শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম

রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আসন্ন দুই বছরের মধ্যে আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় এই বৃদ্ধির প্রধান কারন। ফাইনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় ৬৩ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক ক্রয়ের রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের পর কিছু দেশ স্বর্ণ বিক্রি করলেও ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখনো অত্যন্ত জোরালো। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন গুঞ্জনে ট্রয় আউন্স প্রতি স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৫ ডলারে নামলেও ফান্ড ম্যানেজাররা দ্রুতই এর বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের আশা করছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছিল। ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার শার্লট ইয়ং জানান, ট্র্যাডিশনাল মুদ্রার প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের বিপরীতে স্বর্ণ একটি সেরা আর্থিক সুরক্ষা। আয়ন ইনভেস্টমেন্টসের কর্মকর্তা পল কারন এবং অ্যালাইড গোল্ডের সিইও পিটার মারোনে জানান, মার্কিন ডলারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফ্যামিলি অফিস ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ড ছেড়ে স্বর্ণ সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছে। পিপলস ব্যাংক অব চীন গত কয়েক মাসে তাদের রিজার্ভে স্বর্ণ যোগ করা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বর্তমানে তাদের মোট রিজার্ভের ৯ শতাংশ বা প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনই স্বর্ণ। এন্ডেভার মাইনিংয়ের সিইও ইয়ান ককারিল ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সুকি কুপারও বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার সুদৃঢ় ভিত্তি পেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মত দেন।

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ

অর্থনীতিতে মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের যৌথভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে। অর্থনীতিতে মন্দা ও দ্রুত প্রবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় সাধারণত সুদের হার কমানো এবং সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের পর থেকেই এ ধরনের স্থিতিশীলতামূলক নীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের সময় প্রচলিত কেইনসীয় মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। ওই সময় পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়। ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত নীতিগুলোর সীমাবদ্ধতা নতুন করে আলোচনায় আসে। এই প্রেক্ষাপটে হল ও উডফোর্ড অর্থনৈতিক মডেলকে আরও বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের গবেষণায় মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের প্রস্তাবিত মডেলগুলো ক্ষুদ্র অর্থনীতির নীতির সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণকে যুক্ত করে। ফলে মানুষ কীভাবে সঞ্চয় করে, কতটা ব্যয় করে কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে—এসব সিদ্ধান্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়। হল ও উডফোর্ডের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও বিবেচনা করে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে মানুষের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ভোগ, বিনিয়োগ ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের মতে, হল ও উডফোর্ডের গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে। জ্বালানির দামের আকস্মিক বৃদ্ধি কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় এসব মডেল নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করতে পারে। ২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। উদ্ভাবন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়, সে বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তারা পুরস্কারটি অর্জন করেন। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে তিনি নিজের সম্পদ এ পুরস্কারের জন্য উৎসর্গ করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীকালে অর্থনীতিতে পুরস্কার যুক্ত হয়, যার অর্থায়ন করে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে।

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ

জি-৭-এর মজুদ থেকে তেল ছাড়ায় স্বস্তি বিশ্ববাজারে

আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জি-৭ জরুরি মজুদ থেকে তেল খালাস করায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই সরবরাহ বৃদ্ধি মূল্যহ্রাসে ভূমিকা রেখেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রে ব্র্যান্ড ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ কমে ১০১.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ সেন্ট বা ১.০৩ শতাংশ কমে ৯০.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে গত শুক্রবার জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার অঙ্গীকার করে, যার প্রভাবে ব্র্যান্ড ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দামই নিম্নমুখী হয়। সূত্র: ডন

জি-৭-এর মজুদ থেকে তেল ছাড়ায় স্বস্তি বিশ্ববাজারে

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৮ বিলিয়ন ডলার যা প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হয়েছে। এই খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তে পারে বলে কংগ্রেসের নিরপেক্ষ হিসাব সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের তথ্য এতে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দেশটির সরকারি বাজেট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যয়ের পরিমাণ ২১ জুলাই সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উল্লেখ করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় সমান। সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয়ের বড় একটি অংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট যেখানে এবং যখন আঘাত হানতে চাইবেন, সেখানেই হামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র তাদের রয়েছে। সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হিসাব তৈরিতে কংগ্রেসের আর্থিক নিরীক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো ছিল ‘নির্ণায়ক’। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যয়ের এই হিসাব করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য পেনসিলভানিয়ার ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সেই খরচ আরও বাড়ছে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সিবিওর প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার খরচ ধরা হয়নি। যুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়তে পারে। সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জামের ঘাটতি পেন্টাগনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জুলাইয়ে সিনেটের শুনানিতে হেগসেথ গোলাবারুদের মজুত পূরণ করতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা জরুরি অর্থায়ন চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই অর্থ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শক চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন এবং যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। ১৯ জুন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার জন্য প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণও রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোক্তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় দেশটির আর্থিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আট বছরব্যাপী যুদ্ধে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। আর ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream