শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রিয়ালের জয়ের পরও বিতর্কে গুলেরের কনুই

রিয়ালের জয়ের পরও বিতর্কে গুলেরের কনুই

৪-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন। তারা লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়ে এনেছে। অথচ ম্যাচ শেষে আলোচনায় রিয়ালের দাপুটে জয় কিংবা এমবাপ্পের গোল নয়। সব ছাপিয়ে আলোচনায় আর্দা গুলেরের একটি ‘কনুইয়ের আঘাত’, যা আদৌ ঘটেছে কি না, সেটিই মানতে নারাজ রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও! রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল মরিনিওর দল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তালিকায় তিনে উঠেছে রিয়াল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এবং শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে সেভিয়া। আগামী সপ্তাহেই বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো। তার আগে এমন জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা। কিন্তু সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসার দাবি, ম্যাচের ২৫ মিনিটেই একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার কথা ছিল রিয়ালের। সেটি হলে ম্যাচের গল্পটাও অন্য রকম হতে পারত। ঘটনাটি প্রথমার্ধের। তখনো ম্যাচে গোল হয়নি। সেভিয়ার জেরার্দ ‘পিকে’ ফার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন গুলের। কিন্তু রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। গুলেরকে লাল কার্ডও দেখানো হয়নি। এতেই ক্ষুব্ধ সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। ম্যাচ শেষে তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ৬৫ মিনিট একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাঁর দল। গার্সিয়া প্লাসা বলেছেন, ‘আজ ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের একজন বেশি নিয়ে খেলার কথা ছিল। ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন। এরপর ম্যাচে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। এটা অবিশ্বাস্য। আমি নিজে ঘটনাটা দেখেছি। বিরতিতে পিকে আমাকে বলছিল, ও (গুলের) আমাকে মেরেছে। এটা পরিষ্কার লাল কার্ড।’ সেভিয়া কোচ এখানেই থামেননি, ‘হয়তো আমরা তারপরও জিততে পারতাম না। কিন্তু ৬৫ মিনিট আমাদের ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে খেলার কথা ছিল। আমার কাছে এটাই ম্যাচের সারসংক্ষেপ।’ তবে মরিনিওর চোখে ঘটনাটিই নাকি পড়েনি! শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশনের ফুটেজ থেকে শুরু করে নিজের কোচিং স্টাফের ধারণ করা ভিডিওতেও অভিযুক্ত আঘাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি বলে দাবি রিয়াল কোচের। সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেছেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কোনো ছবি আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। কোনো ফুটেজ নেই। আমি টেলিভিশনের ফুটেজ চেয়েছি। আমাদের কোচিং স্টাফের ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও দেখতে চেয়েছি। কিন্তু লুইসকে (গার্সিয়া প্লাসা) যে ঘটনাটি এত ক্ষুব্ধ করেছে, তার কোনো ছবিই দেখতে পাইনি।’ মরিনিও অবশ্য দাবি করেছেন, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে রিয়াল অন্যায় সুবিধা পেলে সেটি স্বীকার করতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর ধারণা, উল্টো ঘটনাই বেশি ঘটবে। পর্তুগিজ কোচের কথায়, ‘সত্যি বলতে, কোনো দিন যদি এমন কিছু ঘটে, যাতে আমরা সুবিধা পাই, সেটি স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয়, উল্টো ঘটনাই অনেক বেশি ঘটবে। প্রবণতাটা সে রকমই। আমি কিছুই দেখিনি। শনিবারের মধ্যে কেউ যদি আমাকে এমন কোনো পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ ছবি দেখাতে পারে, যা আমি এখনো দেখিনি এবং যে ঘটনা ঘটেনি বলে আমার খেলোয়াড় দাবি করছে, তাহলে আমি সেটি নিয়ে কথা বলব। তার আগে নয়।’ গুলেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এত প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তাঁর মতে, ৪-১ গোলে হারের পর বিতর্কিত একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা সেভিয়া কোচের জন্য বরং সুবিধাজনক। মরিনিও বলেছেন, ‘আমি লুইসকে বুঝতে পারছি। তাঁর দল ৪-১ গোলে হেরেছে। এমন অবস্থায় কোচকে যদি এমন একটি ঘটনা নিয়ে চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়, যেটি ঘটেইনি, তাহলে তো তাঁর জন্য দারুণ ব্যাপার!’ ঘটনার সময়ই সহকারী কোচ পেদ্রো মাচাদোকে ফুটেজ দেখানোর কথা বলেছিলেন মরিনিও। কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘হয়তো অন্য কোনো ক্যামেরায় কিছু আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখিনি।’এরপর সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন রিয়াল কোচ, ‘আপনাদের কেউ কি ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে দেখেছেন? তাহলে বুঝতে পারছেন, এ নিয়ে এত প্রশ্ন করার এই আবেশটা আমার কাছে কেন অদ্ভুত লাগছে।’

ভিনিসিয়ুসের দুঃসময়ে সমর্থনের হাত বাড়ালেন মরিনিও

চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, গ্যালারিতে দুয়ো আর নিজের পারফরম্যান্সে হতাশা—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এই সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও।চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞার খবর আসে। এ নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মরিনিও। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুসও।শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।এরপর চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রতিযোগিতা কমিটি। ফলে লিগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। এমনকি বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতেও তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়েই বেশি ক্ষুব্ধ মরিনিও। রোমার মাঠে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪–৩ গোলে জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘আপনার কি মনে হয়, স্প্যানিশ একটি দলের একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর জানানো স্বাভাবিক? ম্যাচটি স্প্যানিশ ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ কি এখন সিদ্ধান্তটি জানাতে পারত না? আগামীকাল সকালে জানাতে পারত না? আমাদের কি বাসে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময়ে জানতে হবে যে ভিনিসিয়ুস চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে?’ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মরিনিও আরও বলেন, ‘এখন তারা নির্লজ্জভাবে এসব কাজ করে। আসল বিষয়টি এখন আর গোপন নেই। ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড়কে জানতে হবে যে সে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে!’ স্প্যানিশ ফুটবলের স্বার্থের প্রসঙ্গও টেনে আনেন পর্তুগিজ কোচ। তাঁর ভাষায়, ‘একটি স্প্যানিশ দল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে। স্প্যানিশ ফুটবলের র‍্যাঙ্কিং ও মর্যাদা বাড়িয়েছে। আর আপনারা ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে চান? আমার কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয় না।’ মরিনিওর মতে, এমন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়ের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, ‘অন্তত এটুকু বলতে পারি, এটি সম্মানের অভাব।’ ভিনিসিয়ুস নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে, ‘আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়টা ঠিক ছিল না। সারা দিন সময় ছিল তাদের। অথচ আমি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরই খবরটি জানতে পারলাম। আর আমি কখনো অন্য কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করিনি। আমাকে মাঠে অনেক ফাউল করা হয়। অথচ আমার ক্ষেত্রে (প্রতিপক্ষের জন্য) একটি হলুদ কার্ডই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।’ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও নিজের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করতে পিছপা হননি ভিনিসিয়ুস। রোমার বিপক্ষে বদলি হয়ে উঠে যাওয়ার সময় রাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ভিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। আমাকে বদলি করার পর রেগে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং দলকে সাহায্য করতে চাই। তবে বদলি খেলোয়াড়েরাই কাল দলকে বদলে দিয়েছে। এনদ্রিক মাঠে নেমে খেলার চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমার মতে, সে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিল। কার্লোসও অল্প সময়ের জন্য নেমে গোল করেছে।’ ম্যাচে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি নিজের ওপরই রাগান্বিত, কারণ আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভিনি আবার ফিরে আসে। আমি নিশ্চিত, এবারও ফিরব।’ রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের দুয়ো নিয়েও মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস। তবে সমর্থকদের প্রতি অসম্মান দেখাননি। ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, ‘সমর্থকদের দুয়ো অবশ্যই আমাকে সাহায্য করে না। তবে মানুষ টিকিট কিনে মাঠে আসে। তাদের নিজস্ব মতামত আছে, আর আমি সেটাকে সম্মান করি।’

ভিনিসিয়ুসের দুঃসময়ে সমর্থনের হাত বাড়ালেন মরিনিও

রিয়ালের হয়ে গোল করে বিশেষ তালিকায় আইভরিয়ান তরুণ

আইভরি কোস্টের তরুণ তারকা ইয়ান দিওমান্দে প্রথম গোল করেই রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন। লা লিগায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রিয়ালের হয়ে গোল করা বিদেশি ফুটবলারদের বিশেষ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। এই তালিকায় রয়েছেন আশরাফ হাকিমি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোর মতো তারকারা।লা লিগার শনিবার অষ্টম রাউন্ডে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রিয়ালের ১-০ গোলের জয়ে একমাত্র গোলটি করেন দিওমান্দে। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে তার করা গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।ক্লাবের ইতিহাসে ২০ বছর বয়সের আগেই লা লিগায় গোল করা বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে দিওমান্দে ১১তম। আগামী নভেম্বরে ২০ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তরুণ ফুটবলার নিজের প্রথম গোল দিয়েই রিয়ালের ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন।ফুটবলভিত্তিক পরিসংখ্যানমাধ্যম ‘মিস্টার চিপ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানিয়েছে। দিওমান্দের আগে এই কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার গঞ্জালো হিগুয়েন, ফ্রান্সের রাফায়েল ভারানে ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও রদ্রিগো। তালিকায় রয়েছেন উরুগুয়ের আলভারো রদ্রিগেজ ও তুরস্কের আর্দা গুলারও।চলতি মৌসুমে জার্মানির আরবি লাইপজিগ থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন দিওমান্দে। তরুণ এই প্রতিভাকে দলে ভেড়াতে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি রিয়ালের ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন দিওমান্দে। 

রিয়ালের হয়ে গোল করে বিশেষ তালিকায় আইভরিয়ান তরুণ

লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

রিয়াল মাদ্রিদ দুই গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৯১তম মিনিটে শেষ পর্যন্ত কার্লোস এস্পির গোলে লা লিগায় এলচেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের শেষ দিকে একসঙ্গে একাধিক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় মাঠে নামিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। আরদা গুলের ফ্রি কিক এলচের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এরপর ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে দুটি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় এলচে। এরপর মরিনিও কার্লোস এস্পি ও এন্দ্রিককে মাঠে নামান। এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, দিয়োমান্দে ও ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে যোগ দেন এই দুই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকিই কাজে দেয়। বেলিংহামের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পেয়ে ক্রস করেন। সেই ক্রস থেকে ৯১তম মিনিটে গোল করেন এস্পি। ম্যাচ শেষে মরিনিও বলেন, ‘শেষ দিকে পরিবর্তনগুলো করার সময় আমি সবকিছুই ঝুঁকিতে রেখেছিলাম। আমরা জিতেছি, তবে হেরেও যেতে পারতাম। আমাদের এটা করতেই হতো, কারণ ড্র যথেষ্ট ছিল না।’ এস্পির প্রশংসাও করেছেন মরিনিও। চলতি মৌসুমে এবার দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করলেন এই ফরোয়ার্ড। এর আগে এস্পানিওলের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন তিনি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক থেকে সমতাসূচক গোল করলেও সেটি বাতিল হয়েছিল। এস্পি সম্পর্কে মরিনিও বলেন, ‘সে (এস্পি) ভালো করছে, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তার সামনে এমন একজন খেলোয়াড় আছে, যিনি স্বাভাবিক কোনো খেলোয়াড় নন (এমবাপ্পে)। দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়।’ তবে দুই গোলের লিড নষ্ট করায় রিয়ালের সমস্যাটাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন মরিনিও। ম্যাচ শেষ করার মতো একাধিক সুযোগ পেয়েও দল সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বলে জানান তিনি, ‘যেসব ম্যাচ দেখে মনে হয় সব শেষ, সেসব ম্যাচে আমরা তিন, চার, পাঁচটি সুযোগ পাই ম্যাচটা শেষ করে দেওয়ার। কিন্তু তা করি না।’ মরিনিও আরও যোগ করেন, ‘আমরা গোল করতে পারিনি, ৩ বা ৪-০ করে ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি। যখন বিষয়টা সহজ মনে হয়, তখনই আপনি এমন সুযোগ দিয়ে বসেন, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে এবং এমন সব স্টেডিয়ামে। ওরা একটি গোল করে এবং ম্যাচটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ভালো বিষয় হলো, কঠিন পরিস্থিতিতে দল প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং জিতে যায়।’

লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের হোঁচট

মৌসুমের দারুণ শুরুর পর হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে যোগ করা সময়ে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট ঠেকিয়ে দেন বেতিস গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। ফিরতি বলও ক্লিয়ার করে দেন মার্ক বার্ত্রা। তবে পেনাল্টি মিস বিতর্কের কেন্দ্রে নয়, বরং বার্ত্রার আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়া। রিয়াল সমর্থকদের দাবি, পেনাল্টি নেওয়ার আগে বার্ত্রা বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। ফিরতি বল থেকে এমবাপ্পেকে গোলের আরেকটি সুযোগ না দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি পুনরায় নেওয়া উচিত ছিল। ভিএআর পর্যালোচনার পর অবশ্য রেফারি পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেননি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, পেনাল্টি নেওয়ার আগে বার্ত্রা বক্সে ঢুকেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এমবাপ্পে শট নেওয়ার মুহূর্তে তার কোনো পা মাটিতে ছিল না। এ কারণেই সেটিকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে ধরা হয়নি। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি কিক নেওয়ার সময় অন্য খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট অবস্থান মেনে চলতে হয়। তবে কোনো খেলোয়াড় আগেভাগে বক্সে ঢুকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনাল্টি পুনরায় নিতে হবে, এমন নয়। ওই খেলোয়াড়ের অবস্থান ও পরবর্তী ঘটনায় তার প্রভাবও বিবেচনা করা হয়। তাই বার্ত্রার আগাম প্রবেশ থাকলেও, তার অবস্থানকে শাস্তিযোগ্য অনুপ্রবেশ হিসেবে না দেখায় এমবাপ্পেকে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই হারের ফলে রিয়ালের টানা তিন জয়ের শুরু থেমে গেল। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। ৩ ম্যাচে সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ম্যাচে রিয়াল একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। এমবাপ্পের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন নাতান ও বার্ত্রা, আরেকটি শট লাগে ক্রসবারে। ৮৭ মিনিটে কার্লোস এস্পির বাইসাইকেল কিক থেকে গোল হলেও অফসাইডের কারণে ভিএআরে সেটি বাতিল হয়। বেতিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ট্রয় পারট। ম্যাচ শেষ হওয়ার নয় মিনিট আগে নেলসন দেওসার হেড কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন পারট। হারের পর রেফারিং নিয়ে অভিযোগ করেননি রিয়াল কোচ হোসে মরিনিও। তার মতে, দল যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল এবং জয়ের যোগ্যও ছিল। তবে সুযোগ তৈরি করলেই যে জয় নিশ্চিত হয় না, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের হোঁচট

বিশ্বকাপের সেই এমবাপ্পে, এবার রিয়ালের জার্সিতে হ্যাটট্রিক

বিশ্বকাপের ফর্মটাই কিলিয়ান এমবাপ্পে টেনে এনেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও। নতুন মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাবের হয়েই করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও চান, এমবাপ্পে যেন তাঁর ক্ষুধার্ত মনোভাব ধরে রাখেন ক্লাবের জার্সিতেও।এমবাপ্পে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট করে রেকর্ড বই ওলট পালট করে দেন। গতকাল রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৪-১ গোলে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাঁর হ্যাটট্রিকে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়াদাদের বিপক্ষে। এমবাপ্পের প্রশংসা করতে গিয়ে মরিনিও তাঁর বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেছেন। সোসিয়াদাদকে হারানোর পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, ‘সে একজন ঐতিহাসিক খেলোয়াড়। বিশ্বকাপে তার রেকর্ড চিরকাল অমলিন থাকবে। রিয়াল মাদ্রিদেও ইতিহাস গড়তে সে ভীষণ ক্ষুধার্ত।’এমবাপ্পে গতকাল রিয়াল মাদ্রিদের তিন ফুটবলারের অবদানে যে তিনটি গোল করেছেন। ৪০ মিনিটে এমবাপ্পে ফেদেরিকো ভালভের্দের পাস রিসিভ করে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড ৬০ মিনিটে গোল করেন জুড বেলিংহামের অ্যাসিস্টে। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস রিসিভ করে ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে।মরিনিও শিষ্যদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে বারবার এমবাপ্পের কথাই বলেছেন। ৪-১ গোলে জয়ের পর রিয়াল কোচ বলেন, ‘খেলায় সে খুবই সক্রিয় থাকে। আপনি যখন এমন মানের (এলিট) খেলোয়াড়দের কোচিং করান, তখন তাদের কী করতে হবে, সেটা শেখানোর প্রয়োজন হয় না। পুরো দলকে একটি ইউনিট হিসেবে কোচিং করাতে হবে আপনাকে।’২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জেতেন এমবাপ্পে। গোলের পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। ২২ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন ফরাসি ফরোয়ার্ড। গতকাল রাতে রিয়াল সোসিয়াদাদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মরিনিও বলেন, ‘সে শুধু একজন গোলদাতা নয়। পুরো দলকে সুযোগ তৈরি করে দিতে অপেক্ষা করবে এবং তারপর শুধু গোল করবে—বিষয়টা এমনও নয়।’টানা দুইবার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতেন এমবাপ্পে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে করেছিলেন ৮ গোল। যার মধ্যে ছিল ফাইনালে হ্যাটট্রিকও। সেবার ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর জিতেছিল বিশ্বকাপ। আর সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে এমবাপ্পের দল হয়েছে চতুর্থ।রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও এমবাপ্পের সময়টা দারুণ যাচ্ছে। দুই বছরে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ১০৫ ম্যাচে ৮৯ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট রয়েছে ১২ গোলে। তবে ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬—তিনি আসার পর এই দুই মৌসুমে রিয়াল কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ মৌসুমে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ও তিনে থাকা রিয়াল বেতিস ও সেভিয়ারও পয়েন্ট ৬। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সবার ওপরে মরিনিওর রিয়াল।

বিশ্বকাপের সেই এমবাপ্পে, এবার রিয়ালের জার্সিতে হ্যাটট্রিক

ভিনিসিয়ুসকে আল্টিমেটাম দিল রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নতুন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে আল্টিমেটাম দিয়েছে রিয়াল। এর মধ্যেই ইনস্টাগ্রাম থেকে নিজের সব পোস্ট মুছে দিয়ে এবং কিছু সময়ের জন্য প্রোফাইল ছবিও সরিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভিনিসিয়ুস।ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সেটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়াতে চায়। এ নিয়ে বুধবার (৫ আগস্ট) ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান রক নেশনের বৈঠক হয়। বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে রাখতে আগের প্রস্তাব আরও উন্নত করেছে রিয়াল। নতুন প্রস্তাবে তাকে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো নেট বেতন এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।তবে ভিনিসিয়ুস বছরে প্রায় ৩ কোটি ইউরো আয় করতে চান। যদিও সাম্প্রতিক আলোচনায় নিজের সেই দাবিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস যুক্ত করার মাধ্যমে ব্যবধান কমানোর পথ খোলা রেখেছেন তিনি।চুক্তির আরেকটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নবায়ন বোনাস ও স্বত্ব থেকে পাওয়া আয়। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ ও ভিনিসিয়ুসের মধ্যে ছবিস্বত্বের আয় সমান ৫০ শতাংশ ভাগ হয়। নতুন চুক্তিতে নিজের অংশ আরও বাড়াতে চান ভিনিসিয়ুস। ফলে বেতন ছাড়াও এসব বিষয় এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এর মধ্যেই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সব পোস্ট মুছে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। চুক্তি নবায়ন নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় অনেকেই এর সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার যোগসূত্র খুঁজছেন।ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তাকে নিয়ে আগ্রহী ক্লাবগুলোর সংখ্যা বাড়তে পারে, এমন বাস্তবতা মাথায় রেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত চায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে দুই পক্ষে টানাপড়েনের সুযোগটা নিতে চাইছে আর্সেনাল। ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়াতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর্সেনালের ক্রীড়া পরিচালক আন্দ্রেয়া বের্তা ইতোমধ্যেই ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রিয়াল ও ভিনিসিয়ুসের আলোচনা যত দীর্ঘ হবে, ইংলিশ ক্লাবটির জন্য ততই সুযোগ তৈরি হবে।

ভিনিসিয়ুসকে আল্টিমেটাম দিল রিয়াল মাদ্রিদ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream