শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

করিডোর হবে, মাইনও সরবে—তবু হরমুজ খুলবে না ইরান

ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর এবং মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে বুধবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত পুনরায় চালু হবে না। তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রূপরেখার মধ্যে নৌ-চলাচলের অস্থায়ী করিডোর এবং মাইন অপসারণ প্রকল্প আছে।  মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রস্তাবিত রূপরেখাটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অবিচল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রণালির তীরবর্তী দেশ দুটি জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করারও চেষ্টা করছে। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। এর ফলে তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের মতো করে প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

হরমুজ সংকট নিরসনে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু করা নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনাটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি’।একই সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হরমুজ প্রণালির সংকট মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন। হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট নিরসনে ইরান ও ওমানের এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।তিনি বলেন, যেকোনো সমঝোতা স্মারকে কিছু না কিছু লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এসব লঙ্ঘন মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা উচিত ছিল, লড়াই করার জন্য নয়।অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযানে না গিয়ে দেশটির ওপর ক্রমাগত অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন কৌশল নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আপাতত খুব একটা উচ্চবাচ্য করছি না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যকর অবরোধ ইরানের সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের এই চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

হরমুজ সংকট নিরসনে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ইরান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার একটি সাধারণ কাঠামো চূড়ান্ত করেছে ইরান। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে সমঝোতাটি কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতার সাধারণ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত বিষয়গুলো শিগগিরই জানানো হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়তে পারে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও কয়েক দফা ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন ব্যয় ও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাবিত চুক্তি, তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্তই এর প্রধান বাধা।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনার অগ্রগতির দিকে বাজার-সংশ্লিষ্টরা নজর রাখায় জাহাজ চলাচল কমে গেছে।এর আগের দিন প্রণালিটি পার হয় মাত্র চারটি জাহাজ। এর মধ্যে ছিল বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ নিসোস কেয়া, যা ইরাকের বসরাহ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং একটি ছিল ছোট আকারের বাল্ক কার্গো জাহাজ।কোপ্লারের তথ্য বলছে, চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে। অন্যদিকে, মোট ২১টি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ইরান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream