আবারও এক ম্যাচে ৭ গোল আর্জেন্টিনার
প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হলেও প্রতিদিন ৭ গোল করা সহজ নয়। প্রায় তিন বছর পর আবারও কোনো ম্যাচে ৭ গোলের দেখা পেল আর্জেন্টিনা। এবার তাদের সামনে ছিল বুরকিনা ফাসো।বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। বুরকিনা ফাসো পূর্ণ শক্তির জাতীয় দল নিয়ে মাঠে না নামলেও আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলেছে।এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ প্রীতি ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আর কোনো ম্যাচে ৭ গোল করতে পারেনি তারা।স্কালোনির কোচিংয়ে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে পাওয়া জয়টি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জয় নয়।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় এসেছে ৮৪ বছর আগে। ১৯৪২ কোপা আমেরিকায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে জিতেছিল ১২-০ গোলে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হোসে ম্যানুয়েল মোরেনো একাই করেছিলেন ৫ গোল। প্রতিভায় পেলে, ডি স্টেফানোর মর্যাদায় ওঠা মোরেনো সেদিন কোপা আমেরিকার ইতিহাসে ৫০০তম গোলটিও করেন। একাই চার গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলে আরেক কিংবদন্তি ‘এল চারো’খ্যাত এরমিনিও মাসানতোনিও।
অফিশিয়াল ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় জয় পায় ১৯৭৫ কোপা আমেরিকায়। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জেতে ১১-০ গোলে। যদি প্রশ্ন তোলা যায়, আর্জেন্টিনা কতগুলো ম্যাচে ন্যূনতম ৭টি করে গোল করেছে?
উত্তর হলো ১৬ ম্যাচে।
আর্জেন্টিনার এই ৭ গোলের যাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯১৬ সালে এই অক্টোবর মাসেরই ১ তারিখে। সে সময়ে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ৭-২ গোলে জিতেছিল তখন কোচহীন থাকা আর্জেন্টিনা। পরবর্তী ম্যাচে ৭ গোল করতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১০ বছর। ১৯২৬ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা প্যারাগুয়েকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল এ অক্টোবরেই! পরের বছর কোপা আমেরিকায় বলিভিয়ার বিপক্ষে আকাশি-নীলদের জয়ের ব্যবধান ছিল ৭-১; সেটাও এই অক্টোবরেই!
যদি মাসের হিসাব করা হয়, তাহলে বছরে ১২টি মাসের মধ্যে অক্টোবরেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচে ৭ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। মোট পাঁচবার। বাকি দুবার ২০১৪ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৭-০ গোলের জয় এবং আজ বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে জয়টি। জানুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে দুবার করে ম্যাচে ৭ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ফেব্রুয়ারি, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে একবার এবং মার্চে ও মে মাসে দুবার করে ম্যাচে ৭ গোল করেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।