষ করে চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে এনআইডির জন্মতারিখের মিল না থাকলে পে ফিক্সেশনের আগেই এনআইডির তথ্য সংশোধন করতে হবে। তাই নতুন বেতন নির্ধারণের আগে ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা আলাদা। তারা আইবাস প্লাস প্লাসের নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সেখান থেকেই পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।নির্ধারিত ছকে তথ্য পূরণের পর কর্মচারী চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে তার নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন দেখানো হবে। তথ্য সাবমিট করার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিডিওর কাছে যাবে।ডিডিও প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন দিলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।এ প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন লিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অডিট রেজিস্টারের মানি-কলামেও নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে।অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে একই নিয়মে বেতন নির্ধারণের লক্ষ্যেই অনলাইন পে ফিক্সেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তবে তথ্যের ভুল বা অসামঞ্জস্য থাকলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় তা সংশোধন করতে হতে পারে।অনলাইন পে ফিক্সেশনের বিস্তারিত নির্দেশিকা আইবাস প্লাস প্লাসের লগইন পেজ, অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং পে ফিক্সেশন ডট গভ ডট বিডিতে পাওয়া যাবে।

পে ফিক্সেশনে ভুল তথ্য দিলেই আটকে যেতে পারে নতুন বেতন

আবারও স্বর্ণের দাম বেড়ে যত হলো

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত দাম কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে নির্ধারিত এ দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা।এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।এ ছাড়া পুরোনো স্বর্ণের অলংকার বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

আবারও স্বর্ণের দাম বেড়ে যত হলো

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পতনের ধারার পর অবশেষে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং তারল্য পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এক স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মান আরও ০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর আগে ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা ছিল, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বেড়ে ১২৩ টাকার ওপরে উঠেছিল।আমদানি ব্যয় হ্রাস: টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ কমবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ বেশি। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে।রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭.৭০২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৮ শতাংশ বেশি।এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "টাকা শক্তিশালী হওয়ায় আমদানিকারকদের এলসি খোলা সহজ হবে এবং দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়বে।"বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় মনিটরিং, অর্থপাচার রোধ এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দাম রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানিতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের বাণিজ্যে। দেশের অভ্যন্তরের পণ্য পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়েছে ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেট রুটে। ফলে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রী পরিবহন ভাড়া এখনো না বাড়ালেও যে কোন সময় বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে বাৎসরিক মালামাল পরিবহনের চুক্তির ফলে অনেক সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। লাভ তো দুরে থাক শত শত টাকা লোকসান দিয়ে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে আমদানিকারকের প্রতিষ্ঠানে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে টায়ার, ট্রাকের যন্ত্রাংশের মূল্য এবং ফেরি ভাড়া বৃদ্ধির কারণেই নাকি ট্রাকের ভাড়া বেড়ে গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা। রোববার সকাল থেকে  সেই ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। চট্রগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহনে আগে গুনতে হতো ২৭-২৮ হাজার টাকা ভাড়া। এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৩৫/৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। গাজিপুর, টঙ্গী, নারায়নগঞ্জে আগে ভাড়া ছিল ২২ হাজার টাকা এখন ভাড়া নিচ্ছে ২৬/২৭ হাজার টাকা। এতে করে বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ কারণে উৎপাদিত পণ্যর দাম বেড়ে যাবে। তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাক সংকটেও অনেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাস নিতে পারছেন না।বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে আমাদের দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন লোড আনলোডের কাজ করে থাকে। ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রাক সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় অনেকে আমদানিকৃত মালামাল খালাস নিতে পারেনি। প্রতিদিন যেখানে ৪০০ থেকে ৬০০ ট্রাক পণ্য লোড আনলোডিং হতো এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের শ্রমিকরা দুভোর্গের মধ্যে পড়বে। অনেকে বেকার হয়ে পড়বে।ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চালক নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়লে আমাদের বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল যাতায়াত করতে ১৫০ লিটার তেল লাগে সেই হিসেবে এখন তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার তেল বেশি লাগছে। আবার ঢাকা থেকে তেমন ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে এখন প্রতি ট্রিপে ৪/৫ হাজার টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। তারপরও ফেরি ভাড়া, সেতুর টোল, বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে দিতে শেষ। এসব কারণে ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে।সাদ্দাম হোসেন নামের অপর চালক বলেন, আমার ট্রাকে কেমিকেল নিয়ে ভালুকা যাচ্ছি। আগের চেয়ে চার হাজার টাকা ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে। ট্রাকভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে তেল সংকটে একবার ভাড়া বেড়েছে। এবার আবার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ভাড়াও বেড়েছে।  বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের ভাড়া অনেকটা বেড়েছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধি, ফেরি ভাড়া ও টোল আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসার পথে তেমন পণ্য না পাওয়ায় ট্রাক মালিকরা ভাড়াটা বাড়িয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিনিয়তই দুস্প্রাপ্য হয়ে উঠছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন বেনাপোল এই বন্দর থেকে দুই শতাধিক কাভার্ড ভ্যানসহ ৫শ’ পণ্যবাহী ট্রাক সারা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। কিন্তু ট্রাক সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার এন্ড এক্সপোর্টার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান জানান, দেশের সব চেয়ে বড় স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ট্রাক পণ্য আমদানি ও একশ‘ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি-রপ্তানি পণ্য আমরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে পাঠাতে পারছি না। তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে ট্রাক মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছে। তারা বলেছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে তাদের পণ্যের দামও বাড়াতে হবে। যার প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন সংকটের জন্য ট্রাক ভাড়া এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অকেটা বাড়তি। ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করেন লাভের আশায় কিন্তু পরিবহন খরচ এত বেড়েছে যে এতে তাদের লোকসানে পড়তে হবে। কাঁচা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নিত্যপণ্য খালাস করে নিয়ে যাচ্ছেন। তেলের ও ফেরি ভাড়া বৃদ্ধি, ও ট্রাক সংকটের জন্য ভাড়া বেড়ে গেছে। ঢাকায় ট্রাক যাওয়ার পর সেখানে থেকে কোন ভাড়া না হওয়ায় দু‘পাশের খরচ পুষিয়ে নিচ্ছে ট্রাক মালিকরা।এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক ও আমদানিকারক এজাজ উদ্দিন টিপু জানান, তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ট্রাক ভাড়াও বেড়েছে। এতে করে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।উল্লেখ্য রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। এতদিন ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। নতুন দাম রোববার রাত ১২টার পর থেকে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। #

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার শঙ্কা

জ্বালানির দাম বাড়ায় বাস ভাড়া বাড়ল

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে ঢাকা-খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে যাত্রীপ্রতি একলাফে ৫০ টাকা করে বাস ভাড়া বাড়ানোর একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাস মালিকরা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রুটের বাস মালিকদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পরিবহন খাত সূত্রে জানা গেছে।মালিকদের নেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা থেকে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোতে বিদ্যমান নির্ধারিত ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ৫০ টাকা যোগ করে ভাড়া আদায় করা হবে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার দোহাই দিয়ে মালিক সমিতি এককভাবে এই পদক্ষেপ নেয়।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে দূরপাল্লার রুটের নতুন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কিংবা পরিপত্র জারি করার আগেই মালিক পক্ষ একতরফাভাবে এই বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করেছে।সরকারি অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই কাউন্টারগুলোতে যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে দেখা গেছে। প্রশাসনিক তদারকি না থাকলে যেকোনো সময় এটি যাত্রী-শ্রমিক মুখোমুখি সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জ্বালানির দাম বাড়ায় বাস ভাড়া বাড়ল
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream