সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

চাকরির আশ্বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, মূল অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে থানায় সোপর্দ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চাকরির আশ্বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, মূল অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে থানায় সোপর্দ
ধর্ষণপ্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক তরুণীকে (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে মূল অভিযুক্ত বাসির মিয়াকে (২৬) আটকের পর জুতাপেটা করে ওই তরুণী ও তাঁর বোন চুনারুঘাট থানায় সোপর্দ করেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর শিল্প এলাকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানেই শায়েস্তাগঞ্জের রমাপুর গ্রামের বাসির মিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হন ওই তরুণী।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বাসির মিয়া ফোনে তরুণীকে জানান, তিনি তরুণীর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং সেদিনই দেখা করে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। সেই অনুযায়ী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে বাসির ও আরেক তরুণ তাঁকে অটোরিকশায় করে লালচান চা-বাগানে নিয়ে যান। তরুণীকে বলা হয়েছিল, চাকরিদাতা বাগানের বাংলোয় অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথমে দুজন তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে মোটরসাইকেলে বাসিরের পরিচিত আরও তিনজন সেখানে যান এবং তাঁরাও ধর্ষণে অংশ নেন। বাগানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজনও ঘটনা দেখে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে একে একে ছয়জন তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি জানান।

ঘটনার কথা পরিবারকে না জানিয়ে তরুণী শুধু তাঁর ছোট বোনকে জানান। দুই বোন মিলে বাসিরকে আটক করার পরিকল্পনা করেন। ছোট বোন মুঠোফোনে বাসিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং গতকাল শনিবার দুপুরে দেখা করার সময় ঠিক করেন। বাসির চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে দুই বোন তাঁকে আটক করেন। আশপাশের লোকজনও তাঁদের সহযোগিতা করেন। এরপর বাসিরকে জুতাপেটা করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক তরুণীকে এক ব্যক্তিকে গালাগাল করে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

আটক ব্যক্তিকে থানায় আনার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শনিবার রাতেই তরুণী বাদী হয়ে বাসির মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাসির মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা নিজেরাও ঘটনাস্থল ও আশপাশে তদন্ত করে ঘটনার আলামত পেয়েছি।’ তিনি জানান, বাসির মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয় : ধর্ষণ সিলেট বিভাগ হবিগঞ্জ মামলা চুনারুঘাট

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


চাকরির আশ্বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, মূল অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে থানায় সোপর্দ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক তরুণীকে (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে মূল অভিযুক্ত বাসির মিয়াকে (২৬) আটকের পর জুতাপেটা করে ওই তরুণী ও তাঁর বোন চুনারুঘাট থানায় সোপর্দ করেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর শিল্প এলাকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানেই শায়েস্তাগঞ্জের রমাপুর গ্রামের বাসির মিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হন ওই তরুণী।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বাসির মিয়া ফোনে তরুণীকে জানান, তিনি তরুণীর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং সেদিনই দেখা করে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। সেই অনুযায়ী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে বাসির ও আরেক তরুণ তাঁকে অটোরিকশায় করে লালচান চা-বাগানে নিয়ে যান। তরুণীকে বলা হয়েছিল, চাকরিদাতা বাগানের বাংলোয় অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথমে দুজন তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে মোটরসাইকেলে বাসিরের পরিচিত আরও তিনজন সেখানে যান এবং তাঁরাও ধর্ষণে অংশ নেন। বাগানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজনও ঘটনা দেখে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে একে একে ছয়জন তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি জানান।

ঘটনার কথা পরিবারকে না জানিয়ে তরুণী শুধু তাঁর ছোট বোনকে জানান। দুই বোন মিলে বাসিরকে আটক করার পরিকল্পনা করেন। ছোট বোন মুঠোফোনে বাসিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং গতকাল শনিবার দুপুরে দেখা করার সময় ঠিক করেন। বাসির চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে দুই বোন তাঁকে আটক করেন। আশপাশের লোকজনও তাঁদের সহযোগিতা করেন। এরপর বাসিরকে জুতাপেটা করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক তরুণীকে এক ব্যক্তিকে গালাগাল করে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

আটক ব্যক্তিকে থানায় আনার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শনিবার রাতেই তরুণী বাদী হয়ে বাসির মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাসির মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা নিজেরাও ঘটনাস্থল ও আশপাশে তদন্ত করে ঘটনার আলামত পেয়েছি।’ তিনি জানান, বাসির মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream