বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
একটু কথা বলে ফেরার কথা, পরে মিলল তাহসিফের মরদেহ

একটু কথা বলে ফেরার কথা, পরে মিলল তাহসিফের মরদেহ

বিমানবাহিনীর বরখাস্ত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তুরাগ নদ থেকে। মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরো সময়ই মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। তাদের জন্য কেনাকাটাও করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে তার এক জুনিয়র সহকর্মী বাসার নিচে এসে ডাকলে মাকে বলে বাইরে বের হন তাহসিফ। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন।এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। ছেলের খোঁজ পেতে বারবার ফোন করেও সাড়া পাননি তার মা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’এরপরও বাসায় না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরদিন বিকেলে তারা খবর পান, উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।তিনি আরও বলেন, পুলিশ তখন তাকে আশ্বস্ত করে জানায়- খারাপ কোনো খবর নেই। তবে ওই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নদীতে লাশ পাওয়ার খবর দেন।তাহসিফের বাবা বলেন, রাজাবাড়ীর ঘাটে লাশ পাওয়া যায়। সেখানে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় তার ছেলে কখনো গেছেন বলে তার জানা নেই। কারা বা কেন তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তাহসিফের বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে। বিভাগ থেকে শুধু জানানো হয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।চাকরি হারানোর পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলেও জানান তার বাবা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজের পর সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করছিলেন তিনি।ছেলেকে তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।  নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা পরিবারকে জানাননি তাহসিফ।

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্তে পুলিশ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি মাঝেমধ্যে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। ঘটনার দিনও উত্তরা এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।স্থানীয়রা ছোট নৌকায় নদ পারাপারের জন্য রাজাবাড়ী ঘাট ব্যবহার করেন। পুলিশ জানায়, তাহসিফ মাঝেমধ্যেই এই ঘাট এলাকায় যেতেন। ঘটনার দিনও তিনি বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন তাহসিফ এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। তদন্তের অংশ হিসেবে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না এবং এরপর কী ঘটেছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মরদেহের অবস্থান, শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি এবং অন্যান্য আলামত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঢাকা অঞ্চল নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’ তিনি জানান, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দল যায়। ফরেনসিক ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তাহসিফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কিনা, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্তে পুলিশ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream