সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মঙ্গলবার চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিঙ্ক বাস’

মঙ্গলবার চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিঙ্ক বাস’

মঙ্গলবার চালু হচ্ছে নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিঙ্ক বাস’ বা গোলাপি বাস সার্ভিস। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন—বিআরটিসির মাধ্যমে চালু হতে যাওয়া এই সেবার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, বাসের চালক থেকে শুরু করে সহকারী ও কন্ডাক্টর—সবাই থাকবেন নারী। সরকারের উদ্যোগটির লক্ষ্য নারীদের জন্য গণপরিবহনে আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করা।রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ভিড়, হয়রানি, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং কর্মজীবী নারীদের নিয়মিত যাতায়াতের অসুবিধা—সব মিলিয়ে নিরাপদ গণপরিবহন নারীদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেও নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালুর বিষয়টি রাখা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ এই বাসগুলো আলাদা রঙে—গোলাপি বা ‘পিঙ্ক বাস’ হিসেবে পরিচিত হবে। ফলে দূর থেকেই বাসগুলো সহজে শনাক্ত করতে পারবেন যাত্রীরা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্পূর্ণভাবে নারীদের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালুর কথা জানান।তবে এটি শুধু বাসের রং পরিবর্তনের উদ্যোগ নয়। মূল পরিবর্তন হবে পরিচালনায়। বাসের চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার—তিন ক্ষেত্রেই নারীদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বাসের স্টিয়ারিং থেকে যাত্রীসেবা—গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো পালন করবেন নারীরাই।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার কয়েকটি নির্ধারিত রুটে এই বিশেষ বাসসেবা চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে নয়টি বাস চালুর পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত হয়েছে। এসব বাসে নারী চালক ও সহকারী হিসেবে নারীরাই কাজ করবেন। নারী চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে কোন কোন রুটে, কী সময়সূচিতে এবং কত ভাড়া নির্ধারণ করে বাসগুলো চলবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত অপারেশনাল পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে।এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারী কর্মসংস্থান। এতদিন গণপরিবহন খাতে চালক বা হেলপারের মতো পেশায় নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ এই সার্ভিসের মাধ্যমে সেই চিত্র বদলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নারী চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশায় যুক্ত করার পরিকল্পনাটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রচারে নিরাপদ যাত্রার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।নারী যাত্রীরা যে সুবিধা পাবেন --- এই সার্ভিসের প্রধান সুবিধা হবে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী কিংবা নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহারকারী নারীরা বিশেষ এই বাসের মাধ্যমে তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের। সরকারি ঘোষণায় নারীর নিরাপদ যাতায়াতকে অধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।গোলাপি বাস শুধু একটি নতুন পরিবহনসেবা নয়; এর মাধ্যমে গণপরিবহনে নারীর অংশগ্রহণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। একজন নারী বাস চালাচ্ছেন, আরেকজন নারী যাত্রীদের সহায়তা করছেন—রাজধানীর রাস্তায় এমন দৃশ্য নারীদের পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাতেও পরিবর্তন আনতে পারে। সরকারি প্রচারণার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্লোগানও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপদ যাত্রা, নারীর অর্থনৈতিক শক্তি, নারী চালকের হাতে স্টিয়ারিং এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রথম ধাপে সীমিত সংখ্যক বাস দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে সেবার অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হবে—এমন পরিকল্পনাই প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে। সফল হলে ভবিষ্যতে রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে শুধু বাস নামালেই হবে না। নারী চালক ও কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, নির্দিষ্ট সময়সূচি, বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করাও জরুরি।সব মিলিয়ে, বিআরটিসির গোলাপি বাস রাজধানীর গণপরিবহনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। একদিকে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত, অন্যদিকে চালক-হেলপারসহ পরিবহন খাতে নারীর কর্মসংস্থান—দুই লক্ষ্য একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারলে এই উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ গণপরিবহনের একটি কার্যকর মডেল। 

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream