রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

অর্থনীতি

গ্যাস সংকট কাটাতে অবকাঠামো নির্মাণে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

গ্যাস সংকট কাটাতে অবকাঠামো নির্মাণে লাগবে দুই বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ:অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ: দেশে জ্বালানি সংকটের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা থেকে স্থায়ী উত্তরণে প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের প্রয়োজন।  স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে।  এলএনজি আমদানির উদ্যোগ: সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মন্ত্রী।  গ্যাস সংকট দূর করতে অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো টেকসই উপায়ে সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  

নিত্যপন্যের বাজারে আগুন, জেনে নিন আজকের বাজারদর

রাজধানীর কাঁচাবাজার ও মাছের বাজারে যেন দরদামের কোনো লাগাম নেই। শুক্রবারে (১৪ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে—চাল, ডাল, সবজি ও মাছের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসারের হিসাব মেলাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।ভোক্তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদল কিংবা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি সত্ত্বেও বাস্তবে বাজারে কোনো পরিবর্তন আসে না।বেশিরভাগ সবজিই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার আশপাশে। কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা, টমেটো ও গাজর ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা বিকোচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে।পটল, বেগুন, করলা, উচ্ছে, বরবটি ও কচুর লতির দর ৭০-৯০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে (৪০-৫০ টাকা) এবং চালকুমড়া ও শসা (৫০-৬০ টাকা)। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়তেই অতিরিক্ত দামের সাথে পরিবহন খরচ ও পচনজনিত ক্ষতি যোগ করতে হয় বলে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।দেশি পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল ও বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজি দরে। এমনকি সাধারণ কাচকি মাছও ৫০০-৭০০ টাকা হাঁকা হচ্ছে। নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভরসা চাষের মাছের বাজারও চড়া। চাষের পাঙাশ ২০০-২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-৩০০ টাকা এবং রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৫০০ টাকা কেজিতে। কেবল খুচরা বাজারে অভিযান না চালিয়ে পাইকারি বাজার, মজুত, পরিবহন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে কঠোর নজরদারি চালানোর দাবি খুচরা বিক্রেতাদের।অসাধু ব্যবসায়ী ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে বাজারে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নিত্যপন্যের বাজারে আগুন, জেনে নিন আজকের বাজারদর

মুরগি-ডিম-দুধের দামে নতুন ধাক্কা, কিছুটা স্বস্তি সবজিতে

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে মুরগি, ডিম ও দুধের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম ও দুধের দামও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের আমিষের চাহিদা পূরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহের উচ্চমূল্যের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সবজির দামে। সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে, যদিও কিছু সবজি এখনও ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার পাস্তুরিত দুধ ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দাম আগের মতোই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।এদিকে ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা ছিল, এখন তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এর দাম নেমে এসেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।বাজারে বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি কুমড়া ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।নারিন্দা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আমিনুল হক বলেন, বৃষ্টির কারণে কয়েক সপ্তাহ সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছিল। এখন মাঠ থেকে বেশি সবজি আসায় অধিকাংশ পণ্যের দাম কমেছে। তবে মৌসুম না থাকায় কিছু সবজির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি।ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী আবির ইমন বলেন, আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমলেও সব ধরনের পণ্য এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।কারওয়ান বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমতে পারে। তবে খুচরা পর্যায়ে অনেক বিক্রেতা এখনও বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছেন।কিচেন মার্কেটের ডিম বিক্রেতা মো. রফিকুল হক বলেন, বন্যার অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। কার্যকর বাজার তদারকি না থাকায় ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।মুরগি বিক্রেতা আব্দুল কাদেরের দাবি, খামার পর্যায়েই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। পোল্ট্রি খাদ্য, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।যাত্রাবাড়ী আড়তের ডিম বিক্রেতা জসিম বলেন, খামার থেকেই বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। তাই ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বাড়ায় মুরগি, ডিম ও দুধের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।

মুরগি-ডিম-দুধের দামে নতুন ধাক্কা, কিছুটা স্বস্তি সবজিতে

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ

চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে অনেকেই ধারদেনা বা সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে কাটছাঁট করতে হচ্ছে নানা অপরিহার্য উপাদান।শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আরও বেড়েছে। তবে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে গরুর মাংসের বাজার।মাংস ও ডিম: ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। তবে সোনালি (৩২০-৩৪০ টাকা), হাইব্রিড (২৯০-৩০০ টাকা) ও লেয়ার (৩৫০ টাকা) মুরগির দামে পরিবর্তন আসেনি। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।মাছ ও অন্যান্য: সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পুকুরে চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইসহ সাধারণ মানুষের পাতে থাকা মাছগুলোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।রিকশাচালক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিদিনের সীমিত আয়ে পরিবারের খাদ্যের সংস্থান, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো এখন তাদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream