বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
পে স্কেল: সিনিয়দের টপকে বড় অংকের বেতন জুনিয়রদের

পে স্কেল: সিনিয়দের টপকে বড় অংকের বেতন জুনিয়রদের

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে নবম পে স্কেলের আওতায় বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার ক্ষণগণনা শুরু হলেও, নানা জটিলতায় হোঁচট খেয়েছে পুরো প্রক্রিয়া। বেতন কাঠামোর মারপ্যাঁচে এমন কিছু অদ্ভুত ত্রুটি সামনে এসেছে, যেখানে সিনিয়কদের টপকে জুনিয়রদের পকেটে বেশি টাকা চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই গোলমেলে পরিস্থিতির জেরে প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতন হাতছাড়া হতে চলেছে দুই লাখেরও বেশি সরকারি চাকরিজীবীর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, বেতন নির্ধারণের প্যাঁচালো নিয়মের কারণেই এই বিপত্তি। এই তালিকায় যেমন বর্তমান চাকরিজীবীরা আছেন, তেমনি বাদ যাননি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও। তবে সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন, এই জট কেটে গেলে আটকে থাকা কর্মীরাও তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া টাকা বুঝে পাবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় গ্রেড সাজানোর সময় বেশ কিছু গরমিল তৈরি হয়েছে। যেমন—তাত্ত্বিকভাবে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা, আর ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে তা ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, স্বাভাবিক হিসেবে ১১তম গ্রেডের কর্মী ৭০০ টাকা বেশি পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বেতন সমন্বয় করতে গিয়ে ঘটল বিপত্তি! দেখা গেল, ১১তম গ্রেডের কর্মীর মূল বেতন যেখানে গিয়ে ঠেকল ৩৭ হাজার টাকায়, সেখানে ১২তম গ্রেডের কর্মীর পকেট ভারী হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ, জুনিয়র কর্মী উল্টো ৭০০ টাকা বেশি পেয়ে যাচ্ছেন। নতুন কাঠামোর ত্রুটিপূর্ণ নিয়ম প্রয়োগের ফলেই এমন অমিল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীদের। তাঁদের স্পষ্ট কথা, এই নিয়মগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা না করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে না। আগামী রবিবারই চার মাসের বকেয়াসহ নতুন স্কেলে বেতন পাওয়ার কথা, অথচ মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই দুই লাখের বেশি কর্মীর হিসাব-নিকাশই শেষ করা যায়নি। এই অচলাবস্থা নিরসনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আকুতি জানিয়েও মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি। ১৪ লাখ কর্মীর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন চূড়ান্ত হয়েছে ১২ লাখের, আর বাকি দুই লাখ এখনো ঝুলে আছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল বেতন নির্ধারণের কর্মযজ্ঞ। কিন্তু হিসাব মেলাতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে দেখা দেয় একের পর এক জটিলতা। এর সঙ্গে কাটা ঘায়ে নুনের মতো যোগ হয়েছে আইবাস++ সফটওয়্যারের নানা বিপত্তি। পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখে কুলুপ এঁটেছেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। তবে অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কিছু পেশাগত অনভিজ্ঞতার কারণেই মূলত এই ভুলের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এগুলো সামাল দিতে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাঁদের বেতন নতুন নিয়মে এখনো সাজানো সম্ভব হয়নি, তাঁরা আপাতত পুরোনো নিয়মেই বেতন পাবেন। বকেয়া টাকা কোথাও হারাচ্ছে না, পরবর্তীতে তা পরিশোধ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, ১ নভেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এই জটিলতার জট খোলা হয়তো সম্ভব হবে না।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream