রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর ১০ মাসে নিঃশেষ ৩০০ পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর ১০ মাসে নিঃশেষ ৩০০ পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু একজন বা দুজন নয়, একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছেন একই পরিবারের একাধিক সদস্য। কখনো মোটরসাইকেলে স্বামী-স্ত্রী, কখনো অটোরিকশায় পরিবারের কয়েকজন, আবার কখনো মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটকারে থাকা পুরো পরিবারই ফিরছে লাশ হয়ে। এমন দুর্ঘটনায় গত ছয় বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।  সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর মধ্যে অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রবিবার (৮ নভেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।  প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই থেকে সাতজন পর্যন্ত নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২১১টি, তিনজন ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৩টি। মাইক্রোবাস দুর্ঘটনাতেও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ১৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭০৮ জন।  এর মধ্যে একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯টি, পাঁচজন ২৮টি, ছয়জন ২০টি, ১১ জন চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একটি। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-সন্তানের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯৩টি এবং বাবা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ১৫৯টি। এসব দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ৩৮৬ জন এবং বাবা-সন্তান ৩১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই থেকে পাঁচজন নিহত হওয়ার ১০৮টি ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩৫২ জনের। অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ৪৫টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন। বাস দুর্ঘটনায় ৩২টি ঘটনায় একই পরিবারের ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে কিংবা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, চালকদের অদক্ষতা এবং বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানোকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দায়ী করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপদ নকশা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি যানবাহনের চলাচল নজরদারি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এনইউ

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream