পলাতক বনাম নন-পলাতক আওয়ামী লীগ: ফেসবুকে ভাইরাল কামালের প্ল্যাটফর্ম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের দেশ ত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত সুবিধাভোগী ও পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে অনলাইন বা সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক এলেও দেশীয় মাঠে মামলা, হামলা ও কারাবাসের শিকার হয়েছেন কেবল মাঠের সাধারণ কর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে আত্মপ্রকাশ করেছে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম—‘বাংলাদেশ নন-পলাতক আওয়ামী লীগ’। আর এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন।পলাতক বনাম নন-পলাতক মেরুকরণ ও নতুন প্ল্যাটফর্ম৫ আগস্টের পর থেকেই সাবেক যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দীন দলীয় নীতি নির্ধারণী মহলের চরম সমালোচনা করে আসছেন। তার মতে, বিপদের মুখে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নেতারা দেশীয় কর্মীদের নিরাপদ রাখতে কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। উল্টো বিদেশে বসে উসকানি দিয়ে তরুণ ও মাঠের কর্মীদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলছেন।এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তিনি গঠন করেছেন ‘বাংলাদেশ নন-পলাতক আওয়ামী লীগ’ এবং নিজেকে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিভি আহ্বান করে দেশের ৬৪টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই প্ল্যাটফর্মের কমিটি গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তার এই উদ্যোগকে অনেকে স্রেফ মজা বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নিলেও, তৃণমূলের একটি বড় অংশের মধ্যে পলাতক নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে।তৃণমূলের ক্ষোভ ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিবাদের ঝড়শুধু অ্যাডভোকেট কামাল নন, মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অসংখ্য আওয়ামী লীগ সমর্থক ও কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পলাতক নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। আকিব হাসান, সুলতান আহমেদ কিংবা মাহিয়া Maria Nijhum-এর মতো সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন—নেতারা বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে বিলাসী জীবন কাটালেও কেন তৃণমূলের কর্মীরা মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াবেন কিংবা কারাবরণ করবেন? বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিগত মাসগুলোতে তৃণমূলের এই ছন্নছাড়া ও ক্ষুব্ধ অবস্থা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।অ্যাডভোকেট কামালের পেছনের প্রেক্ষাপট ও পুরোনো বিতর্কঅ্যাডভোকেট কামালের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে। তিনি চট্টগ্রাম জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতির বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি এখনো তার সেই অনিয়মের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবিতে সরব। পাশাপাশি, সম্প্রতি তিনি এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমের বাইরেও আগামী সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাদের এড়িয়ে দেশীয় ত্যাগী ও নন-পলাতক কর্মীদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ধারার এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।