বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জুয়া-মাদকের আসক্তিই অনেক অপরাধের কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুয়া-মাদকের আসক্তিই অনেক অপরাধের কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো না কোনোভাবে প্রতিটি অপরাধের পেছনে জুয়া অথবা মাদকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ করে যুবসমাজের অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা মাদকাসক্ত হয়ে অপরাধে জড়িয়েছেন অথবা মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে অপরাধ করেছেন। একইভাবে জুয়ায় আসক্তিও নানা অপরাধের পেছনে ভূমিকা রাখছে। আজ বুধবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেপ্তার, বিচার ও সাজা দিলেই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। কেন অপরাধ হচ্ছে, সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে সেই মূল কারণ চিহ্নিত করতে হবে।’ অপরাধকে তিনি উপসর্গের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘জ্বর যেমন কোনো রোগের উপসর্গ, তেমনি অপরাধও অনেক সময় অন্য সমস্যার উপসর্গ। মূল কারণ চিহ্নিত করে সেখানে সমাধান আনতে পারলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব।’ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে র‍্যাবের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখা গেছে, কিছু গুরুতর অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেখা গেছে, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত ছিল। কেউ নেশার কারণে অপরাধ করেছে, আবার কেউ নেশার সামগ্রী কেনার অর্থ জোগাড় করতে অপরাধে জড়িয়েছে। একইভাবে জুয়া ও মাদকের অর্থের প্রয়োজন থেকে একজন অপরাধী আরও নানা অপরাধে জড়িয়েছে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুয়া ও মাদকের জায়গায় যদি নিয়ন্ত্রণ আনা যায়, তাহলে সমাজে অপরাধের হারও কমবে। এ জন্য অপরাধের মূল কারণ নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ জরুরি।’ অনুষ্ঠানে অপরাধের ধরন নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের কারণে অপরাধের ধরনও বদলে গেছে। এখন সাইবার স্পেসে মাদক, জুয়া, ব্ল্যাকমেলসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত করতে শুধু ঘটনাস্থল বা অবস্থান শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; টেলিফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ডিজিটাল তথ্য আদালতে মামলার প্রমাণ হিসেবেও উপস্থাপন করতে হচ্ছে।’ অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হলেও সে অনুযায়ী পুলিশকে এখনো পুরোপুরি আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণে সরকার শিগগিরই সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন ও প্রতিটি ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়েও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। থানা ও উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে কর্মকর্তারা কাজ করবেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার জন্য জেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড এবং ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধের তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক অপরাধই ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে স্ক্যাম ও সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে একাধিক দেশের অপরাধী চক্র জড়িত থাকে। বিভিন্ন দেশে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেলিং-সহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় দেশীয় সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।’ অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টারদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রাইম রিপোর্টিং মূলত ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের সাংবাদিকতায় অনেক পড়াশোনা ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ও সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মকর্তার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান প্রয়োজন হতে পারে।’ ক্রাইম রিপোর্টারদের ঝুঁকি ভাতার দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকি ভাতা মূলত সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে তাদের জন্য কোনোভাবে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা তিনি চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা অথবা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের সহায়তার সুযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রিপোর্টিং এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য ক্রাইম রিপোর্টারদের সনদ দেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন ও সামাজিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়। সে অনুযায়ী আইনও সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করতে হয়। পুরোনো আইনের মাধ্যমে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা অনেক সময় সম্ভব হয় না।’ অনলাইন জুয়ার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পুরোনো জুয়া প্রতিরোধ আইনের মাধ্যমে বর্তমানের অনলাইন ও সাইবার স্পেসভিত্তিক জুয়া মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে আধুনিক আইন করা হয়েছে। সেখানে সাইবার স্পেসে জুয়া, ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ও ফিক্সিংসহ বিভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা এবং শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’ অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা এবং নতুন আইনে কোনো অপরাধের কী শাস্তি রয়েছে, তা মানুষকে জানানো। আইন, বিচারব্যবস্থা, সাংবাদিকতা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ’ অ্যাসিড-সন্ত্রাসের উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সাংবাদিকদের ভূমিকার কারণে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ প্রায় বিলুপ্তির পর্যায়ে এসেছে। একইভাবে অন্যান্য অপরাধও নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে আইনগত ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব।’ ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ ৬১ দিনের বন্দিদশা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের মেঘালয়ে ৯ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবর্ণনীয় ও লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের এই চরম সংকটের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের মানসিক হাসপাতালে কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’ বাংলাদেশে গুম থাকার দিনগুলোর বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহৃত হওয়ার পর তাকে আট বাই চার ফুটের একটি অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে টানা ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। ওই ঘরে কেবল একটি পানির কল এবং শৌচকার্যের জন্য একটি নর্দমার সঙ্গে যুক্ত সরু ছিদ্র ছিল, যা থেকে অনবরত দুর্গন্ধ আসত। মেঝেতে বিছানো একটি কম্বল ও বালিশই ছিল তার শোবার একমাত্র সম্বল। তীব্র গরমের মধ্যে দরজার ওপরের সামান্য ফাঁকা অংশ দিয়ে আসা বাতাসই ছিল তার বেঁচে থাকার ভরসা, কারণ দরজার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা সার্বক্ষণিক সচল রাখা হতো। হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় তিনি কোনো চিকিৎসা পাননি। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময়কার বিবরণ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রথমে একটি মাইক্রোবাসে এবং পরে গভীর রাতে একটি জিপ গাড়িতে করে তাকে অচেনা কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর এক স্থানে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে চামচ দিয়ে নুডলস খাওয়ানো হয়। বন্দি অবস্থায় বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবরও তিনি জানতেন না, যা শুনে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও অবাক হয়েছিলেন। অবশেষে ভোরবেলা একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। অপহরণকারীরা চলে যাওয়ার পর বিলবোর্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন স্থানটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেসামরিক হাসপাতাল এবং পরে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রেখে তাকে জোরপূর্বক মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হতো এবং তার চোখের চশমাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দাড়ি-চুল কেটে দেওয়ায় নিজের পরিচয় হারানোর শঙ্কায় মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি। চরম হতাশার একপর্যায়ে একদিন হাসপাতাল থেকে তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি নিশ্চিত হন যে তার পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সাংবাদিকদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তিনি চিৎকার করে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন’। এরপর ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করে সে দেশের পুলিশ। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন। ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের (স্থায়ী কমিটি) সদস্য করা হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ৯ বছরের নির্বাসন ঘুচিয়ে তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। নিজের বক্তৃতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীরদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ সাবেক এই আমলা ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলের আন্দোলন পরিচালনা করার সময় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream