হলিউডে যাওয়ার আগেই বিতর্কে সায়নী
বলিউড অভিনেত্রী সায়নী গুপ্তা হলিউডে অভিষেকের খবরে যখন আলোচনায়, নতুন এক বিতর্কে ঠিক তখন জড়াল তাঁর নাম। এই অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায়ও নিজের পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ‘আসমানি’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু সেই ছবি ঘিরে উঠেছে স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ। অভিযোগের জেরে আইনি জটিলতায় পড়েছেন সায়নী।
‘আসমানি’ ছবিটি তার অসম্পূর্ণ তথ্যচিত্র ‘প্রভা’ থেকে নেওয়া হয়েছে– এমন অভিযোগ তুলেছেন পরিচালক ও এফটিআইআইয়ের সাবেক ছাত্রী বিনীতা নেগি। তাঁর দাবি, ছবিটির গল্প ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাঁর নির্মাণাধীন তথ্যচিত্রের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এ নিয়ে সায়নী গুপ্তার বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘন ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন সায়নী।
তাঁর পালটা দাবি, বিনীতার অভিযোগ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। বিষয়টি নিয়ে শুধু বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে থেমে থাকেননি অভিনেত্রী; পরিচালকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছেন।
সায়নীর আবেদনে মূলত কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কপিরাইট আইন কোনো সৃষ্টিশীল কাজের সাধারণ ধারণা বা মূল ভাবনাকে একচেটিয়াভাবে সুরক্ষা দেয় না; বরং সুরক্ষা দেওয়া হয় সেই ভাবনার মৌলিক প্রকাশভঙ্গিকে। ফলে একটি ছবিতে বয়স্ক নারী, গাড়ি, চালক কিংবা এ ধরনের সাধারণ উপাদান থাকলেই সেটিকে অন্য কোনো সৃষ্টিশীল কাজের অনুকরণ বলা যায় না।
বিতর্কটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, বিনীতা নেগি ২০২৬ সালের এপ্রিলে স্ক্রিন রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। সায়নীর মামলার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযোগের প্রভাব তাঁর ছবির পেশাগত যাত্রাতেও পড়েছে। এমনকি ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব নিউজিল্যান্ড’ থেকে ‘আসমানি’-কে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা চেয়েছেন সায়নী। তাঁর আবেদনের শুনানির বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা ছিল। তবে বিতর্কটি সায়নীর জন্য একেবারে নতুন নয়। এর আগেও ‘আসমানি’ নিয়ে নকল করার অভিযোগ উঠলে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘আসমানি একটি মৌলিক ছবি। এতদিন আমি কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই নীরবতার অর্থ এই নয় যে আমি অভিযোগ মেনে নিয়েছি কিংবা আমার বলার মতো কিছু ছিল না।’
অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে সায়নী গুপ্তার। হিন্দি টেলিভিশন, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এবার পরিচালনায় এসে নিজের সৃষ্টিশীলতার অন্য দিকটি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি হলিউডে অভিষেকের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই নতুন অধ্যায়ের শুরুতে ‘আসমানি’ ঘিরে তৈরি হওয়া এই আইনি বিতর্ক তাঁর ক্যারিয়ারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
একদিকে ছবির স্বত্ব নিয়ে আইনি লড়াই, অন্যদিকে ছবির প্রদর্শন ও পেশাগত যাত্রায় তার প্রভাব– সব মিলিয়ে ‘আসমানি’ এখন শুধু একটি চলচ্চিত্রের নাম নয়, বরং সায়নী গুপ্তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত আইনের চোখে কার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।