রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

রিয়াল মাদ্রিদ দুই গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৯১তম মিনিটে শেষ পর্যন্ত কার্লোস এস্পির গোলে লা লিগায় এলচেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের শেষ দিকে একসঙ্গে একাধিক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় মাঠে নামিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। আরদা গুলের ফ্রি কিক এলচের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এরপর ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে দুটি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় এলচে। এরপর মরিনিও কার্লোস এস্পি ও এন্দ্রিককে মাঠে নামান। এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, দিয়োমান্দে ও ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে যোগ দেন এই দুই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকিই কাজে দেয়। বেলিংহামের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পেয়ে ক্রস করেন। সেই ক্রস থেকে ৯১তম মিনিটে গোল করেন এস্পি। ম্যাচ শেষে মরিনিও বলেন, ‘শেষ দিকে পরিবর্তনগুলো করার সময় আমি সবকিছুই ঝুঁকিতে রেখেছিলাম। আমরা জিতেছি, তবে হেরেও যেতে পারতাম। আমাদের এটা করতেই হতো, কারণ ড্র যথেষ্ট ছিল না।’ এস্পির প্রশংসাও করেছেন মরিনিও। চলতি মৌসুমে এবার দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করলেন এই ফরোয়ার্ড। এর আগে এস্পানিওলের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন তিনি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক থেকে সমতাসূচক গোল করলেও সেটি বাতিল হয়েছিল। এস্পি সম্পর্কে মরিনিও বলেন, ‘সে (এস্পি) ভালো করছে, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তার সামনে এমন একজন খেলোয়াড় আছে, যিনি স্বাভাবিক কোনো খেলোয়াড় নন (এমবাপ্পে)। দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়।’ তবে দুই গোলের লিড নষ্ট করায় রিয়ালের সমস্যাটাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন মরিনিও। ম্যাচ শেষ করার মতো একাধিক সুযোগ পেয়েও দল সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বলে জানান তিনি, ‘যেসব ম্যাচ দেখে মনে হয় সব শেষ, সেসব ম্যাচে আমরা তিন, চার, পাঁচটি সুযোগ পাই ম্যাচটা শেষ করে দেওয়ার। কিন্তু তা করি না।’ মরিনিও আরও যোগ করেন, ‘আমরা গোল করতে পারিনি, ৩ বা ৪-০ করে ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি। যখন বিষয়টা সহজ মনে হয়, তখনই আপনি এমন সুযোগ দিয়ে বসেন, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে এবং এমন সব স্টেডিয়ামে। ওরা একটি গোল করে এবং ম্যাচটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ভালো বিষয় হলো, কঠিন পরিস্থিতিতে দল প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং জিতে যায়।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অবশেষে মাঠে আর্জেন্টিনা

১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার সবশেষ কোনো ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ এটা লিওনেল মেসিরও। দুই মাসের অপেক্ষা শেষে অবশেষে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর্জন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর সূচি ঠিক করতে পারেনি। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগামী ফিফা উইন্ডোতে তিন ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল। ৩০ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। ৩ ও ৬ অক্টোবর বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে খেলবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফিফা উইন্ডো। এএফএ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও মুন্দো আলবিসেলেস্তের বরাতে জানা গেছে ম্যাচের ভেন্যুও। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় হবে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া ম্যাচ। ফিফা উইন্ডোর শেষ দুই ম্যাচই স্কালোনির দল খেলবে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। ৩ ও ৬ অক্টোবর মাঠে গড়াবে আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো এবং আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচ। আর্জেন্টিনার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শেষ হয়েছে ১৫ দিন আগে। গত ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু যে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছর খেলেছেন, ভক্ত-সমর্থকদের মনে রাখার মতো অসংখ্য মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, তাঁর জন্য আলাদা কিছু করার পরিকল্পনা করতেই পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে মেসির শেষবারের মতো খেলার কথা জানিয়েছিল আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। স্কালোনিকে নিয়েও আর্জেন্টিনার চিন্তা কম নয়। গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সবকিছু ভেবে দেখবেন। চুক্তি নবায়ন নিয়েও কিছু জানা যায়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। প্রথমে তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। পরে স্কালোনির জাদুর ছোঁয়ায় একের পর এক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর পাশাপাশি মেসি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন পূরণ করেন। মেসি-স্কালোনি জুটি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জিতেছে চার শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অবশেষে মাঠে আর্জেন্টিনা

দলবদল বিতর্কের পর নতুন দুঃসংবাদ আলভারেসের

হুলিয়ান আলভারেস দুঃসময়ের বাজে চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এমনিতেই আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে দলবদল ইস্যুতে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এবার আতলেতিকো ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে নিয়ে দুঃসংবাদ শোনাল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় সান সেবাস্তিয়ানে লা লিগায় মুখোমুখি হবে রিয়াল সোসিয়েদাদ-আতলেতিকো মাদ্রিদ। আলভারেস যেন ভক্ত-সমর্থকদের রাগ ভাঙিয়ে এই ম্যাচকেই ফেরার ‘টার্গেট’ করেছিলেন। কিন্তু মাংসপেশির চোটে পড়ায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড খেলতে পারছেন না সোসিয়াদাদের বিপক্ষে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আতলেতিকো সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছে, ‘মাংসপেশির চোটে পড়ায় সান সেবাস্তিয়ানে আলভারেস যেতে পারেনি। অনুশীলনও করেনি গতকাল। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখেছেন যে তার এই ম্যাচ খেলা সম্ভব না।’ বিশ্বকাপের সময়ই মূলত আলভারেস তোপের মুখে পড়েন। তখনই আতলেতিকো ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কাতালান ক্লাবটিও তাঁকে দলে বেড়াতে অনেক চেষ্টা করেছিল। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদও নিতে চেয়েছিল আলভারেসকে। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখার সম্ভাব্য সব চেষ্টা করেছে আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদ ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই ভক্ত-সমর্থকদের রোষানলে পড়েন আলভারেস। কদিন আগে তাঁকে উদ্দেশ্য করে টাঙানো হয়েছিল ‘হুলিয়ান আউট’ ব্যানার। ২৩ আগস্ট রাতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আলভারেসকে দেখাই করতে দেওয়া হয়নি। সতীর্থদের সঙ্গে না গিয়ে আলাদা ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ম্যাচ শেষে আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে জানিয়েছিলেন, ক্লাবের সিদ্ধান্তেই আর্জেন্টিনার আলোচিত এই ফুটবলারকে আলাদা রাখা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ লা লিগায় আতলেতিকো চার নম্বরে থেকে শেষ করেছিল। সেই মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ক্লাবটির জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল করেছিলেন। অ্যাসিস্ট ছিল ৯টি। লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ সব টুর্নামেন্টেই তিনি গোল পেয়েছিলেন। আলভারেসকে নিয়ে আতলেতিকোর সঙ্গে বার্সেলোনার টানাটানিতে বন্ধ হয়ে যায় ট্রান্সফারমার্কেট। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেন আতলেতিকোতেই। ২০২৬-২৭ মৌসুমের লা লিগায় ৪ ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে আতলেতিকো। একটি করে ম্যাচ হেরেছে ও ড্র করেছে।৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সাতে এখন আতলেতিকো। চলতি মৌসুমে আতলেতিকোর হয়ে সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে খেলেছেন তিন ম্যাচ। কোনো গোল করতে না পারলেও অ্যাসিস্ট করেছেন এক গোলে।

দলবদল বিতর্কের পর নতুন দুঃসংবাদ আলভারেসের

মেসিহীন আর্জেন্টিনায় শুরু নতুন যুগ

১৩ দিন আগে লিওনেল মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে গত ৩১ আগস্ট অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে একের পর এক আবেগঘন পোস্ট সতীর্থ-পরিবারের সদস্যরা দিতে থাকেন। যে মেসিকে নিয়ে এত দিন আর্জেন্টিনার সমস্ত পরিকল্পনা আবর্তিত হতো, তাঁকে ছাড়াই নতুন যুগ শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। মেসির আগে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি কয়েক জন ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণ যে নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে মারামারি, সেটা তো সবারই জানা। তাতে করে নতুন প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণায় আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকে অনেক চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে, প্রতিপক্ষ কারা সব এখনো অজানা। দলে চমক হিসেবে কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। স্কালোনি সাধারণত এক সপ্তাহ আগে দল ঘোষণা করেন। তবে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে ২০ দিনের মতো সময় বাকি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের গতকালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, রোমার লিওনার্দো বালের্দি, লোবার স্ট্রাইকার সান্তি কাস্ত্রো ডাক পেতে পারেন। পাশাপাশি দেশটির রিভার প্লেট ক্লাবের কয়েকজন খেলোয়াড় নতুন তালিকায় আসতে পারেন। ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা লেয়ান্দ্রো পারেদেস, ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা নাউয়েল মলিনা, এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞায় থাকা থিয়াগো আলমাদা—এই তিন ফুটবলারকে শিগগিরই পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। স্কালোনি চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে যে প্রাথমিক দল দেন, সেটা অনেক সময় আগেভাগে ফাঁস হলেও এবার তা হয়নি। আর বালের্দি গত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে থাকলেও চোটে পড়ায় তখন খেলতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন মার্কোস সেনেসি। মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের দলে বাজপাখি নামে পরিচিত এমিলিয়ানো মার্তিনেস, রদ্রিগো দি পলের মতো তারকারা থাকছেন বলে টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। স্কালোনিকে নিয়েও আর্জেন্টিনার চিন্তা কম নয়। গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সবকিছু ভেবে দেখবেন। চুক্তি নবায়ন নিয়েও কিছু জানা যায়নি। এদিকে আর্জেন্টিনার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ওয়ালতার স্যামুয়েল জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। আর নতুন যুগ আলবিসেলেস্তেরা শুরু করতে যাচ্ছে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নেতৃত্বে। ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। প্রথমে তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। পরে স্কালোনির জাদুর ছোঁয়ায় একের পর এক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর পাশাপাশি মেসি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন পূরণ করেন। মেসি-স্কালোনি জুটি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জিতেছে চার শিরোপা।

মেসিহীন আর্জেন্টিনায় শুরু নতুন যুগ

বিশ্বকাপ হারের পর নতুন পথে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর নতুন অধ্যায়ের পথে এগোচ্ছে। ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠে নামবে তারা সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে। এখনো ওই সময়ের প্রীতি ম্যাচগুলোর সূচি চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য দুই বা তিনটি ম্যাচকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচির দল নিয়ে স্কালোনির ভাবনায় বেশ কিছু চমক থাকতে পারে। দীর্ঘদিন পর কয়েকজন খেলোয়াড় আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং রোমায় যোগ দেয়া লিওনার্দো বালের্দি। এ ছাড়া রোমার ফরোয়ার্ড সান্তি কাস্ত্রোকেও বিবেচনায় রেখেছেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিভার প্লেটের কয়েকজন খেলোয়াড়ও এবার জাতীয় দলে ডাক পেতে পারেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে ফিফার দেওয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত একাদশের সদস্য থিয়াগো আলমাদা অবশ্য এই দফায় থাকছেন না। এবার আর্জেন্টিনার স্কোয়াড বেশ বড় হতে পারে। বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরখ করে দেখতে একাধিক ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন একাদশও মাঠে নামাতে পারেন লিওনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপজয়ী দলের মধ্যে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও রদ্রিগো ডি পলকে দলে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনাকে পাওয়া যাবে না। পারেদেস ১০ ম্যাচ এবং মোলিনা ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ায় নিকোলাস ওতামেন্দিও থাকছেন না। তার অনুপস্থিতিতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। লিওনেল মেসির অবসরের পর রোমেরোই আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে স্কালোনির নিজের ভবিষ্যৎও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে এএফএ ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে তার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

বিশ্বকাপ হারের পর নতুন পথে আর্জেন্টিনা

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে নিজের দাবিটা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোরালোভাবেই তুলে ধরলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন ফরাসি তারকা। তিনি সব মিলিয়ে এ বছর নিজের পারফরম্যান্সকে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে করছেন। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেছেন, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু করেছেন। তাঁর মতে, দলীয় সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূলত ব্যক্তিগত পুরস্কার। আর এ বছর তিনি নিজেও তেমন কিছু করে দেখিয়েছেন। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। অবশ্যই দলগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল একটি দলীয় খেলা। কিন্তু এটি একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার ধারণাটা মেসি ও রোনালদোর যুগের মতো। আমরা কখনো সাধারণ মানের কোনো খেলোয়াড়কে এটি দিই না, বরং এমন খেলোয়াড়কে দিই, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। আর আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি, যা আলাদা। তাই আমি মনে করি, এটি আমি জিততে পারি।’ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। এরপর উত্তর আমেরিকায় হওয়া বিশ্বকাপে ১০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে কি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ব্যালন ডি’অর ছাড়াই ক্যারিয়ার শেষ করার কথা ভাবতে পারে? হ্যাঁ। মাঠেই সবকিছু অর্জন করতে হয়। অবশ্য ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে ভোটও আছে। কিন্তু ১০ বছর পর কী হবে, সেটা দেখার আগে আমাদের এখনকার দিকে তাকাতে হবে। এ বছর ব্যালন ডি’অর জেতার দারুণ সুযোগ আমার আছে।’ এখনো ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি এমবাপ্পের। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আধিপত্য তাঁর অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ করেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘হ্যাঁ, কিন্তু ১০ বছর আগে তো আমরা বলিনি যে মেসি ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত খেলবে এবং আরও তিন বছর ধরে পুরস্কারটি জিতবে। ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রেও তারা খুব বেশি সুযোগ ছাড়েনি। আবার এমন সময়ও গেছে, যখন ভোট দেওয়া হয়েছে সেরা দলের সেরা খেলোয়াড়কে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে নয়।’

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে

লাল-হলুদের সঙ্গে যুক্ত হলো ব্ল্যাক কার্ড

ব্ল্যাক কার্ড এবার ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে যুক্ত হলো। তবে এটি খেলোয়াড়দের জন্য নয়। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন যুব ফুটবলের ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে এই কার্ড চালু করেছে। ১১ সেপ্টেম্বর নতুন নিয়মটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং চলতি মৌসুম থেকেই ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় কার্যকর হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য, গ্যালারি থেকে আসা গালিগালাজ, হুমকি, শারীরিক আগ্রাসন ও অতিরিক্ত চাপ থেকে শিশু খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের মতে, শিশুদের ফুটবল হওয়া উচিত আনন্দ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জায়গা। সেই লক্ষ্যেই অভিভাবক ও দর্শকদের আচরণের সীমা নির্ধারণে এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে দর্শক বা অভিভাবকদের আচরণ অনুপযুক্ত মনে হলে রেফারি প্রথমে দুই দলের কোচকে গ্যালারির দর্শকদের সতর্ক করতে বলবেন। লাউডস্পিকারের মাধ্যমেও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। আচরণ অব্যাহত থাকলে ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হবে এবং দুই দলকে ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে। খেলা পুনরায় শুরুর পরও একই ধরনের আচরণ হলে শেষ পর্যন্ত রেফারি দেখাবেন ব্ল্যাক কার্ড। আর এই কার্ড দেখানোর অর্থ হলো ম্যাচ সেখানেই স্থায়ীভাবে শেষ। ম্যাচটি আর পুনরায় শুরু করা যাবে না। ফেডারেশনের প্রটোকলে বলা হয়েছে, ‘খেলা পুনরায় শুরুর পরও যদি আপত্তিকর আচরণ অব্যাহত থাকে, রেফারি ম্যাচ শেষ করার জন্য বাঁশি বাজাবেন। ম্যাচটি চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং আর পুনরায় শুরু করা যাবে না।’ নতুন নিয়মে গালিগালাজ ও অপমানজনক মন্তব্যের পাশাপাশি শিশু খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা স্টাফকে আঘাত, ধাক্কা কিংবা অপমান করাও শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়ানো এবং অভিভাবক বা দর্শকদের মধ্যে মৌখিক কিংবা শারীরিক সংঘর্ষও এর আওতায় রয়েছে। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগের মূল বার্তা পরিষ্কার—গ্যালারিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চাপ কিংবা হতাশার বোঝা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যুব ফুটবলকে নিরাপদ ও আনন্দময় রাখতে সেই সীমা অতিক্রম করলেই এবার ম্যাচ থামিয়ে দেবে ব্ল্যাক কার্ড।

লাল-হলুদের সঙ্গে যুক্ত হলো ব্ল্যাক কার্ড

বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনুশীলন চলছে

আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল গোছানোর কাজ জোরকদমে শুরু করেছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি।  ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে ট্রায়াল ও অনুশীলনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ইতোমধ্যেই ৬ জন ফুটবলারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   অনুশীলন ও ট্রায়ালের পর স্কোয়াড ছোট করার প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত বাদ পড়েছেন ইয়াসার তাহমিদ, দেবজিৎ সরকার, ইসা ফয়সাল, কাজেম শাহ, তাজ উদ্দিন ও রাব্বি হোসেন। আজ শুক্রবার আরো একজনকে বাদ দেয়ার কথা রয়েছে।মূলত ট্রায়ালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাইফ কেরাওয়ালা, ইতালির দেবজিৎ সরকার ও কানাডার ইয়াসার তাহমিদকে প্রাথমিক দলে ডাকা হয়েছিল। তবে দেবজিৎ ও ইয়াসার শেষ পর্যন্ত জায়গা ধরে রাখতে পারেননি।অন্যদিকে সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন ইসা ফয়সাল। একই সফরে দলের সাথে ছিলেন কাজেম শাহ ও তাজ উদ্দিন। আর রাব্বি হোসেন জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে।আসিয়ান কাপ সামনে রেখে এখন চূড়ান্ত দল গুছিয়ে নিচ্ছেন ডুলি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর।২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।গোলরক্ষক:মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, আনিসুর রহমান জিকো ও সাইফ আমির কেরাওয়ালা।ডিফেন্ডার:তপু বর্মণ, শাকিল আহাদ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন ও জিদান ইউসুফ।মিডফিল্ডার:জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, মোহাম্মদ হৃদয়, শেখ মোরসালিন ও ইউসুফ আহমেদ।রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, এস এম মঞ্জুরুর রহমান, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সৌরভ দেওয়ান ও শুখি ইতুফুসা।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনুশীলন চলছে

ফিফার বিশেষ বার্তা, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সেপ্টেম্বরের শেষে শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান কাপে অংশ নেবে। খেলবে ১৪ দল ইন্দোনেশিয়া-হংকংয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে। আসিয়ান কাপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ফিফা। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপে আসিয়ান কাপের ১১ সদস্য ও তিন অতিথি দল। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আজ সকালে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। ফিফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের মধ্যেই জাতীয় দলগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সুযোগ দিতেই চালু করা হয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপ। এর মাধ্যমে ফুটবলাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আঞ্চলিক লড়াইয়ে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফুটবলীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভক্ত-সমর্থকদের স্মরণীয় মুহূর্ত ও দারুণ ফুটবল উপহার দেবে।’ ২০২৬ ফিফা আসিয়ান কাপ হবে দুই ডিভিশনে। প্রথম ডিভিশনে আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে থাকছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তান। দ্বিতীয় ডিভিশনে থাকছে আরেক আয়োজক হংকং, ব্রুনেই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে। অংশগ্রহণকারী এই ১৪ দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ২০০ কোটিরও বেশি। এসব অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক তরুণ ফুটবল-সমর্থক রয়েছেন। তাতে করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফুটবলের অনেক প্রসার হবে বলে মনে করছে ফিফা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও হংকংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আসিয়ান কাপে। ভারত ও চীন নাম প্রত্যাহার করায় তাদের জায়গায় খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। প্রত্যেক ডিভিশনকে ভাগ করা হবে দুই গ্রুপে। প্রত্যেক দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে গ্রুপের অন্য দলগুলোর বিপক্ষে একবার করে খেলবে। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দল নিজ নিজ ডিভিশনের ফাইনালে উঠে শিরোপার জন্য লড়বে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রথম ডিভিশনে দুই গ্রুপের রানার্স-আপ দল অংশ নেবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও। ২৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ। জামাল ভূঁইয়াদের পরের ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। একই মাঠে একই সময়ে ম্যাচটি শুরু হবে। এই ভেন্যুতেই হামজা চৌধুরী-জামালরা ১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবেন। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

ফিফার বিশেষ বার্তা, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ

ইয়ামালের বাঁ পায়ের জাদুতে হতভম্ব ফেইনুর্ড

লামিন ইয়ামাল ফ্রি কিক থেকে বাঁ পায়ে শট নিলেন। ফেইনুর্ডের ডিফেন্ডাররা বোকা বনে গিয়েছেন, গোলরক্ষক টিআর্ক আর্নেস্টও হতভম্ব হয়ে গেলেন। ইয়ামাল গোলের পর এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে ক্যামেরার দিকে কী যেন ছুড়ে মেরেছেন। স্প্যানিশ তারকার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিকও। ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল লিগ পর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ফেইনুর্ডকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে বার্সেলোনা। বার্সার দুর্দান্ত জয়ের রাতে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছেন ইয়ামাল। ৭৭ মিনিটে তাঁর জাদুকরী ফ্রি কিক অনেকেরই নজর কেড়েছে। পরবর্তীতে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দিয়ে একটা গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়াতে অবদান রেখেছেন। ছন্দে থাকা ইয়ামাল কি এবার ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য দাবিদার—চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে ফেইনুর্ডকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিকের কাছে এসেছে এমন প্রশ্ন। ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই সে আমার খেলোয়াড়। বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়। তার ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্যতা আছে। আমার কাছে এটা দারুণ ব্যাপার।’ বার্সার হয়ে তিনটি লা লিগা, দুইবার স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একবার কোপা দেল রে জিতেছেন ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতেও এরই মধ্যে দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর গত জুলাইয়ে নিউজার্সিতে জিতেছেন বিশ্বকাপ। স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্টও করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এরই মধ্যে ১২ গোল করে ফেলেছেন তিনি। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে প্রথম গোলেই অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। ৩ মিনিটে তাঁর অ্যাসিস্টে গোল করেন রাফিনিয়া। শেষভাগে এসে আরও দুটি গোলে অবদান রেখেছেন। ৭৭ মিনিটে জাদুকরী গোল করা ইয়ামাল ৮৫ মিনিটে গোল করিয়েছেন জেসুসকে দিয়ে। ইয়ামালের বাতাসে ভাসা বলে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জেসুস। প্রতিভাবান ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচেই আপনি দেখতে পারেন, সে কতটা দুর্দান্ত। তার মতো প্রতিভা আর কারও নেই।’ ফেইনুর্ডকে গতকাল ৫-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। রাফিনিয়া করেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেন করিম আদেয়েমি, ইয়ামাল ও জেসুস। ফেইনুর্ডের একমাত্র গোল করেন মিডফিল্ডার স্যাম স্টেইন। তাঁকে অ্যাসিস্ট করেন গনসালো বোর্জেস। এদিকে তারকা ইয়ামাল ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সেই বার্সেলোনার হয়ে একশরও বেশি গোলে অবদান রেখেছেন। বার্সার জার্সিতে ১৫৬ ম্যাচে ৫৪টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

ইয়ামালের বাঁ পায়ের জাদুতে হতভম্ব ফেইনুর্ড

মেসি-রোনালদোর চেয়ে এখন কত দূরে এমবাপ্পে

ফুটবল বিশ্বকাপের ছন্দটা কিলিয়ান এমবাপ্পে ধরে রেখেছেন ক্লাব ফুটবলেও। নতুন মৌসুমে এরই মধ্যে গড়ে একটি করে গোল করেছেন তিনি। যার সবশেষটা গতকাল করেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। তাতে করে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে আরও একধাপ এগিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই এমবাপ্পের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোল্ডেন বুট। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার হিসেবে জিতেছিলেন এই পুরস্কার। গোল্ডেন বুট পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ব্রাহিম দিয়াজের ব্যাক পাস থেকে স্লাইড করে ইন্টার মিলানের জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। তাতে করে চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপ্পের গোল হয়ে গেল ৭১। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে পাঁচে এখন তিনি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি রাউলও চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ৭১ গোল। তিন বছর আগে ইউরোপ ছেড়ে চলে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখনো সবার ওপরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে রোনালদো করেছেন ১৪০ গোল। দ্বিতীয় দফায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা ২০২৩ সালে চলে যান আল নাসরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুইয়ে থাকা লিওনেল মেসির গোল ১২৯। রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসিও ২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে চলে যান ভিন্ন মুলুকে। যেখানে আজ থেকে ২০ বছর আগে স্প্যানিশ ফুটবলে মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ এখনো ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয়ে আলাদা শিহরণ জোগায়। রোনালদো তখন খেলতেন রিয়াল মাদ্রিদে। মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত তিন ফুটবলার গোলের সেঞ্চুরি করেছেন। তিনে থাকা রবার্ট লেভানডফস্কি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে করেছেন ১০৬ গোল। মেসি-রোনালদো-লেভার পরেই অবস্থান করছেন করিম বেনজেমা। চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনজেমা করেন ৯০ গোল। এমবাপ্পের আগে যে চার ফুটবলার আছেন, তাঁরা কেউই এখন আর ইউরোপে নেই। মেসি দুই দশক বার্সায় খেলার পর ২০২১ সালে চলে যান প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি)।

মেসি-রোনালদোর চেয়ে এখন কত দূরে এমবাপ্পে

রাফিনিয়ার আগুনে ছন্দ, উড়ছে বার্সা

রাফিনিয়া দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন লা লিগার নতুন মৌসুমে। বার্সেলোনা লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোল জিতেছে। ম্যাচে তৃতীয় গোলটি দলের হয়ে করেন রাফিনিয়া। এতে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।  ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’ স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতে লা লিগার কোনো মৌসুমে দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয় গোল করা মাত্র দ্বিতীয় বার্সেলোনা খেলোয়াড় রাফিনিয়া। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন মেসি; তাও দুইবার। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে দলের প্রথম চার লা লিগা ম্যাচেই ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। প্রায় এক যুগ পর সেই কীর্তিতে এবার ভাগ বসালেন রাফিনিয়া।  এলচের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে মৌসুম শুরু করেছিলেন রাফিনিয়া। এরপর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে একটি গোল করার পর রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে করেন আরও দুই গোল। সর্বশেষ ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গোল করে প্রথম চার ম্যাচেই নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান তিনি। এই গোলের সুবাদে লা লিগার চলতি মৌসুমের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন রাফিনিয়া। তার চেয়ে এক গোল পিছিয়ে আছেন রায়ো ভায়েকানোর স্ট্রাইকার কামেয়ো। তবে মেসির কীর্তি ছোঁয়াই রাফিনিয়ার শেষ লক্ষ্য নয়। সামনে আরও বড় একটি রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে তার। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার কীর্তি এখন পর্যন্ত রয়েছে কেবল সেসার রদ্রিগেজ ও জালাতান ইব্রাহিমোভিচের। পরের ম্যাচে গোল করতে পারলে সেই বিশেষ তালিকায় তাদের সঙ্গে নাম লেখাবেন রাফিনিয়াও। 

রাফিনিয়ার আগুনে ছন্দ, উড়ছে বার্সা

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ইয়ামালের খেলা নিয়ে শঙ্কা

বার্সেলোনা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে হঠাৎ দুশ্চিন্তায় পড়েছে। লামিনে ইয়ামাল শনিবার দলের শেষ অনুশীলনে ছিলেন না। রোববার স্বাভাবিকভাবেই মেস্তায়ায় হতে যাওয়া ম্যাচে এই তরুণ তারকার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামালকে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের শেষ অনুশীলনে দেখা যায়নি। তবে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ বা কোনো নির্দিষ্ট চোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বার্সা। সোমবার রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন ইয়ামাল। পরবর্তী ম্যাচের আগে অনুশীলনে তাঁর অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শনিবার বিকেলে দল ভ্যালেন্সিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করবে ক্লাবের মেডিকেল টিম। এরপরই তাঁর খেলার সম্ভাবনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বিশেষ এক দিনের পরই ইয়ামালকে নিয়ে দুশ্চিন্তার খবর পেয়েছে বার্সা। ড্রেসিংরুমের ভোটে নতুন সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, সতীর্থদের ভোটেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। হান্সি ফ্লিকের কৌশলেও ইয়ামালের গুরুত্ব অনেক। তাঁকে না পাওয়া গেলে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে একাদশে পরিবর্তন আনতে হতে পারে বার্সা কোচকে। ইয়ামালকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই দুটি স্বস্তির খবর পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। দলের সঙ্গে পুরো অনুশীলন করেছেন গাভি। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এলচের বিপক্ষে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর টানা দুটি ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাঠের নামার জন্য তাঁকে বিবেচনায় রাখছেন ফ্লিক। এদিকে আর্সেনাল থেকে গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া গ্যাব্রিয়েল জেসুসের অভিষেকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ করা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কাতালানদের দলে জায়গা পেতে পারেন। এলচে, অ্যাথলেটিক ক্লাব ও রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে টানা তিন জয় নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্টে মৌসুম শুরু করেছে বার্সা। শিরোপার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট হারানোয় লিগের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগও রয়েছে ফ্লিকের দলের সামনে।

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ইয়ামালের খেলা নিয়ে শঙ্কা

মেসির ছায়া সরে যেতেই পারেদেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের পর এবার লিয়ান্দ্রো পারেদেস আর্জেন্টিনা দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত এবং  বিশ্বকাপের ফাইনালের পর পাওয়া নিষেধাজ্ঞা সব মিলিয়ে দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পারেদেস স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় ফিফা তাঁকে ১০ ম্যাচের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে। ঘটনার সময় পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন। এরপর গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মুখে আঘাত করতেও দেখা যায় এই তারকা ফুটবলারকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে নিজের ভাবনা জানাতে গিয়ে পারেদেস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার হয়ে আমার খেলা চালিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণেও, লিওর সিদ্ধান্তের কারণেও। সবকিছু আগের মতো চলতে থাকা কঠিন হবে।’ বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলা পারেদেস এখনো এ বিষয়ে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে কথা বলেননি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচের সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি, ‘কোচের সঙ্গে এ নিয়ে এখনো কথা বলিনি। তবে আমরা কথা বলব এবং আমি কী সিদ্ধান্ত নিই, সেটাই দেখা যাবে।’ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার পর তাঁর আর দেওয়ার কিছু নেই বলেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এই ফুটবলার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দেশের জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘদিনের সতীর্থ মেসির বিদায় পারেদেসের জন্যও বড় ধাক্কা। আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘সে যা অর্জন করেছে, কখনো হাল না ছেড়ে দেওয়া এবং স্বপ্ন পূরণের পথ যে কঠিন—স্বপ্নকে তাড়া করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবেও রূপ নেয়, সেটা দেখিয়ে দেওয়ার কারণে লিওর উত্তরাধিকার চিরকাল বেঁচে থাকবে।’ বিশ্বকাপের শেষ দিকে মেসির সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে সতীর্থদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন পারেদেস। তবে বিশ্বকাপের ফাইনাল মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে জেনেও তাঁর বিদায়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না তাঁরা। এই প্রসঙ্গে পারেদেস বলেন, ‘বিশ্বকাপের শেষ কয়েক দিনে আমরা কথা বলেছিলাম যে ফাইনালটিই সম্ভবত তার শেষ ম্যাচ হবে। কিন্তু তারপরও আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, কারণ আমাদের কাছে সে কী অর্থ বহন করে।’

মেসির ছায়া সরে যেতেই পারেদেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নেইমারের জার্সি নেওয়াই কাল হলো ৮ বছরের শিশুর

নেইমারকে নিয়ে আলোচিত ঘটনা যেন কখনো শেষ হওয়ার নয়। কখনো তিনি কোনো ঘটনার মাধ্যমে ‘লাইমলাইটে’ আসেন, কখনোবা তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। এবার হেনস্তার শিকার হয়েছে এক খুদে ভক্ত ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে জার্সি নেওয়ার পর।  করিন্থিয়ান্স-সান্তোস সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স অ্যারেনায় পরশু ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’তে মুখোমুখি হয়েছে। করিন্থিয়ান্সের এক খুদে ভক্তকে নেইমার একটি জার্সি উপহার দিয়েছেন। ৮ বছরের শিশু স্বাভাবিকভাবেই খুশি। কিন্তু সেটা আর দীর্ঘস্থায়ী হলো কই। করিন্থিয়ান্সের ভক্ত-সমর্থকেরা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে সেই শিশু মাঠ ছেড়েছে পুলিশের পাহারায়। এমনকি স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, খুদে ভক্ত টানেল দিয়ে খেলোয়াড়দের লকার রুমে যাচ্ছিল, তখন ভক্ত-সমর্থকদের গালিগালাজ শুনেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ছেলেটির বয়স ৮ বছর। তাকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে করিন্থিয়ান্স। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি লিখেছে, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে কিছু সীমা থাকে। কখনো সেই সীমা ছাড়ানো উচিত নয়। শিশুর প্রতি এমন আক্রমণাত্মক আচরণ সীমা ছাড়ানোর মতোই ঘটনা। ক্লাবের প্রতি আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফুটবল নিয়ে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা কখনোই সম্মান, শিষ্টাচার ও নিরাপত্তাকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যখন বিষয়টি একটি শিশুকে নিয়ে হয়, তখন সেটা নিয়ে আলোচনা হবেই।’ করিন্থিয়ান্সের সুরে সুর মিলিয়েছেন নেইমারও। ৮ বছরের শিশুকে হেনস্তার ঘটনা দেখে তাঁর খুব খারাপ লেগেছে। করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে পরশু ১-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ড বলেন, ‘একটা শিশু ভিন্ন দলের কোনো খেলোয়াড়কে পছন্দ করতেই পারে। তার সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়। সে কোনো ভুল করেনি।’ করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে পরশু সান্তোসের একমাত্র গোলটি ৩৩ মিনিটে করেন সান্তোস মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান সিলভা। ২৪ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকায় সান্তোস অবস্থান করছে ১৪ নম্বরে। জিতেছে ৭ ম্যাচ। নেইমারের দল ড্র করেছে ৮ ম্যাচ ও ৯ ম্যাচ হেরেছে। করিন্থিয়ান্স ২৫ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। ২৫ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে পালমেইরাস। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই নেইমারের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে সেলেসাওদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৯ গোলে। নরওয়ের কাছে শেষ ষোলোতে ২-১ গোলে হারের ম্যাচটাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেইমারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও কেবল হারের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছিলেন তিনি।

নেইমারের জার্সি নেওয়াই কাল হলো ৮ বছরের শিশুর

চেলসি থেকে ম্যানসিটি, রেকর্ড দামে এনসো ফের্নান্দেস

এনসো ফের্নান্দেসের চেলসির সঙ্গে সম্পর্ক শেষই হয়ে গেল। তবে ইংল্যান্ডের ফুটবল ছাড়ছেন না। ইংল্যান্ডের আরেক বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লেখালেন। সিটিজেনদের সঙ্গে তাঁর চুক্তিটা ২০৩১ সাল পর্যন্ত। গতকাল রাতে ম্যানচেস্টার সিটি ফের্নান্দেসের সঙ্গে তাঁর ছয় বছরের চুক্তির বিষয় নিশ্চিত করেছে। তবে সিটি চুক্তির অঙ্কটা নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তাঁকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো দেবে ম্যান সিটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ২০৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সিটিতে যোগ দিতে পেরে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ফের্নান্দেস। ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ক্লাবটির ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল ক্লাব।প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এমন একটি ক্লাবের অংশ হতে চায়। কারণ, সবাই জানে সিটি কতটা ভালোভাবে পরিচালিত হয়।’ ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের ইতিহাসে ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রিমিয়ার লিগে। যার মধ্যে ২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪—এই চারবার টানা জিতেছে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ের এই টুর্নামেন্ট। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে ২০২৩ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রেবলও জিতেছিল সিটি। ইউরোপের অন্যতম সফল এই ক্লাবটির হয়েও শিরোপা জিততে উন্মুখ হয়ে আছেন ফের্নান্দেস। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার বলেন, ‘এখানে যোগ দিতে পেরে আমি এর চেয়ে বেশি খুশি হতে পারতাম না। সিটিকে আরও শিরোপা জিততে সাহায্য করার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। এই ক্লাবই সাফল্যের জন্য তৈরি।’ এর আগে বেনফিকা থেকে ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে এসেছিলেন ফের্নান্দেস। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটা ১৫২১ কোটি টাকা। তিন বছরের ক্যারিয়ারে চেলসির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগতা মিলে ১৭০ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ৩০ গোলে। উয়েফা কনফারেন্স লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও জেতেন ব্লুজদের জার্সিতে। সম্প্রতি চেলসির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ফের্নান্দেসের। আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলের পর টোপো গিগিও উদযাপন করেছিলেন। চেলসি সামাজিক মাধ্যমে ফের্নান্দেসের এই উদযাপনের ছবি পোস্ট করার পর ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছিল । কারণ, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারিয়ে উঠেছিল ফাইনালে। যদিও স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা খুইয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর রিয়াল সোসিয়াদাদের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে ফের্নান্দেসকে লক্ষ্য করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ঘটনা উস্কে দিয়েছিলেন। এবার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড নাম লেখালেন ম্যান সিটিতে।

চেলসি থেকে ম্যানসিটি, রেকর্ড দামে এনসো ফের্নান্দেস
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream