রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সিলেটে এসএসসির ফলে ধস, ১৮ বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার

সিলেটে এসএসসির ফলে ধস, ১৮ বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এ বছর বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ,যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন,গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন।সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট। সর্বশেষ ২০০৮ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ড সচিব চৌধুরী মামুন আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৫ হাজার ৪৩৮ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন। তাদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ।অন্যদিকে ৫৩ হাজার ৬৪১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৮ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।মোট ৩ হাজার ৮৩৬ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৯১ জন মেয়ে এবং ১ হাজার ৭৪৫ জন ছেলে।বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে। এ বিভাগ থেকে ৩ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৬৮৪ এবং মেয়ে ১ হাজার ৯২৪ জন।মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১২০ জন। তাদের মধ্যে ছেলে ২৪ এবং মেয়ে ৯৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩৭ এবং মেয়ে ৭১ জন।তবে সামগ্রিক ফলাফলে মানবিক বিভাগের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এ বিভাগে উত্তীর্ণের চেয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২ হাজার ১৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৩ জন।মৌলভীবাজার জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ জেলার ১৯ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ হাজার ১০৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন।সুনামগঞ্জে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ জেলায় ১৮ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৯৯৯ জন। হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৯৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন।জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও চার জেলার মধ্যে সিলেট শীর্ষে। এরপর রয়েছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন।বোর্ডের অধীনে এবার ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ছিল সাতটি,এবার তা বেড়ে হয়েছে নয়টি। তবে শতভাগ ফেল করা কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে,এবার ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফল। এ দুটি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতিও রয়েছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং মানসম্মত শিক্ষকের সংকটও ফল বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন,ইংরেজি ও গণিতে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে আগামীতে ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।পাসের হারে বড় ধরনের পতন হলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবেই নিজেদের সাফল্যকে দেখছে তারা।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream