রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে পোল্যান্ডে উত্তেজনা, আদালতের সামনে বিক্ষোভ

বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে পোল্যান্ডে উত্তেজনা, আদালতের সামনে বিক্ষোভ

পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের নেতৃত্ব ও বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ আরও বেড়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার এবং বিরোধী দল আইন ও বিচার পার্টির (পিআইএস) মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ওয়ারশতে আদালতের বাইরে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার রাতে আদালত ভবনের সামনে কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভ করেন। এর আগে সংসদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতিরা আদালতের প্রেসিডেন্ট বোগদান শভিয়েচকোভস্কি এবং তাঁর ডেপুটি বার্তলোমেই সোখানস্কিকে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেন।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পিআইএস। দলটির ঘনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি সেনেগাল সফর বাতিল করে মাঝ আকাশ থেকেই দেশে ফিরে আসেন। এদিকে আদালত চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত দেশটির আইন সংবিধান অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে। আদালতের রায়ের কারণে কোনো আইন কার্যকর হওয়াও আটকে যেতে পারে। তাই বিচারপতি নিয়োগ ও আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে এই বিরোধ দেশটির রাজনীতিতে বড় সংকট তৈরি করেছে। এ সংকটের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। সে সময় টাস্কের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেয় জাতীয়তাবাদী পিআইএস। ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে বিদায়ী সংসদ পাঁচজন বিচারপতি নিয়োগ দিলেও সাংবিধানিক আদালত পরে জানায়, তাদের মধ্যে তিনজনের নিয়োগই বৈধ। কিন্তু নতুন পিআইএস-নিয়ন্ত্রিত সংসদ ওই তিনটি পদেও নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা বৈধভাবে নির্বাচিত তিন বিচারপতিকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী আট বছর পিআইএস সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত ২০২১ সালে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের স্বাধীনতা ও বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় ফিরে টাস্ক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। চলতি বছর সংসদ ১৫ সদস্যের সাংবিধানিক আদালতে আটজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়। তবে প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কি তাদের মধ্যে তিনজনকে শপথ পড়ালেও পাঁচজনের ক্ষেত্রে তা করেননি। ওই পাঁচ বিচারপতি নিজেরাই শপথ নিলেও আদালতের প্রেসিডেন্ট তাদের বিচারকাজ শুরু করতে দেননি। সর্বশেষ শুক্রবার বিচারপতি আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কা আদালতের প্রেসিডেন্ট ও তার ডেপুটিকে সাময়িক বরখাস্ত করে নিজে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  এদিকে বিচারমন্ত্রী ওয়ালদেমার জুরেক বরখাস্ত দুই বিচারপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বর আদালতের বিচারপতিদের বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream