একটু কথা বলে ফেরার কথা, পরে মিলল তাহসিফের মরদেহ
বিমানবাহিনীর বরখাস্ত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তুরাগ নদ থেকে। মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরো সময়ই মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। তাদের জন্য কেনাকাটাও করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে তার এক জুনিয়র সহকর্মী বাসার নিচে এসে ডাকলে মাকে বলে বাইরে বের হন তাহসিফ। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন।এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। ছেলের খোঁজ পেতে বারবার ফোন করেও সাড়া পাননি তার মা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’এরপরও বাসায় না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরদিন বিকেলে তারা খবর পান, উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।তিনি আরও বলেন, পুলিশ তখন তাকে আশ্বস্ত করে জানায়- খারাপ কোনো খবর নেই। তবে ওই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নদীতে লাশ পাওয়ার খবর দেন।তাহসিফের বাবা বলেন, রাজাবাড়ীর ঘাটে লাশ পাওয়া যায়। সেখানে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় তার ছেলে কখনো গেছেন বলে তার জানা নেই। কারা বা কেন তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তাহসিফের বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে। বিভাগ থেকে শুধু জানানো হয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।চাকরি হারানোর পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলেও জানান তার বাবা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজের পর সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করছিলেন তিনি।ছেলেকে তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা পরিবারকে জানাননি তাহসিফ।