শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জাপানে উচ্চ বেতন ও দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ, স্বাক্ষরিত হয়েছে চুক্তি

জাপানে উচ্চ বেতন ও দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ, স্বাক্ষরিত হয়েছে চুক্তি

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব-এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) চুক্তি স্বাক্ষর ও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর আগে রোববার (১৭ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে সই করেন। বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এই চুক্তির অধীনে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৫ বছর। আর মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর। ঐতিহাসিক এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে অভূতপূর্ব সুযোগ ও সুরক্ষা লাভ করবেন। চুক্তির মূল সুবিধাগুলো তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে কর্মীরা উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ পাবেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির আওতায় কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নারী বিদেশি কর্মীদের প্রতি গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুত বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। তাই গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতির কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের আশা টোকিওর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মাধ্যমে ঢাকা–টোকিওর মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাপান। পাশাপাশি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো এবং হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়’ (এফওআইপি) কৌশল বাস্তবায়নে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এই সরকারি সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন। জাপানে অবস্থানকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ‘জাপানের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতিতে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এফওআইপি) কৌশল’ বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের আশা টোকিওর

মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ থেকে নমুনা আনতে জাপানের মহাকাশযান উৎক্ষেপণ

মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ ‘ফোবোস’ থেকে পাথরের গুঁড়ো ও ধূলিকণা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে জাপান। অভিযানটি সফল হলে মঙ্গলগ্রহ বা এর কোনো উপগ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি হবে প্রথম ঘটনা।জাপানের মহাকাশ সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘মার্স মুনস এক্সপ্লোরেশন’ (এমএমএক্স) নামের এই মিশনটি ২০২৭ সালের আগস্টে ফোবোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রথমে মহাকাশযানটি মঙ্গলের আরেকটি ছোট উপগ্রহ ডিমোস পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর ফোবোসে একটি রোভার নামানো হবে।এই নমুনা বিশ্লেষণের দায়িত্বে থাকা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক সারা রাসেল অভিযানটিকে যুগান্তকারী ও রোমাঞ্চকর বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ফোবোসের মহাকর্ষ বল কম হওয়া এবং মঙ্গলের প্রবল মহাকর্ষীয় টানের কারণে সেখানে রোভার অবতরণ করানো বেশ কঠিন হবে বলেও জানান তিনি। ফোবোসে সফলভাবে অবতরণের পর একটি রোবোটিক বাহুর সাহায্যে প্রায় ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করা হবে, যা ২০৩১ সালে একটি ক্যাপসুলে করে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উমেরা মরুভূমিতে পৌঁছাবে। নমুনার পরিমাণ মাত্র ১০ গ্রাম হলেও লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ক্রিসা অ্যাভডেলিডু বলেন, একেকটি ক্ষুদ্র কণার ওপরও আমরা গবেষণা চালাতে পারি... বিজ্ঞানচর্চার জন্য কেজির পর কেজি নমুনা লাগে না। তাই প্রতিটি গ্রামই অত্যন্ত মূল্যবান। বিজ্ঞানীদের আশা, এই গবেষণার মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহের দুটি উপগ্রহের সৃষ্টিরহস্য উন্মোচিত হবে। উপগ্রহ দুটি মঙ্গলে কোনও বিশালাকার সংঘর্ষের ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষ থেকে এসেছে, নাকি পথভ্রষ্ট দুটি গ্রহাণুকে মঙ্গলের মহাকর্ষ আটকে ফেলেছে, নমুনার রাসায়নিক ও খনিজ উপাদান পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান সারা রাসেল। এছাড়া ফোবোসের গায়ে মঙ্গলের নিজস্ব কণাও গেঁথে থাকতে পারে, যা লাল গ্রহটির আদি ইতিহাস জানতে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সংকট চলায় নাসার মার্স স্যাম্পল রিটার্ন মিশন স্থগিত রয়েছে এবং চীন ২০২৮ সালে তাদের নিজস্ব মিশন চালুর পরিকল্পনা করছে। ফলে জাপানের এই নিষ্কলুষ ও অবিকৃত নমুনা সংগ্রহ মিশনটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের কাছে এখন বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে।

মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ থেকে নমুনা আনতে জাপানের মহাকাশযান উৎক্ষেপণ

পুরুষ রাজনীতিকদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মেকআপ করা ও ঘরের কাজের কারণে পুরুষ রাজনীতিকদের তুলনায় বেশি সময় কাজ করতে হয় বলে জানিয়েছেন। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছেন, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় তাকে 'তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি' কাজ করতে হয়। তার এই মন্তব্যের পর জাপানে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, 'সকালে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি ও বাসন ধুই, এরপর মেকআপ করি।' তিনি বলেন, 'এসব কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা এসব কাজে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে আমার তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।' অতিরিক্ত কাজ করতে অভ্যস্ত হিসেবে পরিচিত তাকাইচি বলেন, ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগে মেকআপ করে নিজেকে আরও পরিপাটি করে তুলতে তার বাড়তি সময় লাগে—এ বিষয়টি অনুধাবন করতে তার সহযোগীদের কিছুটা সময় লেগেছিল। জাপানে এখনও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার বিভাজন বেশ কঠোর। দেশটিতে পুরুষদের দীর্ঘ সময় কাজ করা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, কর্মজীবী নারীদেরও ঘরের কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব সামলাতে হয়। দেশটির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন ঘরের কাজে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করেন। বিপরীতে, গড়ে একজন পুরুষ এসব কাজে ব্যয় করেন প্রায় ৪০ মিনিট। সূত্র: এনবিসি নিউজ

পুরুষ রাজনীতিকদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নাগোয়ায় আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের

অনিন্দ্যসুন্দর নাগোয়া শহর যেন সবুজে ঘেরা। পিচঢালা পথে হাঁটতে গেলে চোখ জুড়িয়ে যাবে আইচির রাজধানীর সৌন্দর্যে  এশিয়ান গেমসকে ঘিরে শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই নগরী কিছুদিন ধরে বুদ হয়ে আছে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে এখন এশিয়ায় সববৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার অপেক্ষা। স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যা ৬টায় ৪৫ দেশের ১১ হাজার ক্রীড়াবিদের মিলনমেলায় নাগোয়ার ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হবে এশিয়ান গেমসের বিশতম আসরের। ৩০ হাজার ধারণক্ষমতা এই স্টেডিয়ামকে গেমসের জন্য নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তোলা হবে জাপানের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। জাপানের সম্রাট নারুহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মাসাকোসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনীর মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এবং কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। জাপানের ঐতিহ্যবাহী পারফরম্যান্স এবং সংস্কৃতির মিশ্রণে একটি বর্ণিল প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে অতিথিদের। সবশেষে আসরের অফিসিয়াল মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বরাবরই গোপনীয়তা রক্ষা করে আয়োজকরা। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে এমন পরিকল্পনা। হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনীতে যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল, নাগোয়াতেও সেটি থাকতে পারে বলে মিলেছে আভাস। জাপানি ঐতিহ্য, বিশেষ করে আইচি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলতে ড্রাম পারফরম্যান্স এবং স্থানীয় সংস্কৃতির নানা প্রদর্শনী থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ধারণা বা থিম হলো ‘হারমোনিক হার্ট বিট’; যা দিয়ে এশিয়ার অ্যাথলেটদের এক হৃদয়ে স্পন্দিত হওয়ার ঐক্যকে ফুটিয়ে তোলা হবে।  অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান হাইলাইট হলো জাপানের অতীত গেমসের ইতিহাসবিজড়িত তিনটি স্থান। ১৯৫৮ সালের টোকিও, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস, ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক এবং বর্তমানের আইচি-নাগোয়া থেকে সংগৃহীত পবিত্র শিখা একত্রে মিলিত করে মূল স্টেডিয়ামে শিখা প্রজ্বালন করা হবে। এবারের এশিয়ান গেমসে জাপানের সংস্কৃতির ছোঁয়া দিতে পদকের কেসগুলো তৈরি করা হয়েছে আইচি প্রিফেকচারের ঐতিহ্যবাহী চা-চক্র সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে স্থানীয় ‘হিনোকি’ কাঠ দিয়ে। ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রধান নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাগোয়ায় জন্ম নেওয়া খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সুকিহিকো সুতসুমি। উদ্বোধনীর রং লাগার আগেই পদকের লড়াই শুরু হয়েছে। যে লড়াইয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট, নারী ফুটবল এবং পুরুষ হকি দল নেমেছে। আইচির এশিয়ান গেমসে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের ৪৬৯ ইভেন্টে ১ হাজার ৪০৭টি পদকের লড়াইয়ে অংশ নেবেন অ্যাথলেটরা। স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে লাল-সবুজের দলটি অংশ নেবে ২২টি ডিসিপ্লিনে। ক্রিকেট আর ফুটবল দিয়ে স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়েছে। মেয়েদের ক্রিকেটে সেমিফাইনালে উঠলেও নারী ফুটবলে হয়েছে বিপর্যস্ত। দুই কোরিয়ার কাছে ১৬ গোল হজম করা ঋতুপর্ণা চাকমা-মনিকা চাকমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার আশা প্রায় ফিকে। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দেওয়া ক্রিকেটকে ঘিরে এবার পদকের আশা। এরসঙ্গে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শুটার, আরচাররাও।

নাগোয়ায় আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের

এশিয়ান গেমস ঘিরে জাপান সফরে সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেছেন।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সফরকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।  এছাড়া, সেনাবাহিনী প্রধান এশিয়ান গেমসের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

এশিয়ান গেমস ঘিরে জাপান সফরে সেনাপ্রধান

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সোমবার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream