বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
বাংলাদেশ-ভারত এমপিদের নিয়ে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ চান দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশ-ভারত এমপিদের নিয়ে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ চান দীনেশ ত্রিবেদী

দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে আজ বুধবার পৃথক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বন্ধুত্ব গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে পারেন বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যরা। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে সংসদে। ভারত ও বাংলাদেশসহ যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই সাধারণ মানুষ সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাইকমিশনার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, ভবনটি অত্যন্ত সুন্দর। এর চারপাশের জলাধার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তাকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হোয়্যার দ্য মাইন্ড ইজ উইদাউট ফিয়ার অ্যান্ড দ্য হেড ইজ হেল্ড হাই’- এই ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, উভয়ের সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের সংসদ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিভাবে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সাথে সকালে তার কথা হয়েছে। বাংলাদেশের স্পিকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওম বিড়লা। একই সাথে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফর এবং ভারতের ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’- সংসদ ভবন পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবিত ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপে দুই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা দলীয় বিভাজন অতিক্রম করে অংশ নিতে পারেন। রাজনীতি নিজ নিজ পথে চলবে, তবে সংসদ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রতিষ্ঠান। দুই দেশের সংসদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংসদ ডিজিটাইজেশনের বিষয়েও সাংবাদিকদের অবহিত করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ভারতের সংসদের লাইব্রেরিসহ সংসদীয় কার্যক্রমের বিপুল পরিমাণ তথ্য ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি, অধিবেশনের কার্যসূচি ও পুরোনো বক্তব্য সহজেই দেখতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, বিষয় বা ব্যক্তির বক্তব্য খুঁজতে একটি বোতাম চাপলেই তা পাওয়া সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আলোচনা একটি প্রবাহমান নদীর মতো- এটি চলতেই থাকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের উদ্দেশ্য যদি জনকল্যাণমুখী হয়, তাহলে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে তিনি আশাবাদী। এর আগে দীনেশ ত্রিবেদী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে পৃথকভাবে তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র : বাসস

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream