বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সরকারি চাকরিতে মোবাইল ভাতার সুবিধা বাড়ছে

সরকারি চাকরিতে মোবাইল ভাতার সুবিধা বাড়ছে

প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে মোবাইল ভাতার আওতায় আসছেন। এতদিন এ সুবিধা পেতেন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতার সুপারিশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে ১ হাজার ৫০০, চতুর্থ-পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার, ষষ্ঠ-দশম গ্রেডে ৫০০ এবং ১১তম-বিংশ গ্রেডে ৪০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতে পারত। তবে সচিব কমিটি ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ব্যবহার করতে হয়। তাই সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক হলেও সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে বেতনস্কেলজাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর করা হবে। নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। এ ছাড়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতানতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

পে-স্কেল ঝুলিয়ে রাখলে সংকট আরও জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে সরকার পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটির মতে, বিষয়টিকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখলে সংকট কমবে না, বরং যত দেরি হবে পরিস্থিতি ততই জটিল রূপ নেবে। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর মূল্যায়ন’ বিষয়ক এক মিডিয়া সংলাপে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণ ব্যাখ্যা করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চলতি অর্থবছরের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে, যা বড় একটি আর্থিক সীমাবদ্ধতা। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে তা ভাগে ভাগে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে কিছুটা সময় প্রার্থনা করা হতো, তবে পরিস্থিতি এতদূর গড়াতো না। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখলে সরকারের অন্যান্য কাজও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিপিডি। সরকারের গত ছয় মাসের পারফরম্যান্স তুলে ধরে সিপিডি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা ও বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল বা হোয়াইট পেপার তৈরি না করায় এখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিসংখ্যানের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা ৯টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিপিডি। তবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

পে-স্কেল ঝুলিয়ে রাখলে সংকট আরও জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream