বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই বিক্ষোভ বন্ধ: রাহুল গান্ধী

জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই বিক্ষোভ বন্ধ: রাহুল গান্ধী

ভারতের দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘মোদিজিকে বলুন জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে। তাহলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে।’ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটসহ কয়েকটি সংগঠন। এই আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা।আগামী ১ নভেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ডাকে রামলীলা ময়দানে সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই)। এ বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে একটি খোলাচিঠিও দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে উৎসবের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।মঙ্গলবার সকালে সেই চিঠির জবাব দেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করা হলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। উত্তর ভারতের উৎসব মৌসুম ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। ৬ নভেম্বর ধনতেরাস, ৮ নভেম্বর দীপাবলি, ১০ নভেম্বর ভাইফোঁটা উল্লেখ করে সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল রাহুলকে ওই চিঠিতে লিখেছিলেন, ১০ তারিখ পর্যন্ত দয়া করে আন্দোলন বন্ধ রাখুন। ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানে অভিযান স্থগিত না করলে তাঁদের ১০ হাজার কোটি রুপির বাণিজ্য ক্ষতি হবে। তিনি লেখেন, সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার কোটি রুপি। রামলীলা ময়দানের আন্দোলন পিছিয়ে না দিলে তাঁদের পথে বসতে হবে। ওই চিঠির জবাবে রাহুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ মঙ্গলবার ভোরে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ওই ‘পোস্ট’ করেন। ১ নভেম্বরের রামলীলা অভিযানের পোস্টারের প্রতিলিপির সঙ্গে সেই ‘পোস্টে’ তিনি ইংরেজি ও হিন্দিতে দিল্লির প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ‘আমি আপনাদের ভালোবাসি ও আপনাদের কথা শুনি’ লিখে বলেছেন, ‘সরকার মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে, রাস্তা সিল করে দিয়ে রাজধানীতে লকডাউন চালু করেছে। যখন সাধারণ মানুষের ভোট চুরি হয়, তখন কোনো কিছুই আর নিরাপদ থাকে না। আপনাদের দোকান, সঞ্চয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ—কোনো কিছুই নিরাপদ থাকে না। আপনারা মোদিকে বলুন, ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে, ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে।’ ভোট চুরির অভিযোগের সময় রাহুল কংগ্রেস সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের সময় বারবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালদের ছবি রেখেছিলেন। ব্যবসায়ীদের দেওয়া উত্তরে তিনি অবশ্য ১, ২ ও ৩ নম্বর অভিযুক্ত কারা, তা উল্লেখ করেননি। শুধু বলেছেন, ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেই যাবতীয় বিক্ষোভ ও আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। রাহুলের বার্তার আগে গতকাল সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাগড়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ এনে বলেন, অসংখ্য ভোট চুরির তথ্য ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে সরকার সব কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। খাড়গের এই অভিযোগ করার কারণ তথ্য জানার অধিকার সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তা দিতে অস্বীকার করা। এসআইআরের সময় ভোটারদের তথ্য যাচাই ও অসংগতি দূর করতে কোন প্রযুক্তি বা ‘সফটওয়্যার’ ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরটিআইয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিশন তা জানাতে অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা ও বাণিজ্যিক আস্থা রক্ষা এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকারের দরুন ওই তথ্য দেওয়া যাবে না। আরটিআই মারফত ওই তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন তেলেঙ্গানার সমাজকর্মী এম এ মুজিব আইয়ুব। তাঁর আরজি ছিল, ভোটার তালিকার ভুল ও অসংগতি চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং বা স্বয়ংক্রিয় প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিকসের ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে কোন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন তা জানানো হোক। খাড়গে ওই পোস্টে সবাইকে রামলীলা ময়দানে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, শুধু ভোট নয়, এই লড়াই গণতন্ত্র বাঁচানোর সংগ্রাম। তিনি বলেছেন, উত্তর প্রদেশে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ফর্ম ৬–এর আবেদনের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ওই রাজ্যেরই বিধানসভা কেন্দ্র পিলিভিটে ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের রেকর্ডে অনিয়ম রয়েছে। কমিশন বাধ্য হয়েছে রাজ্যজুড়ে ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিতে। নতুন ভোটার নিবন্ধনের তালিকা হলো ফরম ৬। আর ৭ হচ্ছে ভোটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ফরম। আর ফরম ৮ হচ্ছে ভোটারের নিবন্ধন পরিমার্জনের আবেদনপত্র। ২১ অক্টোবর পিলিভিট বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বিপুল অসংগতি লক্ষ করার পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা ওই তিন ফরম খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই নির্দেশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটারের ফটো, পরিচয়পত্র নম্বর ও ক্রমিক নম্বর অপরিবর্তিত রয়েছে অথচ এমন হাজার হাজার ভোটারের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর কনভয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কা, আহত বেশ কয়েকজন

ভারতের উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কনভয়ের পাঁচটি গাড়ির সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধী নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।পুলিশ জানায়, রাজ্যের রাজধানী লখনৌ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের হালিয়াপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। কনভয়ের পেছনের দিকে থাকা পাঁচটি গাড়ি সংঘর্ষে জড়ায়।আহতদের মধ্যে কংগ্রেসের দলীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন।দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি ডান পাশের দ্রুতগতির লেনে চলছিল। অন্য লেনগুলোতেও অনেক গাড়ি কাছাকাছি অবস্থানে ছিল।সংঘর্ষের পর একটি স্করপিও গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ফুটেজে গাড়িটিকে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে থেমে থাকতে দেখা গেছে। রাহুল গান্ধী আজ (সোমবার) লখনৌ বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। সেখান থেকে তার কনভয় প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরের সুলতানপুরের দিকে রওনা হয়। গন্তব্য থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সুলতানপুরে একটি বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল রাহুলের। বিজেপির সভাপতি থাকার সময় অমিত শাহর বিরুদ্ধে কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানি মামলায় তার হাজিরা দেওয়ার কথা। আজই মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায় রায় ঘোষণার সময় এই কংগ্রেস সংসদ সদস্যের সশরীরে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিল।

রাহুল গান্ধীর কনভয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কা, আহত বেশ কয়েকজন

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা।শনিবার আন্দোলন দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এ সময় সিজেপির নেতা, বিরোধী দলের নেতাসহ হাজারো মানুষকে আটক করা হয়।পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসব আটকের ঘটনাকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর রোববার আটক অনেককে মুক্তি দেওয়া হয়।মুক্তি পাওয়ার পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ভারতের ইতিহাসে মোদির চেয়ে বড় কাপুরুষ ও দাদাগিরি করা নেতা আর আসেননি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (এসআইআর) নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি ত্রুটি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে দুজন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবারের বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে খোদ কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। বিক্ষোভকারীরা যাতে ভারতের পার্লামেন্টের কাছে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও আটকে দেওয়া হয়। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় যন্তর মন্তরও। এর আগে গত জুলাইয়ে এই যন্তর মন্তরেই সিজেপির বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হওয়া ওই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল নিটসহ একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায়। এবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে ২ কোটি মানুষের শহর নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। বাসে তল্লাশি চালানো হয়, যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। সড়কে ব্যারিকেড ও কংক্রিটের প্রতিবন্ধক বসানোয় যান চলাচল ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামযুক্ত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানও মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শহরজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠন যাতে অনলাইনে লোকজনকে সংগঠিত করতে না পারে, সে জন্য রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট–সেবাও বন্ধ রাখা হয়। মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর একটি উড়োজাহাজ থেকেই আটক করা হয় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দিপকে এবং তাঁর সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। ইনস্টাগ্রামে অভিজিতের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজটি অবতরণের পর পুলিশের একটি দল ভেতরে ঢুকছে। পুলিশের সদস্যরা তাঁর কাছে এগিয়ে গেলে দিপকে বলেন, ‘আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি। আপনাদের ভয় পাই না।’ রাঙ্কার পোস্ট করা আরেকটি ভিডিওতে দিপকে বলেন, ‘এটা স্বৈরাচারী শাসন।’ দিল্লি পুলিশ জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং বামপন্থী সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করে। সংগঠনটি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) সঙ্গে যুক্ত। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিরোধী রাজনীতিকদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছিল। এত ধরপাকড়ের মধ্যেও দিল্লির কয়েকটি স্থানে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে জনপ্রিয় হস্তশিল্পের বাজার দিল্লি হাটও ছিল। তবে পুলিশ সেসব বিক্ষোভও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়। মুম্বাইয়েও বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। গতকাল রোববার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সিজেপির নেতাদের এক বছরের জন্য ‘শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার’ শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির পর গতকাল বিকেলে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেন সিজেপির নেতা সৌরভ দাস। তিনি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, পুলিশ ‘মাফিয়া ডনদের মতো’ আচরণ করেছে এবং উড়োজাহাজের ভেতর থেকে তাঁদের অপহরণ করেছে। মুক্তির পর ধ্রুব রাঠি বলেন, তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার নয়, ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নিউজলন্ড্রি জানিয়েছে, আটক করার সময় তাঁদের কয়েকজন প্রতিবেদকের সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের সাময়িকভাবে আটক করার খবরে উদ্বেগ জানিয়েছিল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘পুলিশের সদস্যরা যেমন তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন, সাংবাদিকেরাও তেমনি তাঁদের কাজ করছেন। গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম অপরিহার্য।’ সিজেপির নেতারা দিল্লিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকালও সংগঠনটির কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতির জন্য আজ সোমবার তাঁরা পুলিশের সঙ্গে দেখা করে অনুমতি চেয়েছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের সেখানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এখন তাঁরা নতুন করে জ্ঞানেশবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে মুক্তি পাওয়ার পর সৌরভ দাস এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখেন, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করেছেন এবং নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সৌরভ দাস আরও লিখেছেন, তরুণ প্রজন্ম জবাবদিহি দাবি করে যাবে। ভয় দেখিয়ে বা কণ্ঠ রোধ করে তাদের থামানো যাবে না। তারা আরও শক্তি নিয়ে ফিরে আসবে। সিজেপি গতকাল সন্ধ্যায় মুম্বাইসহ ভারতের অন্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা গতকাল বিকেলে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে কে আশ্রমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। পরে তাঁকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া ব্লক। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিতে আগের দিন বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশকে বিদায় নিতেই হবে। আমরা পিছু হটব না।’ বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কয়েক মাস ধরে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে নির্বাচনসংক্রান্ত বিক্ষোভের ঘটনায় তাঁকেও অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, আটক, গ্রেপ্তার, কারাগার, লাঠিপেটা কিংবা ছররা গুলি ভারতের মানুষকে দমাতে পারবে না। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই তরুণেরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে দুজন প্রশ্ন তুলেছিলেন। এরপরই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়। বিজেপির দাবি, বাদ পড়া ১৩ কোটি নামের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তির, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে গেছেন, ১ কোটি নাম একাধিকবার রয়েছে এবং ৩ কোটি ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি। ক্ষমতাসীন দলটির বক্তব্য, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে মোদির জনপ্রিয়তা ও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেছে বিজেপি। তবে বিক্ষোভ এখন শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি মোদি সরকারের আমলে গণতন্ত্র, ভিন্নমত প্রকাশ এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। এর আগে জুলাইয়ের বিক্ষোভের সময় সরকার তরুণ সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাময়িকভাবে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু এবার সাংবিধানিক ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পদত্যাগের দাবির মুখে সরকার অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিজেপির নেতারা বিক্ষোভ ও অনলাইনে সরকারের সমালোচনাকে জনসাধারণের বৈধ ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে না দেখে সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পিত রাজনৈতিক চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছেন। শনিবার বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বিক্ষোভকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের ‘ব্যর্থ প্রদর্শনী পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে’। সম্বিত পাত্র আরও বলেন, যন্তর মন্তরে যা ঘটছে, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যা দেখানো হচ্ছে, তা ভারতের সামগ্রিক চিত্র নয়। তাঁর দাবি, ভারতের পরিস্থিতি শান্ত। তবে আল–জাজিরার সঙ্গে কথা বলা সমালোচক ও বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি মেনে নিলে ভোট চুরির বিষয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে সচেতন প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতাও প্রকাশ পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হার্ড নিউজ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই চান না, মোদির বিজেপি ক্ষমতায় থাকুক। তাঁর ভাষায়, মোদি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। সঞ্জয় কাপুরের মতে, বিজেপি ভয় পাচ্ছে, জনমত দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় ফিরে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা

মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। এর আগে এক পুরোনো হত্যা মামলায় কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই—এর খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার ‘কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়’, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণতন্ত্রের হত্যা।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বিশ্বাস নেই। এ কারণেই তারা কখনো ভোট চুরি করে, কখনো সরকার চুরি করে এবং কখনো দল চুরি করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। তারা নির্বাচনে লড়তে চায় না; তারা পুরো নির্বাচনী লড়াইটাই শেষ করে দিতে চায়। কংগ্রেস ভয় পাবে না, মাথা নত করবে না। আমরা লড়ব এবং জিতব।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি গ্রেপ্তারকে ‘ভোট চুরি’ এবং ‘চুনাব (নির্বাচন) চুরি’র নির্লজ্জ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। খাড়গে বলেন, ‘বিজেপি এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে যে একটি উপনির্বাচনেও তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অপব্যবহার করে বিরোধী দলের একজন প্রার্থীকে নিশানা করে গ্রেপ্তার করছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ‘গণতন্ত্রের মা’ বলে গর্ব করেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যা করছে, তা গণতন্ত্রের হত্যা। কংগ্রেসকে ভয় দেখানো বা চুপ করানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ ইন্ডিয়া জোট এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে।’ কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই, কোনো কারণ ছাড়াই স্থানীয় পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন এবং জেলার জেলা কালেক্টর তথা রিটার্নিং অফিসারের সামনে শপথ নিয়েছেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে সময় তিনি কোনো বাধা ছাড়াই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাকে সমর্থন করছে, তখন বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে এবং হতাশা থেকে আমাদের সম্ভাবনা নষ্ট করতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’ ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক অন্তর্বর্তী আদেশের পরপরই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকেই তাদের মূল নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ বা ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয় ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। দলীয় সাংগঠনিক বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন উপনির্বাচনগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এই আদেশের এক দিন পর মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তারের সঙ্গে তাঁর দলের সমর্থন ঘোষণার সময়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে আমরা সমর্থন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই সময় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এটি বিজেপির চেনা ফর্মুলা—পুরোনো মামলা খুঁজে বের করা। কিন্তু এখন কেন? ঠিক তখনই কেন, যখন আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করলাম?’ তবে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারকে সমর্থন করেছেন। রাহুল গান্ধীর পোস্টের জবাবে তিনি এক্সে বলেন, ‘আমরা, ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনের সময় পরোয়ানা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্ব সম্ভবত বিষয়টির প্রকৃত বিবরণ রাহুল গান্ধীকে জানায়নি।’ তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠীর নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘সিস্টার পার্টি’ বা বোনের মতো দল বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি রাহুল গান্ধীর নির্বাচন কমিশনের সমালোচনার জবাব দেন। তিনি কংগ্রেসের শাসনামলের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আজ তাঁর নিজের দলের অন্ধকার ইতিহাসই তুলে ধরেছেন। এটা কি সত্য নয় যে ১৯৮০ সালে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে দেশের ৯টি রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করেছিল? এটা কি সত্য নয় যে ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের সময় কংগ্রেস সরকার বিহার বিধানসভা ভেঙে দিয়েছিল? এই কাজকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী কেন বারবার নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন? রাহুল গান্ধী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?’ বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রও নির্বাচন কমিশনের আদেশ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘প্রথমত, রাহুল গান্ধী ভারতের বিচারব্যবস্থার প্রতি কোনো সম্মানই দেখান না। এখানে একটি বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তার ভিত্তিতে একটি রায় দেওয়া হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর আসন ধরে রাখেন। ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী উভয়ের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আসন। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন নন্দীগ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত করে। উপনির্বাচনে বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। ৬ অক্টোবরের ভোট যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের লড়াই ততই সাধারণ উপনির্বাচনের সীমা ছাড়িয়ে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে। দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত সমঝোতা এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream