মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
রংপুরের হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী

রংপুরের হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রংপুরে সাবেক শিক্ষক ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হতো বলে মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, সবাইকে রংপুরের ঘটনা কাঁদিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি এ ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অপরাধ করলেই তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আরও উত্তরণ ঘটাতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের কোথাও কোনো ধরনের মাদক থাকা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে মাদক কারবারীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়—এটাই সবার প্রত্যাশা। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে মানবজীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব। এর মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে। রিজভী আরও বলেন, বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা গণমাধ্যম, জনগণ এবং তৃণমূলের সামনে জবাবদিহি করছেন।

রংপুরে চার হত্যা: আসামির শার্ট নিয়ে রহস্য

রংপুরে মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গায়ে যে ধরনের শার্ট দেখা যায়, গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের শরীরেও একই ধরণের শার্ট দেখা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই পোশাক বা ডিজাইনের শার্ট আলাদা একাধিক ব্যক্তির থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।তদন্ত ও মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ইন্টারনেটে যে গুঞ্জন ওঠে, সেটিকে "একান্তই কাকতালীয়" বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়।অভিযুক্তরা নেশা করার জন্য পাশে অনেক ফাঁকা স্থান থাকা সত্ত্বেও কেন নিহত গণপতির বাড়ির ছাদকেই বেছে নিয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক তদন্তের গতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই সব স্পষ্ট হবে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। ইয়াবা সেবনের জন্য পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন; সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে আস্থা রাখার কথাও বলেন। এর মধ্যে রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।  তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডের সময়কার গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

রংপুরে চার হত্যা: আসামির শার্ট নিয়ে রহস্য

রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ছাদে উঠে ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ করায় পুরো পরিবারটিকে একে একে শ্বাসরোধ ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই তরুণকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।​আজ রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।​আটক হওয়া দুই অভিযুক্ত হলেন—স্থানীয় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের সন্তান মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের সন্তান সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।​পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত দুজন পাশের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির ছাদে গিয়ে মাদক সেবনে লিপ্ত হয়। ওই সময় গৃহকর্তা গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা গণপতির গলার গামছা দিয়েই তাকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে।​স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী দ্রুত এগিয়ে এলে তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। স্বজনদের আকুতি শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছুটে এলে তাকে প্রথমে কাপড় ও পরে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষে নিচতলায় গিয়ে শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।​সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়ির বাথরুম ব্যবহার করে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিল ও ফ্রিজ থেকে খাবার এনে খায় এবং পুনরায় মাদক সেবন করে। অপরাধের প্রমাণ ঢাকতে ও ঘটনাটিকে 'ডাকাতি' হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে তারা ঘরজুড়ে তছনছ করে অলংকারাদি লুট করে। পরে দিনের বেলা জুমার নামাজের সময় বাড়িটিতে বাইর থেকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত মালামাল।​উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাতে বন্ধ ঘর থেকে জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর সহধর্মিণী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কন্যা প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং কনিষ্ঠ পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।​পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে।

রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream