রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির দিনে তাঁর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ৩৫ টির বেশি দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ইউক্রেনকে নিজ দেশে ব্রিটিশ ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হবে। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমবিডিএকে ফরাসি ‘স্ক্যাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্য-সংশ্লিষ্ট উপাদান সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। স্ক্যাল্প মূলত স্টর্ম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের এবং ৫ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ মাইল বা ২৪১ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত স্থির লক্ষ্যবস্তুতে দিন বা রাত—সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সক্ষমতার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কম। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদের উন্নত অস্ত্রপ্রযুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ইউক্রেনীয় জনগণকে সরাসরি আশ্বস্ত করতে চান, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন। ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশায় রয়েছে। দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অন্যতম জরুরি প্রয়োজন। বার্নহ্যাম ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে প্রথম বৈঠক হয়েছিল। কিয়েভ সফরে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাইবার হামলায় অচল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র

যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।  এটিকে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের প্রথম ‘সফল’ সাইবার হামলা যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি গত মাসে চালানো হয়। হামলার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্মীরা টানা কাজ করে সেটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করেন। নিরাপত্তার কারণে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম প্রকাশ করেনি। হামলার শিকার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় চার দিন বন্ধ থাকলেও ব্রিটেনের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সাইবার হামলার সক্ষমতা নিয়ে এ ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবার অবকাঠামোও এ ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হামলাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সক্ষমতা প্রদর্শন বা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পানি সরবরাহ অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির ১২টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনা  এসব হামলার শিকার হয়।  ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এখনো হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে দায়ী করেননি। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে।

সাইবার হামলায় অচল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream