শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
প্যারিসের কাছে তিন থিম পার্ক নির্মাণে সৌদির বিপুল বিনিয়োগ, বাড়ছে প্রশ্ন

প্যারিসের কাছে তিন থিম পার্ক নির্মাণে সৌদির বিপুল বিনিয়োগ, বাড়ছে প্রশ্ন

তিনটি বিশাল থিম পার্ক নির্মাণে প্যারিস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেরজি-পন্তোয়াজ এলাকায় সৌদি আরবের প্রায় ছয় বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফরাসি সরকারের কাছে এটি বড় বিদেশী বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, এটি কি শুধুই বিনোদন খাতে বিনিয়োগ, নাকি এর মাধ্যমে সৌদি আরব ইউরোপে নিজের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আরো বাড়াতে চাইছে? ফরাসি গণমাধ্যম ল্য মোঁদ এর সূত্রমতে, গত ২৪ আগস্ট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান তাদের বৈঠকের সময় সেরজি-পন্তোয়াজে এই বিশাল বিনোদন প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে তিনটি বড় থিম পার্কের পাশাপাশি হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হতে পারে। পুরো প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ছয় বিলিয়ন ইউরো হতে পারে। প্রকল্পটির পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের কিদ্দিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা কিউআইসি। এটি সৌদি আরবের বিশাল সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পিআইএফ সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে পর্যটন, বিনোদন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাত গড়ে তুলতে এই তহবিল বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পিআইএফ-এর সম্পদের পরিমাণ ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ছিল। এর ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির প্রভাব বিস্তারেও পিআইএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এই বিপুল অর্থের উৎস নিয়েই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে সৌদি আরবের পিআইএফ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে উপকৃত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ডকে সহজতর করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। এইচআরডব্লিউ-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের অ্যাডভোকেসি ও যোগাযোগ পরিচালক আহমেদ বেনশেমসিফ্রান্সের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ যত বড়ই হোক না কেন, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং অতীতে সৌদি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কী ধরনের মানবাধিকার অভিযোগ জড়িত ছিল, সেদিকেও নজর দিতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনটির ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে সৌদি পিআইএফ-এর সম্পদ ও কার্যক্রমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওই সময় দেশটির বহু ধনী ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব সম্পদের একটি অংশ পরবর্তীতে পিআইএফ-এর আর্থিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সৌদি সরকার অবশ্য ওই অভিযানকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সৌদি আরবের বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিভিন্ন অংশ অস্বীকার করেছে। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি যুবরাজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব বিপুল অর্থ ব্যয় করে খেলাধুলা, বিনোদন, পর্যটন ও সংস্কৃতিতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল, গলফ, বক্সিং, ই-স্পোর্টস, চলচ্চিত্র, সংগীত এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে সৌদি অর্থের উপস্থিতি ক্রমেই দৃশ্যমান হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কৌশলকে অনেক সময় স্পোর্টসওয়াশিং বা খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের বিতর্কিত ভাবমূর্তি আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছে। বৃহত্তর অর্থে এটিকে সৌদি আরবের সফট পাওয়ার, অর্থাৎ সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সেরজি-পন্তোয়াজের থিম পার্ক প্রকল্প সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ কি না, সেটিই এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। কারণ ফ্রান্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশে ছয় বিলিয়ন ইউরোর বিনোদন প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি তৈরির মাধ্যমও হতে পারে। প্রকল্পটির জন্য যে এলাকাটি বিবেচনা করা হয়েছে, তারও একটি বিশেষ ইতিহাস রয়েছে। সেখানে একসময় মিরাপোলিসনামে একটি বড় থিম পার্ক ছিল। ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া মিরাপোলিস ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সেই এলাকায় আবার একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সেরজি-পন্তোয়াজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও প্রকল্পটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকের মতে, নতুন থিম পার্ক নির্মাণ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, স্থানীয় ব্যবসা লাভবান হবে এবং অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। অন্যদিকে পরিবেশের ওপর চাপ, যানজট, পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর বাড়তি বোঝা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশাল এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু থিম পার্ক নয়, এর আশপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতও সম্প্রসারিত হতে পারে। ফলে সেরজি-পন্তোয়াজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পার্কগুলোর একটি জাপানি জনপ্রিয় মাঙ্গা ও অ্যানিমেশন সিরিজ ড্রাগন বল-কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের অন্যতম বড় অ্যানিমেশনভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত নকশা, লাইসেন্স, নির্মাণের সময়সূচি এবং অর্থায়নের কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এই কারণেই ছয় বিলিয়ন ইউরোর ঘোষণাকে এখনই সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জমি ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হওয়ার পরই এর প্রকৃত রূপ পরিষ্কার হবে। ফ্রান্সের জন্য বিষয়টি তাই একদিকে অর্থনৈতিক সুযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিপুল বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও পর্যটন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একই সাথে বিনিয়োগের অর্থের উৎস, সৌদি আরবের মানবাধিকার রেকর্ড এবং এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে। সৌদি আরবের জন্যও ফ্রান্সে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক। পিআইএফ ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়া, প্রযুক্তি, বিনোদন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করছে। ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি ফ্রান্সে একটি বড় বিনোদন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা হলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উপস্থিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দেশটির নতুন আধুনিক ভাবমূর্তিও ইউরোপীয় দর্শকদের কাছে আরও দৃশ্যমান হবে। এখানেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল আপত্তি। তাদের প্রশ্ন, একটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা চলার সময় সেই দেশের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের অর্থে ইউরোপে বিশাল বিনোদন প্রকল্প গড়ে উঠলে সেটিকে শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত কি না। অন্যদিকে ফরাসি সরকারের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ফ্রান্সের ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও মানবাধিকার মূল্যবোধ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফ্রান্সের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সেরজি-পন্তোয়াজে সৌদি অর্থায়নে থিম পার্ক শেষ পর্যন্ত নির্মিত হলে এটি শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র হবে না। এটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর, পিআইএফ-এর বৈশ্বিক সম্প্রসারণ, ইউরোপে সৌদি সাংস্কৃতিক উপস্থিতি এবং দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের কৌশলের একটি দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাই ছয় বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু শুধু অর্থ নয়। প্রশ্ন রয়েছে—অর্থের উৎস কী, সেই অর্থ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, বিনিয়োগের বিনিময়ে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হবে এবং ফ্রান্স এই বিনিয়োগ গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব দেবে। সেরজি-পন্তোয়াজের ভবিষ্যৎ থিম পার্ক তাই একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার গল্প, অন্যদিকে সৌদি আরবের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়। প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা বড় হয় এবং এর সাথে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সৌদি আরবের সফট পাওয়ার কতটা বিস্তৃত হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সোমবার (২৪ আগস্ট) ফ্রান্স সফরের সময় চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় জেদ্দা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং রিয়াদ মেট্রোর জন্য নতুন ট্রেন সরবরাহ করা হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিজে প্রাসাদ জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম ও আলস্টমের সৌদি আরবের সাথে চুক্তিগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো। এসব চুক্তিকে সৌদি আরবের পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটিকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তির একটি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম এবং জেদ্দা বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর মধ্যে। এর আওতায় লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত জেদ্দা বন্দরে একটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে প্রায় ৪৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৩৭২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে জেদ্দা বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টার্মিনালে গভীর পানির নতুন জাহাজ নোঙরের স্থান বা জেটি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেইনারবাহী জাহাজগুলোও সেখানে সরাসরি নোঙর করতে পারবে। পাশাপাশি বন্দরের কনটেইনার ওঠানামা ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বছরে প্রায় ২৬ লাখ টিইইউ বাড়বে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৬ লাখ ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমমানের কনটেইনার অতিরিক্তভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সিএমএ সিজিএম জানিয়েছে, এই অংশীদারত্ব জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সৌদি আরবের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সাথে প্রকল্পটিকে যুক্ত করেছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে জেদ্দা বন্দর ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সৌদি আরবের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় ধরনের চুক্তি হয়েছে। ফরাসি রেল ও পরিবহন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলস্টম এবং রয়্যাল কমিশন ফর রিয়াদ সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত মেট্রো ট্রেন সরবরাহ করবে আলস্টম। এ চুক্তির মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। রিয়াদ মেট্রো সৌদি আরবের অন্যতম বড় নগর পরিবহন প্রকল্প। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেট্রো ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে সৌদি সরকার। অতিরিক্ত ট্রেন যুক্ত হলে বিদ্যমান মেট্রো লাইনগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে আলস্টমের সাথে সৌদি আরবের সহযোগিতা শুধু ট্রেন সরবরাহে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুই পক্ষ রিয়াদ মেট্রোর প্রস্তাবিত ৭ নম্বর লাইনের জন্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরে মেট্রো ট্রেনের সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি কারখানা স্থাপনের বিষয়েও একটি চুক্তি করেছে। নতুন কারখানাটি রিয়াদ মেট্রোর ৭ নম্বর লাইনের জন্য ট্রেন সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলস্টম ও রিয়াদ নগরীর রয়্যাল কমিশন জানিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে আলস্টমের বিনিয়োগ ও স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং রেল খাতে দক্ষ লোকবল তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর সাথেও এসব প্রকল্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, শিল্প, পরিবহন, লজিস্টিকস ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। ফ্রান্সের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো সেই কৌশলেরই আরেকটি উদাহরণ। জেদ্দা বন্দরের সম্প্রসারণ সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একইসাথে রিয়াদ মেট্রোর সম্প্রসারণ রাজধানীর নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করার সুযোগ তৈরি করবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্যারিস সফরের সময় স্বাক্ষরিত এসব চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি সৌদি আরবের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও পরিবহন রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের

চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে পরপর চারটি রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে গত বছরের গ্রীষ্মের তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষের। মহাদেশটির অর্ধেকেরও কম এলাকার অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় তিন দেশেই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাথমিক জাতীয় হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মে মাস থেকে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। শত শত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বকালের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। ফ্রান্সে জাতীয় গড় তাপমাত্রার হিসাবে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মানিতে জুনের শেষ দিকে টানা তিন দিন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। ওই সময় দেশটির ৪৬টি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। স্পেনেও দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলোর তীব্রতাও বাড়ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে জার্মানিতে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন। শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের এক সপ্তাহেই ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই। ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা ইইউর অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর চলতি বছরের জুনের ওই সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হার দেখা গেছে। তবে ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারি তখনও সক্রিয় ছিল। রেকর্ড রাখা শুরুর পর জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যুর জন্য ২০২৬ সালই সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। এর আগে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, যখন ৮ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আরকেআই জানিয়েছে, স্বাভাবিক গ্রীষ্মে জার্মানিতে তাপজনিত মৃত্যু সাধারণত ২ হাজারের নিচে থাকে। স্পেনের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউটের মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অনুযায়ী, মে মাস থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে তাপের কারণে ৪ হাজার ৯৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সাল স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন ৪ হাজার ৫২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন দেশ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব ভিন্ন পদ্ধতিতে করে। স্পেন ও জার্মানি তাৎক্ষণিকভাবে মডেল ব্যবহার করে তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে কতজনের মৃত্যু তাপের কারণে হয়েছে, তা অনুমান করা হয়। এ ধরনের হিসাবের প্রয়োজন হয় কারণ মৃত্যুসনদে খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি ‘তাপ’কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকেই থাকা শ্বাসতন্ত্র বা হৃদ্রোগের মতো অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে, স্ট্রোক করে বা কিডনি বিকল হয়ে মারা যেতে পারেন। তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো আগস্টের শুরুর দিকের মৃত্যুর হিসাবও প্রকাশ করেনি। জার্মানির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ গত সপ্তাহে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সংখ্যাগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় কম বলে প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফ্রান্সে ৫০০ টিরও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে দেশটির ৯৮ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় ছিল। ফ্রান্স প্রথমে সব ধরনের মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করে। পরে বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কতজনের মৃত্যু তাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল, তা নির্ধারণ করা হয়। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ দিক থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩০০। তবে আগস্টের তথ্য তখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক এই হিসাব ইলেকট্রনিক মৃত্যুসনদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশটির মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের তথ্য ধারণ করে। ইতালির জাতীয় তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভাগুলোর তথ্য ব্যবহার করে। ফলে দেশটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর হিসাব প্রকাশে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। এখন পর্যন্ত ইতালি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ না করে অসম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক সূচক দিয়েছে। মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যেই ইতালিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন বেশি মারা গেছেন। মহামারিবিদরা বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব সম্পন্ন হলে ইতালিতে তাপের সঙ্গে সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ৮ হাজারের মধ্যে হতে পারে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জুলাইয়ে জানিয়েছে, তাদের মডেল অনুযায়ী মে ও জুনের তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২ হাজার ৮৭৭ জনের তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়াম জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যুহার ৩৯ শতাংশ বেড়েছিল। এর অর্থ ওই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জন মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, ২২ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৯০০ জন বেশি মারা গেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের উদ্ধৃত একটি দ্রুত মডেলিং গবেষণায় বলা হয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহের সময় পোল্যান্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় আরও ১ হাজার ৭০ জন মারা গেছেন। সুইজারল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একই সপ্তাহে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২০। লুক্সেমবার্গ, গ্রিস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ডেনমার্কের প্রাথমিক হিসাবেও প্রতিটি দেশে প্রায় ৪০টি করে অতিরিক্ত মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের যেসব এলাকায় ৮ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন, সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে জানিয়েছিল, গত ২০ বছরে তাদের ইউরোপীয় অঞ্চলে তাপজনিত মৃত্যুহার ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জলবায়ু সংকটের কারণে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বাড়বে। চলতি গ্রীষ্মের পরপর চারটি তাপপ্রবাহ সেই ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ পূর্বাভাস হয়ে উঠেছে। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া ৩৫ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাবও চূড়ান্ত নয়। আগস্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহে প্রাণ গেল ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের

টর্নেডোর তাণ্ডবে থমকে গেল ফ্রান্সের জনজীবন

সোমবার (২৪ আগস্ট) ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি গ্রামের ওপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে গেলে এতে ৪১ জন আহত এবং কয়েক শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়ের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছিল ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। এ সময় বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ আউদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ভুয়েলতা আ এস্পানা সাইক্লিং প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপ বাতিল করে। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সাইক্লিস্টরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রায় এক হাজার বাসিন্দার গ্রাম পোমায় টর্নেডোর আঘাত ছিল সবচেয়ে বেশি। এতে আনুমানিক ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো বাড়ির ছাদও উড়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ১২০ জনের বেশি জরুরি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। বাড়ি ধসে তার ওপর পড়লে তিনি আহত হন বলে তার স্বামী বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, কাছের আরকেত-আঁ-ভাল গ্রামে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। দক্ষিণ ফ্রান্সজুড়ে ঝড়ে পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। সড়ক বন্ধ করে দিতে হয়। বোর্দো, মার্সেই, নিস, তুলুজ এবং উত্তরে প্যারিসের বিমানবন্দরগুলোতেও বিমান চলাচলে বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রান্সে বছরে গড়ে কয়েক ডজন টর্নেডো দেখা যায়। মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে টর্নেডোর সংখ্যা ও তীব্রতার ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র : বাসস

টর্নেডোর তাণ্ডবে থমকে গেল ফ্রান্সের জনজীবন

হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক করবেন সৌদি যুবরাজ ও ম্যাক্রোঁ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুই দিনের সফরে প্যারিসে যাচ্ছেন।  এই সফরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে দুজনের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উপসাগরের বাইরে ওমানের বন্দর দিয়ে বাণিজ্য বাড়ানো, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহণের পাইপলাইন সম্প্রসারণ বা দ্বিগুণ করা এবং নতুন রেলপথ নির্মাণ। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ম্যাক্রোঁ ও সৌদি যুবরাজ সৌদি-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং এর বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক করবেন সৌদি যুবরাজ  ও ম্যাক্রোঁ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream