শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে আহত একটি বিরল প্রজাতির উল্টোলেজি বানর (পিগ-টেইলড ম্যাকাক) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বানরটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা।স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়,দুপুরে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় একটি বানর বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল,সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত বানরটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বনাঞ্চল ক্রমে সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে লোকালয়ে আসার পথে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হচ্ছে তারা।তিনি বলেন,স্থানীয়রা সচেতন হয়ে দ্রুত খবর দেওয়ায় বানরটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।স্বপন দেব সজল আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে উল্টোলেজি বানরের মাত্র কয়েকটি ছোট দল বা ‘ট্রুপ’ অবশিষ্ট রয়েছে। পুরুষ,স্ত্রী ও বাচ্চা মিলিয়ে সাধারণত প্রতিটি দলে ২০ থেকে ২৫টি বানর থাকে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন ও সড়ক, খাদ্যসংকট এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।সঞ্জিত দেব জানান,উল্টোলেজি বানর ম্যাকাক গণের একটি প্রজাতি। এরা কুলু বান্দর,শুকরলেজি বানর,ছোটলেজি বানর,উলু বান্দর, সিংহ বানর ও সিঙ্গা বানর নামেও পরিচিত। সাধারণত নিচু এলাকার প্রাথমিক ও মাঝারি ধরনের বন,উপকূলীয় এলাকা, জলাভূমি ও পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশে মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের আবাস।তিনি বলেন,উল্টোলেজি বানরের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ১৮ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। ওজন প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ১২ কেজি। শূকরের মতো ছোট লেজটি ওপরের দিকে বাঁকানো থাকে। এরা দিবাচর এবং বৃক্ষ ও ভূমি উভয় পরিবেশে চলাফেরা করে। ফল, মূল, কচি পাতা,কুঁড়ি,কীটপতঙ্গ,কাঁকড়া ও বিভিন্ন ছোট প্রাণী এদের প্রধান খাবার। খাদ্যসংকটে কখনো কখনো শস্যখেতেও ঢুকে পড়ে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব বলেন, আবাসস্থল ধ্বংস,খাদ্যসংকট,সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা এবং বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো নানা কারণে বাংলাদেশে উল্টোলেজি বানরের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে ‘সংকটাপন্ন’ (Vulnerable) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশেও এটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মূলত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনাঞ্চলে উল্টোলেজি বানরের দেখা মেলে। তবে মৌলভীবাজারে এ প্রজাতির সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নিয়ে কোনো নির্ভুল প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। বন্যপ্রাণী গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলাটিতে এদের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং প্রজাতিটি তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন,বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা,লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তার নিরাপদ করা এবং বন্যপ্রাণী দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream