মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফিজিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা

এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফিজিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা

এইচআইভিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন আক্রান্ত। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা মন্ত্রী ড. রাতু আন্তোনিও লালাবালাভু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু প্রাদুর্ভাব পর্যায়ের ব্যবস্থা নেওয়া আর যথেষ্ট নয়। এটিকে ‘মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফিজিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি। মহামারির ভয়াবহতা এবং দেশের জরুরি অবস্থা ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ফিজিতে এখন প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। এ ছাড়া প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত। মন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর আগে এই হিসাব ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। ২০২৫ সালে নতুন করে ২ হাজার ৬০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার নেওয়া সিদ্ধান্তের পর এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফিজিতে ১০ লাখেরও কম মানুষের বসবাস। জাতিসংঘের এইডস-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে এমন দেশগুলোর একটি ফিজি। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ১২ গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবে ফিজির ভৌগোলিক অবস্থান এবং অনিরাপদভাবে মাদক গ্রহণের জন্য ইনজেকশন ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে কম সচেতনতা, সাংস্কৃতিক কারণে তৈরি সামাজিক কলঙ্ক এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগের ঘাটতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ইউএনএইডস বলছে, তথ্য অনুযায়ী, ফিজিতে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন জানা গেছে, তাঁদের অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। আর ৪২ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সংক্রমণের সঙ্গে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে ফিজিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত ছিলেন। তাঁদের মাত্র ৩৯ শতাংশ জানতেন যে তাঁরা এইচআইভিতে আক্রান্ত। আর মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ফিজির পরিস্থিতি ‘বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে এইডস এখনো শেষ হয়ে যায়নি’।

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবির ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট’ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পর এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করবে কমিটি। ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ গত ৫ মে অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমি বেগম নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।  প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর তাঁর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (ডিকেএ) আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শ, কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ এলে তা আমলে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। যেহেতু ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, এটিও তদন্ত হবে। এই অভিযোগ তদন্তে আমরা কমিটি গঠন করেছি। এ ছাড়া অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করবে কমিটি।’ কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্যসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে কেন টান লাগে

আমাদের অনেকেরই ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান বা খিঁচুনি লাগে। ঘুম থেকে জেগে উঠে অস্বস্তিকর অনুভূতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সাধারণত পেশির ক্লান্তি এবং স্নায়ুজনিত নানা অস্বস্তির কারণে এটি ঘটে থাকে বলে মনে করা হয়। রাতের বেলা পায়ের পেশিতে টানের মূল কারণ শরীরে পানিশূন্যতা বা ভিটামিনের অভাবের চেয়ে বেশি যুক্ত পেশির অবস্থান ও দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয়তা। রাতে পায়ের পাতা বা আঙুলগুলো নিচের দিকে রেখে ঘুমালে বা ভারী কম্বলের চাপে থাকলে কাফ মাসল দীর্ঘক্ষণ সংকুচিত অবস্থায় থাকে। এর ফলে রাতে স্পাজম তৈরি হয়। সারা দিন দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার মতো অস্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডের কারণেও রাতে পেশিতে টান ধরতে পারে। নতুন ওষুধ শুরুর পর এই সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে জানানো উচিত। প্রদাহবিরোধী ওষুধ, স্ট্যাটিন, ডাইইউরেটিকস, আয়রন ইনফিউশন এবং অ্যাজমা ইনহেলার পেশিতে টান সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া নিচু পিঠের স্পাইনাল নার্ভের সমস্যা বা পারকিনসনস রোগের মতো স্নায়বিক অবস্থার কারণেও এটি হতে পারে। যদি প্রতি রাতে একই পায়ে টান ধরে এবং পায়ের অংশটি ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা গরম অনুভূত হয়; তবে তা সাধারণ টান না-ও হতে পারে। 

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে কেন টান লাগে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream